মোহনবাগানে খেললেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পাওয়া যায়। ট্রফি পাওয়া যায়। স্বপ্ন ছোঁয়া যায়।

অভিষেক সিং
শেষ আপডেট: 24 July 2025 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবেশী ক্লাব আগেই দল গোছাতে শুরু করে দিয়েছে। সেই নিয়ে কিছুটা হলেও ক্ষোভ ছিল মোহনবাগান (Mohunbagan) সমর্থকদের। ইস্টবেঙ্গল যখন একের পর এক ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করে চলেছে, তখন বলতে গেলে হাত গুটিয়েই বসে ছিল গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাব। অবশেষে দেশের অন্যতম সেরা প্রতিভার সঙ্গে চুক্তি (New Recruit) করল মোহনবাগান।
হোসে মোলিনার দলের শক্তি বাড়াতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন দেশের অন্যতম সেরা ফুটবল প্রতিভা টেকচাম অভিষেক সিং (Abhisekh Singh)। জাতীয় দলের জার্সিতে এবং ক্লাব ফুটবলে মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই নজর কেড়েছেন মণিপুরের এই ফুটবলার। এবার তাঁর সঙ্গে চার বছরের চুক্তি হল মেরিনার্সের।
দু’দিন আগেই শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা দিতে তিলোত্তমায় এসেছেন তিনি। সেই পরীক্ষায় পাস করার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে চুক্তিবদ্ধ হলেন সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের সঙ্গে। আজ বিকেলেই দলের প্রাক মরশুম অনুশীলনে নেমে পড়বেন তিনি। এদিন বিকেলে মোহনবাগানের ফুটবলাররা সল্টলেক নিউটাউনের সেন্টার ফর এক্সেলেন্সের মাঠে প্রস্তুতিতে নামছেন। দলের হেড স্যার মোলিনা এখনও কলকাতায় পা দেননি। তাই সহকারী কোচ বাস্তব রায়ের তত্ত্বাবধানে লিস্টন কোলাসো, অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিং, বিশাল কাইথদের সঙ্গে ক্লাবের নতুন অনুশীলন জার্সি পরে নামবেন অভিষেক।
অভিষেকের সুবিধা তিনি লেফট এবং রাইট ব্যাক দুই পজিশনেই খেলতে পারেন। উইং-এও খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। গত মরশুমের লিগ-শিল্ড জয়ী দলে যোগ দেওয়ার পর অভিষেক বললেন, “আমার কাছে দেশের অনেক নামী ক্লাবে খেলার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু সব প্রস্তাব দূরে সরিয়ে রেখে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে যোগ দেওয়ার কারণ হল এই ক্লাবকে দেশের এক নম্বর বলে আমি মনে করি। মোহনবাগানে খেললেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পাওয়া যায়। ট্রফি পাওয়া যায়। স্বপ্ন ছোঁয়া যায়। সবুজ-মেরুন জার্সির ট্রফি জয়ের ধারাবাহিকতা আমাকে এখানে টেনে এনেছে। এই ক্লাব দল গড়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। আমারও ইচ্ছে এই ক্লাবের জার্সি পরে ট্রফি জেতা।”
গঙ্গা পাড়ের ক্লাবে যোগদান করার পর উচ্ছ্বসিত অভিষেক আরও বলেন, “পাঞ্জাবের জার্সিতে আই লিগ ট্রফি জিতেছি। কিন্তু দেশের সেরা প্রতিযোগিতা আইএসএল লিগ বা শিল্ড কখনও জিতিনি। আশা করি মোহনবাগান জার্সিতে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারব। দেশের অনেক তারকা ফুটবলার এখানে খেলে। ওদের সঙ্গে খেললে বা অনুশীলন করলে আমি উপকৃত হব। ওদের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সেরাটা দেওয়াই এখন আমার লক্ষ্য। ভারতীয় দলের হয়ে খেললেও এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপে কখনও খেলিনি। সেই স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আমি নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। ভারতীয় ফুটবলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সমর্থক সংখ্যা সবথেকে বেশি। ক্লাবের প্রচুর ফ্যানস ক্লাব আছে বলে শুনেছি। যাঁরা মাঠে এসে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দলকে নানাভাবে সাহায্য করেন। সেগুলি আমি দেখেছি। আর দেখেছি ডার্বির উন্মাদনা। এতদিন সবকিছুই দেখেছি মোবাইলে বা ল্যাপটপে অথবা টিভিতে। এবার মাঠে সেই উত্তেজনা দেখতে পাব এবং উপভোগ করব। ইতিমধ্যেই প্রচুর ফ্যানস আমার সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগও করেছেন। তাঁদের কথা দিচ্ছি, আমি আপনাদের ইচ্ছাপূরণের চেষ্টা করব।”