ক্লাবগুলো জানিয়েছে, তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং ৩ জানুয়ারি সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠকেও রাজি। বার্তা সোজা—খেলতে আপত্তি নেই।

আইএসএল
শেষ আপডেট: 2 January 2026 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর অবশেষে আশার আলো! আইএসএল (Indian Super League) নিয়ে মুখ খুলল লিগের ১৪টির মধ্যে ১৩টি ক্লাব। যারা একসঙ্গে জানিয়ে দিল—লিগ খেলতে রাজি, কিন্তু আগে দুটি স্পষ্ট শর্ত মানতে হবে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন-কে।
চিঠিতে কী লেখা?
বৃহস্পতিবার স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি-র সিইও ধ্রুব সুদের সই করা একটি চিঠি এআইএফএফ-এর কাছে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ১৩টি আইএসএল ক্লাবের সম্মিলিত অবস্থান স্পষ্ট করে লেখা। বলা হয়েছে, তারা ‘খেলতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক’—তবে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে।
এই চিঠি এসেছে এআইএফএফ-এর আগের এক নির্দেশের জবাবে। বুধবার ফেডারেশন ক্লাবগুলিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তাবিত ফরম্যাট মেনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বলেছিল। তারই পাল্টা উত্তর এই যৌথ অবস্থান।
প্রথম শর্ত: কোনও পার্টিসিপেশন ফি নয়
ক্লাবগুলোর প্রথম ও প্রধান দাবি—২০২৫–২৬ মরশুমে কোনও অংশগ্রহণ ফি নেওয়া যাবে না। যুক্তি পরিষ্কার। এই মরশুমে প্রস্তাবিত ফরম্যাট ‘ট্রাঙ্কেটেড’ বা সংক্ষিপ্ত। তার উপর এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত বাণিজ্যিক অংশীদার বা সম্প্রচারকারী নেই। ফলে এহেন পরিস্থিতিতে ক্লাবগুলোর উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপানো ‘অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’—এই মত সামনে রাখা হয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ, ২০২৫ সালের জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইনের (National Sports Governance Act, 2025) মূল ভাবনার সঙ্গে তাদের দাবি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দ্বিতীয় শর্ত: পুরো আর্থিক দায়িত্ব এআইএফএফের
এই শর্ত আরও স্পষ্ট। যতদিন না আইএসএলের কোনও বাণিজ্যিক অংশীদার বা সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত হচ্ছে, ততদিন লিগ পরিচালনার যাবতীয় খরচ এআইএফএফকেই বহন করতে হবে। ক্লাবগুলো জানিয়েছে, তারা নিজেদের দল-সংক্রান্ত ও দৈনন্দিন অপারেশনাল খরচ দেবে। কিন্তু লিগ স্তরের আয়োজন, পরিচালনা, লজিস্টিক—এসবের জন্য তারা ‘ওপেন-এন্ডেড’আর্থিক ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপের দাবি
দুটি শর্তের পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ এসেছে। ১৩টি ক্লাবই চায়, এআইএফএফ একটি স্পষ্ট, সময়বদ্ধ রোডম্যাপ দিক—যেখানে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কাঠামো ও লিগের শাসনব্যবস্থা পরিষ্কারভাবে বলা থাকবে। পাশাপাশি, বর্তমান ‘ব্যতিক্রমী ও অন্তর্বর্তী’ পরিস্থিতিতে লিগ চালু রাখতে ভারত সরকারের কাছ থেকে আর্থিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা চাওয়ার কথাও বলা হয়েছে ফেডারেশনকে।
কারা সই করেছে, কারা করেনি?
এই যৌথ চিঠিতে সই রয়েছে—মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল, কেরালা ব্লাস্টার্স, এফসি গোয়া, বেঙ্গালুরু এফসি, মুম্বই সিটি এফসি, চেন্নাইয়িন এফসি, মহমেডান স্পোর্টিং, পাঞ্জাব এফসি, ইন্টার কাশী, নর্থইস্ট ইউনাইটেড, ওডিশা এফসি ও স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির। একমাত্র অনড় ক্লাব—জামশেদপুর এফসি।
বল কার হাতে?
এই অবস্থায় পরিষ্কার, আইএসএল মরশুম শুরু হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে এআইএফএফ কী সিদ্ধান্ত নেয় তার উপর। ক্লাবগুলো জানিয়েছে, তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং ৩ জানুয়ারি সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠকেও রাজি। বার্তা সোজা—খেলতে আপত্তি নেই। কিন্তু খরচের দায় আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা একা বইতে রাজি নয় ক্লাবগুলো। এখন দেখার, ফেডারেশন এই দুই শর্তে সবুজ সংকেত দেয় কি না।