ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানও অনেক ম্যাচ বড় ব্যবধানে হেরেছে। সেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতিহাসও রচনা করেছে। জীবনে ব্যর্থতা আসবেই, তবে সেই ব্যর্থতাকে করতে হবে শক্তির হাতিয়ার। একটা হারেই সব শেষ হয়নি।

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 22 August 2025 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জন্ম নেওয়ার তিন বছরের মধ্যেই ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্রে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbour FC)। আত্মপ্রকাশের পরই পরপর আই-লিগ তৃতীয় ডিভিশন ও দ্বিতীয় ডিভিশন জিতে আই-লিগের মূল পর্বে উঠে সকলকে চমকে দিয়েছিল। পাশাপাশি কলকাতা ফুটবল লিগের প্রথম ডিভিশনে আত্মপ্রকাশ করেই প্রথম বছরে হয় চ্যাম্পিয়ন। গত মরশুমে তারা প্রিমিয়ার ডিভিশনে দুরন্ত পারফর্ম করে প্রথম দুই দলের মধ্যে স্থান করে নেয়। যদিও গতবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়নি। বল রয়েছে আদালতে।
এবার আই-লিগ প্রথম ডিভিশন খেলবে ডায়মন্ড হারবার এফসি। তার আগে তারা নেমেছিল ডুরান্ড কাপে। আর ডুরান্ড অভিষেকেই বাজিমাৎ। আর একটা ম্যাচ জিতলেই ডুরান্ড কাপ (Durand Cup) পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন। শনিবার যুবভারতীতে গতবারের চ্যাম্পিয়ন নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডকে হারাতে পারলেই ডুরান্ড কাপ ঢুকে পড়বে ডায়মন্ড হারবার এফসির ক্যাবিনেটে।
ডুরান্ডের ফাইনালে ওঠার পথে ডায়মন্ড হারবার হারিয়েছে তিনটি আইএসএল ক্লাবকে। প্রথমে গ্রুপ পর্বে হারায় মহামেডানকে, এরপর শেষ আটে তাদের কাছে পরাজিত হয় জামশেদপুর এফসি। আর সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে তো সকলকে চমকেই দিয়েছে কিবু ভিকুনার ছেলেরা।
তবে গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের (Mohunbagan Match) কাছে পাঁচ গোল খেয়েছিল ডায়মন্ড হারবার। আর তার পর দলের ফুটবলাররা বেশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে দলের কর্ণধার আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় (সম্পর্কে ডায়মন্ড হারবার লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ভাই) জানিয়েছেন, “পাঁচ গোল খাওয়ার মতো দল আমরা নই, বুঝতে পারছিলাম না কী ভাবে হল। এই সময় দাদা (অভিষেক) ফোন করে বলল, কোচ কিবু ভিকুনা যে হোটেলে থাকেন, সেখানে যেন দলের কোচ, ফুটবলার এমনকি জুনিয়র ফুটবলারদেরও ডিনারে ডাকা হয়।”
আকাশ জানান, “এরপর ডিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে সবার উপস্থিতিতে শোনানো হয় দাদার পাঠানো একটি অডিও। দাদা সেখানে তাঁর জীবনের নানা উত্থান-পতনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানও অনেক ম্যাচ বড় ব্যবধানে হেরেছে। সেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতিহাসও রচনা করেছে। জীবনে ব্যর্থতা আসবেই, তবে সেই ব্যর্থতাকে করতে হবে শক্তির হাতিয়ার। একটা হারেই সব শেষ হয়নি। এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।”
দলের চিফ প্যাট্রন অভিষেকের এই অডিও শোনার পরই গোটা দল উজ্জীবীত হয়ে ওঠে। পরপর হারায় দুই আইএসএল ক্লাব জামশেদপুর ও ইস্টবেঙ্গলকে। এবার বাকি শেষ ল্যাপ। শনিবাসরীয় যুবভারতীতে জন আব্রাহামের নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডকে হারালেই ডুরান্ড কাপ ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন ডায়মন্ড হারবার এফসি।