আইএসএল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কাটল। এএফসি-র স্বীকৃতি মানে লিগের অস্তিত্ব ও কাঠামো আন্তর্জাতিক মান্যতালাভ।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 16 January 2026 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে খানিকটা স্বস্তিতে ভারতীয় ফুটবল। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ২০২৫–২৬ মরশুমের সংক্ষিপ্ত ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে সেই স্বীকৃতির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে কড়া শর্ত। এই সিজনে আইএসএল এবং সুপার কাপ জয়ী দল সরাসরি নয়, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে (AFC Champions League 2) ঢুকবে ‘ইনডাইরেক্ট স্লট’ বা জোনাল কোয়ালিফায়ারের মাধ্যমে।
কেন সরাসরি সুযোগ মিলল না?
সমস্যার মূলে সূচি। লিগ শুরু হতে দেরি হওয়ায় ম্যাচ সংখ্যা কমাতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকেরা। এএফসি-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দেশের ক্লাবকে সরাসরি মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় খেলতে হলে লিগ ও কাপ মিলিয়ে অন্তত ২৪টি ম্যাচ খেলতে হয়। কিন্তু ২০২৫–২৬ আইএসএলে বেশিরভাগ দল খেলবে মাত্র ১৬টি ম্যাচ—১৩টি লিগ ম্যাচ ও ন্যূনতম তিনটি সুপার কাপ ম্যাচ। এই কারণেই হাতে এল না সরাসরি টিকিট।
১৫ জানুয়ারি এএফসি-র পাঠানো চিঠিতে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও সদস্য সংস্থা যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য নির্ধারিত সরাসরি স্লট ‘ইনডাইরেক্ট স্লটে’ রূপান্তরিত হবে। অর্থাৎ, যেখানে আগে অঙ্ক ছিল ‘২+১’, সেখানে সমীকরণ বদলে কার্যত ‘০+৩’।
এআইএফএফের আবেদন, এএফসি অনড়
এই সিদ্ধান্তের আগে অবশ্য চেষ্টা কম করেনি এআইএফএফ। আইএসএল ক্লাবগুলোর অনুরোধে ফেডারেশন এএফসি-র কাছে একবারের জন্য ছাড় চেয়েছিল। এম. সত্যনারায়ণ, এআইএফএফের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, চিঠিতে জানান—ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে যদি ১৬টি ম্যাচকেই ‘যথেষ্ট’ ধরা হয়, তাহলে ভারতীয় ক্লাবগুলোর পক্ষে মহাদেশীয় মঞ্চে টিকে থাকা সহজ হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ ছিল, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আইএসএল এবং অক্টোবরে আয়োজিত সুপার কাপ—এই দু’টি মিলিয়েই যেন যোগ্যতা বিচার করা হয়। কিন্তু এএফসি জানিয়ে দেয়, এই মরশুমে নিয়মে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
লিগ বাঁচল, কিন্তু মর্যাদা?
সব মিলিয়ে ছবিটা দ্বিমুখী। একদিকে, আইএসএল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কাটল। এএফসি-র স্বীকৃতি মানে লিগের অস্তিত্ব ও কাঠামো আন্তর্জাতিক মান্যতালাভ। অন্যদিকে, সরাসরি এশিয়ার মঞ্চে যাওয়ার দরজা বন্ধ থাকায় আইএসএল ও সুপার কাপের মান খানিকটা হলেও কমল। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা ২০২৫–২৬ আইএসএলে খেলবে ১৪টি দল। মোট ম্যাচ ৯১টি, প্রত্যেকে খেলবে ১৩টি করে। দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অচলাবস্থার পরে এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেই আপাতত এগোতে হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলকে।
এএফএফ ইতিমধ্যে ক্লাবগুলোর কাছে ভেন্যু ও সম্প্রচার সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিন্তু বড় প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—এই ‘সারভাইভাল সিজন’কি ভবিষ্যতে আবার পূর্ণাঙ্গ আইএসএলের রাস্তা খুলে দেবে? নাকি ভারতীয় ক্লাব ফুটবলকে আরও কিছুদিন এশিয়ার দরজায় ঘুরপথেই ঘোরাফেরা করতে হবে?