সৌদি আরবে তাঁর অধ্যায় কি শেষের পথে—এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 5 February 2026 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে নেই। নাম নেই ম্যাচডে স্কোয়াডে। আর তাতেই সৌদি আরবের ফুটবলপাড়া সরগরম। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এবার রীতিমতো ব্যঙ্গ-যুদ্ধে নেমে পড়লেন প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকেরা। আল নাসরের (Al Nassr) ১–০ স্কোরলাইনে জয়ের ম্যাচে রোনাল্ডো না খেলতেই সৌদি আরবের কয়েকটি রাস্তায় দেখা গেল ‘নিখোঁজ’ নোটিস। শ্লেষাত্মক বিজ্ঞপ্তিতে পর্তুগিজ তারকাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি আল হিলালের (Al Hilal) অনুরাগীরা।
কী লেখা সেই নোটিসে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টারগুলিতে রোনাল্ডোর ছবি দিয়ে লেখা—‘এই ৪০ বছরের মানুষটিকে খোঁজা হচ্ছে। অতিরিক্ত কান্নার সমস্যায় ভুগছেন!’ ব্যঙ্গের সুর এতটাই তীব্র, যে অনেকেই একে নিছক ‘রসিকতা’ না বলে ‘অসম্মানজনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন। যদিও এই নোটিস আদৌ সত্যি না কি শুধুই অনলাইন ট্রোলিং—তা নিয়ে বিতর্ক জোরদার!
কেন খেলেননি রোনাল্ডো?
আল নাসেরের ম্যাচে রোনাল্ডোর অনুপস্থিতির কোনও সরকারি ব্যাখ্যা ক্লাবের তরফে দেওয়া হয়নি। তবে সৌদি মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্লাবের খেলোয়াড় কেনাবেচার নীতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি। বিশেষ করে জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে আল নাসরের কার্যকলাপ তাঁকে হতাশ করেছে বলে খবর। রোনাল্ডোর ধারণা, পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড-নিয়ন্ত্রিত (Public Investment Fund) অন্য ক্লাব—আল হিলাল, আল আহলি (Al Ahli) বা আল ইত্তিহাদ (Al Ittihad)—যে আর্থিক সমর্থন পাচ্ছে, আল নাসেরের কপালে তা জুটছে না।
বেঞ্জিমা এলেন, নাসেরের ঘর ফাঁকা
অসন্তোষের আগুনে ঘি ঢালে আল হিলালের ট্রান্সফার। তারা দলে নিয়েছে করিম বেঞ্জিমার (Karim Benzema) মতো তারকাকে। সেখানে আল নাসেরের জানুয়ারির একমাত্র সংযোজন তরুণ ইরাকি মিডফিল্ডার হায়দার আবদুলকরিম (Hayder Abdulkareem)। ট্রফি জেতার খিদে যাঁর এখনও তুঙ্গে, সেই রোনাল্ডোর কাছে এমন বৈষম্য যথেষ্ট গুরুতর ইস্যু। এই মুহূর্তে লিগ টেবিলে আল হিলাল এগিয়ে মাত্র এক পয়েন্টে। রোনাল্ডো চাইছিলেন, শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে অন্তত সৌদি প্রো লিগের (Saudi Pro League) খেতাবের লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা পেতে।
ক্লাব বনাম তারকা—দুই ব্যাখ্যা
সৌদি ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য অবশ্য আলাদা। তাঁদের দাবি, পিআইএফ নিয়ন্ত্রিত সব ক্লাবই সমান তহবিল পায়। আল নাসেরের জানুয়ারির নীরবতা আসলে আগেই এই মরশুমে প্রায় ১০ কোটি পাউন্ড খরচ হয়ে যাওয়া এবং টেকসই আর্থিক নীতির ফলশ্রুতি। তাদের মতে, দিনে প্রায় পাঁচ লক্ষ পাউন্ড মূল্যের চুক্তিতে খেলছেন রোনাল্ডো—এত কিছুর পরেও অসন্তোষ বিস্ময়কর!
ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন
রোনাল্ডোর চুক্তিতে রয়েছে ৫ কোটি ইউরোর সামার রিলিজ ক্লজ। বয়স ৪১ ছুঁইছুঁই, চুক্তির মেয়াদ বাকি ১৮ মাস। তাই সৌদি আরবে তাঁর অধ্যায় কি শেষের পথে—এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। কর্তারা জানাচ্ছেন, কিছুই বদলায়নি। কিন্তু মাঠের বাইরে রোনাল্ডোর আচরণ যত জটিল হচ্ছে, তত ঘনীভূত জল্পনা। সৌদি প্রো লিগে রোনাল্ডোর শেষ অধ্যায় কি তবে নিঃশব্দেই লেখা হয়ে চলেছে? প্রশ্ন শুধু আগামী ম্যাচে তিনি খেলবেন কি না, তা নয়—আরও গূঢ় ও ইঙ্গিতপূর্ণ।