মেসির যুক্তি স্পষ্ট। তিনি চান নিজের হাতে একটা ক্লাব গড়ে তুলতে—একেবারে নিচের স্তর থেকে। ছোটদের সুযোগ দিতে, কাঠামো বানাতে, ধাপে ধাপে সেটাকে বড় ক্লাবে রূপান্তরিত করতে।

লিওনেল মেসি
শেষ আপডেট: 8 January 2026 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচিং নয়। টাচলাইনের ধারে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি, ট্যাকটিক্যাল বোর্ড—এসব তাঁর ভবিষ্যৎ নয়। অবসরের পর নিজের ভূমিকা নিয়ে একদম সোজাসাপ্টা জবাব দিলেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। ফুটবল ছাড়ার পর তিনি নিজেকে দেখতে চান ক্লাব-মালিক হিসেবে—ম্যানেজমেন্টের ভূমিকায়, সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে।
কোচ নন, মালিক হওয়াই প্রথম পছন্দ
একটি আর্জেন্তিনীয় স্ট্রিমিং চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির বক্তব্য পরিষ্কার। তাঁর কথায়, ‘আমি নিজেকে কোচ হিসেবে দেখি না। ম্যানেজমেন্ট ভালো লাগে। কিন্তু যদি তিনটির মধ্যে একটা বেছে নিতে হয়, আমি ক্লাবের মালিক হতে চাই!’
মেসির যুক্তি স্পষ্ট। তিনি চান নিজের হাতে একটা ক্লাব গড়ে তুলতে—একেবারে নিচের স্তর থেকে। ছোটদের সুযোগ দিতে, কাঠামো বানাতে, ধাপে ধাপে সেটাকে বড় ক্লাবে রূপান্তরিত করতে। তাঁর ভাষায়, ‘শুধু খেলানো নয়, মানুষ তৈরি করাটাই আমাকে বেশি টানে।’কোনও আবেগ নেই, নেই নস্টালজিয়াও। এটা একটা পরিকল্পনা। মাঠে খেলতে নেমে যিনি সিদ্ধান্ত নেন সেকেন্ডের ভেতরে, মাঠের বাইরে তিনি গড়ে তুলতে চান প্রজন্মের বনিয়াদ।
খেলোয়াড় হিসেবে শেষ অধ্যায়, চোখ ভবিষ্যতে
বর্তমানে মেসি খেলছেন ইন্টার মায়ামির (Inter Miami) হয়ে, মেজর লিগ সকারে (Major League Soccer)। তিন বছরের চুক্তি নবীকরণের পর বোঝাই যাচ্ছে ২০২৮ মরশুম পর্যন্ত তাঁকে দেখা যাবে এই ক্লাবে। বাস্তবে এটাই তাঁর শেষ পেশাদার চুক্তি।
খেলোয়াড় হিসেবে মেসির ‘টু-ডু লিস্ট’ প্রায় ফাঁকা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে সেই শেষ বড় বাক্সে টিক দিয়ে ফেলেছেন। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপারক্ষার চ্যালেঞ্জ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় (USA, Mexico, Canada)। তারপর? ভাবনা আর খেলোয়াড়ি কেরিয়ারের নয়। মেসির কথাবার্তায় সাফ মালুম হচ্ছে, তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে আবছা স্বপ্ন দেখতে নারাজ। খুব হিসেবি কায়দায় পরের ধাপ সাজাচ্ছেন।
অঙ্ক কষা শুরু
আসলে মেসির ‘ক্লাব মালিক’ হওয়ার স্বপ্ন নতুন নয়। তিনি ইতিমধ্যেই উরুগুয়ের চতুর্থ ডিভিশনের ক্লাব ডেপোর্তিভো এলএসএমের (Deportivo LSM) আংশিক মালিক। ক্লাব চালাচ্ছেন দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের (Luis Suarez) সঙ্গে যৌথভাবে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে এখন তিন হাজারের বেশি সদস্য। লক্ষ্য একটাই—স্থানীয় ছেলেমেয়েদের সুযোগ তৈরি করা। সুয়ারেজ নিজেই জানিয়েছেন, এটা পারিবারিক স্বপ্ন।
এখানেই শেষ নয়। মেসির ইন্টার মায়ামি চুক্তিতেও ভবিষ্যৎ মালিকানার ধারা রয়েছে। অর্থাৎ, অবসরের পর তিনি শুধু কিংবদন্তি হিসেবে থাকবেন না—সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরিখে ফুটবল ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেই ঘোরাফেরা করবেন। এক কথায় বললে, মেসির ভবিষ্যৎ কোচিং বেঞ্চে নয়। বোর্ডরুমে। যেখানে গোল নয়, বিনিয়োগ, কাঠামো আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই খেতাব জেতায়।