আইএসএল নিয়ে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা কেটেছে। যদিও ফি, ফরম্যাট আর আর্থিক কাঠামো—এই তিন প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি মেলেনি।

সুনীল ছেত্রী
শেষ আপডেট: 4 January 2026 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা, জল্পনা আর আর্থিক টানাপড়েনের পর অবশেষে স্পষ্ট বার্তা এল, মিলল দিশা। ২০২৫–২৬ মরশুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (Indian Super League) চালু হচ্ছে। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (All India Football Federation) নিশ্চিত করেছে, আইএসএল শুরু করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। তারিখ ঘোষণা হবে আগামী সপ্তাহে।
মাস্টার রাইটস চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার ইতি টানতেই এই সিদ্ধান্ত। এআইএফএফের এমার্জেন্সি কমিটি আইএসএল–এআইএফএফ কো-অর্ডিনেশন কমিটির রিপোর্ট খতিয়ে দেখে লিগ আয়োজনের ছাড়পত্র দিয়েছে।
কেন এত দেরি?
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আগের বাণিজ্যিক স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে মাস্টার রাইটস অ্যাগ্রিমেন্ট শেষ হয়ে যায়। তারপর থেকেই আইএসএলের ভবিষ্যৎ ঝুলে। সম্প্রচার, উৎপাদন খরচ, ক্লাব ফি—সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে এআইএফএফ একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করে। তাদের রিপোর্ট জমা পড়ে ২ জানুয়ারি। যা পর্যালোচনা করেই এমার্জেন্সি কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়—লিগ এভাবে আর ফেলে রাখা যাবে না। কমিটির সুপারিশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতা শুরুর তারিখ অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে। কোনও ক্লাব যদি অংশ নিতে অস্বীকার করে, তাহলে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে নিচের ডিভিশনে নামিয়ে দেওয়া হবে।
খরচ, ফি ও পরিচালনা: কার কাঁধে কোন দায়িত্ব?
সুপারিশ অনুযায়ী, রেফারির খরচ এবং সম্প্রচার প্রোডাকশনের দায়িত্ব নেবে এআইএফএফ। ক্লাবগুলো আগের মতোই নিজেদের হোম ম্যাচ আয়োজন করবে। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি দলকে ১ কোটি টাকা করে অংশগ্রহণ ফি দিতে হবে। যদিও এই ফি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মুলতুবি রাখার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এআইএফএফ এই মরশুমে কিছু অপারেশনাল খরচে সহায়তাও করতে পারে।
১ জানুয়ারি, ১৪টি ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাব জানায়—যদি অংশগ্রহণ ফি না দিতে হয় এবং লিগ আয়োজনের আর্থিক দায়িত্ব এআইএফএফ নেয়, তাহলে তারা খেলতে রাজি। পাশাপাশি তারা চেয়েছে, লিগের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ—নতুন বাণিজ্যিক পার্টনার, সম্প্রচারকারী নিয়োগ এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার সময়সীমা—স্পষ্ট করে জানানো হোক। কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কথাও উঠে এসেছে।
ফরম্যাট এখনও চূড়ান্ত নয়
যদিও এত আশার মধ্যে বড় রাশা বলতে একটাই: লিগ ফরম্যাট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এআইএফএফ দুটি বিকল্প ভাবছে—হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে সিঙ্গল-লিগ অথবা সেন্ট্রালাইজড ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন। যদি সব ১৪টি দল খেলে, তাহলে প্রত্যেকে আনুমানিক ১৩টি ম্যাচ পেতে পারে। ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ফরম্যাট ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। তবে ঐকমত্য না হলে, দেরি এড়াতে, এআইএফএফ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। ফরম্যাট চূড়ান্ত হওয়ার পর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (Asian Football Confederation) কাছে ২৪ ম্যাচের নিয়ম থেকে ছাড় চাওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, আইএসএল নিয়ে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা কেটেছে। যদিও ফি, ফরম্যাট আর আর্থিক কাঠামো—এই তিন প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি মেলেনি। লিগ শুরু হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু টিকে থাকার লড়াই যে এখানেই শেষ নয়, সেটাও পরিষ্কার।