বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স ইতিমধ্যেই মহিলা অ্যাথলেটদের জন্য একবারের বাধ্যতামূলক ক্রোমোজোম পরীক্ষা চালু করেছে।

শেষ আপডেট: 22 August 2025 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের বিশ্ব মহিলা বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে হলে এবার সব প্রতিযোগীকেই বাধ্যতামূলকভাবে লিঙ্গ পরীক্ষার (sex determination) মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্ব বক্সিং কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিল, লিভারপুলে আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে আয়োজিত প্রতিযোগিতার আগে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করাতেই হবে। যার অর্থ বড় ধাক্কা খেতে চলেছেন ইমান খেলিফ।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিযোগীদের জেনেটিক স্ক্রিনিং বা পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (PCR) টেস্ট করা হবে। এর মাধ্যমে শরীরে Y ক্রোমোজোম আছে কিনা, সেটাই নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, জন্মসূত্রে প্রতিযোগীর জৈবিক লিঙ্গ কী, সেটিই হবে চূড়ান্ত মানদণ্ড। জাতীয় ফেডারেশনগুলিকেই এই পরীক্ষা সম্পন্ন করে ফল জমা দিতে হবে।
বিশ্ব বক্সিং-এর সভাপতি বোরিস ভ্যান ডের ভোরস্ট বলেছেন,“আমরা প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা করি এবং যতটা সম্ভব সবাইকে রাখতে চাই। কিন্তু বক্সিংয়ের মতো একটি কমব্যাট খেলায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।” অর্থাৎ খেলোয়াড়দের সুরক্ষা এবং প্রতিযোগিতার ভারসাম্যই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলে সংস্থা জানিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, কারা প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যাবে?
যাঁদের মধ্যে Y ক্রোমোজোম পাওয়া যাবে, তাঁদের সরাসরি মহিলাদের বিভাগ থেকে বাদ দেওয়া হবে না। তবে পুরুষ হরমোন দ্বারা প্রভাবিত যৌন বিকাশের (DSD) ঘটনা ধরা পড়লে, সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদকে শুধুমাত্র পুরুষদের বিভাগেই অংশ নিতে হবে। হরমোন প্রোফাইলিং, শারীরবৃত্তীয় পরীক্ষা ও অন্তঃস্রাব বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আপিল করার সুযোগও থাকছে।
এই সিদ্ধান্ত কেবল বক্সিং নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স ইতিমধ্যেই মহিলা অ্যাথলেটদের জন্য একবারের বাধ্যতামূলক ক্রোমোজোম পরীক্ষা চালু করেছে।
এর ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারেন আলজেরিয়ার অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ইমান খেলিফ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করেছেন, জন্মসূত্রে তিনি নারী এবং প্রায় এক দশক ধরে মহিলাদের বিভাগে লড়াই করে আসছেন। কিন্তু তাঁর লিঙ্গ নিয়ে বিতর্ক বারবার মাথাচাড়া দিয়েছে।
গত জুনে নেদারল্যান্ডসে একটি প্রতিযোগিতায় নাম না লেখানোর পর থেকেই বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। কারণ তার আগেই বিশ্ব বক্সিং প্রধান তাঁর নাম উল্লেখ করেছিলেন, যা পরে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। ফলে খেলিফের কেরিয়ার ও মানসিক অবস্থায় এই নীতি বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু খেলিফ নন, তাইওয়ানের অলিম্পিক সোনাজয়ী লিন ইউ-টিং-ও প্যারিস অলিম্পিকের সময় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। ফলে, আন্তর্জাতিক মহিলা খেলাধুলায় লিঙ্গ পরীক্ষার বৈধতা, মর্যাদা ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হল।