টানা তিনবার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ ইতালি ফুটবল। পদ ছাড়লেন ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা এবং কিংবদন্তি জিয়ানলুইজি বুফোঁ। চাপে কোচ জেনারো গাত্তুসো। আজুরি ফুটবলের এক মহা বিপর্যয়ের বিবরণ পড়ুন।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 3 April 2026 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক ব্যর্থতা। বিশ্বকাপে টানা তিনবার না-খেলা। চাপটা যে কোথায় গিয়ে ঠেকেছিল, বোঝা গেল একের পর এক সিদ্ধান্তে। ইতালির ফুটবলে যে নজিরবিহীন ভোলবদলের পথে হাঁটতে চলেছে, ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েলে গ্রাভিনার (Gabriele Gravina) পদ ছাড়ার ঘোষণা ও কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফোঁর (Gianluigi Buffon) ইস্তফাপত্রে ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থতার পরই এই জোড়া পদত্যাগ। বোঝা যাচ্ছে, ইতালির ফুটবল এখন রূপান্তরের মুখে।
বসনিয়া ও হারজেগোভিনার (Bosnia vs Italy) বিরুদ্ধে প্লে-অফ ফাইনালে হারের পরই সবকিছু দ্রুত বদলে যায়। পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া। যার জেরে টানা তিনবার বিশ্বকাপে না-খেলা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আজুরিদের কাছে যা অভাবনীয়!
এর জেরে বসনিয়া-বিপর্যয়ের দু’দিনের মধ্যেই ইস্তফা দিলেন গ্রাভিনা। ২০১৮ সাল থেকে দায়িত্বে। ২০২২ সালে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ ইতালি। তারপরও গ্রাভিনার ঘাড়ে কোপ নামেনি, টিকে যান। কিন্তু এবার আর শেষরক্ষা হল না। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদির (Andrea Abodi) কথায়, ‘ইতালির ফুটবলকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই কাজ শুরু হওয়া উচিত নতুন নেতৃত্ব দিয়ে!’ প্রসঙ্গত, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে—২২ জুন।
শুধু প্রশাসনিক প্রধানই নন, দলীয় কাঠামোতেও বদল। জিয়ানলুইজি বুফোঁ, ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য, তিনিও পদ ছাড়লেন। ২০২৩ সাল থেকে প্রাক্তন গোলরক্ষক ছিলেন ফেডারেশনের ‘হেড অব ডেলিগেশন’। ১৭৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বুফোঁর সরে যাওয়া ‘প্রতীকী’ নিরিখে বড় ধাক্কা। এর অর্থ একটাই: পুরনো কাঠামো ভেঙে নতুন করে ভাবনাচিন্তার পাট শুরু হতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে নজর এখন কোচ জেনারো গাত্তুসোর (Gennaro Gattuso) দিকে। যদিও ফেডারেশন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কিছু জানায়নি। পরাজয়ের পর নিজেই ক্ষমা চেয়েছেন। গাত্তুসো বলেন, ‘আমাদের এটা (বিশ্বকাপে খেলা) দরকার ছিল… দেশের জন্য, নিজেদের জন্য। এই ধাক্কা মেনে নেওয়া কঠিন।’যদিও স্বপ্নভঙ্গ সত্ত্বেও টিমের খেলোয়াড়দের ‘বীর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ইতালির গ্রাফ নামছে। ক্লাব ফুটবলেও পিছিয়ে পড়ার ছবি স্পষ্ট। সব মিলিয়ে পরিষ্কার বার্তা—আজুরি বাহিনী ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। বিগত সাফল্যের স্মৃতি নয়, এবার প্রয়োজন নতুন কাঠামো, নতুন ভাবনা, নতুন নেতৃত্ব।