বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কোনও দল নেই যারা নির্দিষ্ট ভেন্যুতে না খেলে আলাদা জায়গায় ম্যাচ খেলেছে। ইরানের দাবি মানা হলে নজিরবিহীন ঘটনা হবে। না মানা হলে ইরানের বিশ্বকাপে থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হবে।

ইরান ফুটবল টিম
শেষ আপডেট: 19 March 2026 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ক্রিপ্ট হুবহু এক৷ শুধু নাম, চরিত্র আর ঘটনাস্থল বদলে ফেলুন। টি-২০ বিশ্বকাপের জায়গায় ফুটবল বিশ্বকাপ, ভারতের জায়গায় আমেরিকা। মোদ্দা ইস্যু এক: বয়কট! কুশীলব প্রথমটায় পাকিস্তান, পরেরটায় ইরান৷ এক ছক মেনে প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে না নামা, তারপর ভেন্যু পরিবর্তন, সবশেষে নিজেরাই সমঝোতা করার সুরে সুবিধাজনক বয়কটের রাস্তায় হাঁটা। অর্থাৎ, টুর্নামেন্ট থেকে নাম তুলে নিচ্ছি না ঠিকই। কিন্তু ‘অমুক দেশে’ (পড়ুন ভারত ও আমেরিকায়) খেলব না। গত কয়েক মাস জুড়ে এই চিত্রনাট্যের সাক্ষী ছিল ক্রিকেট দুনিয়া। এবার ফুটবলবিশ্ব৷
‘বিশ্বকাপ নয়, আমেরিকা বয়কট’
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (FFIRI) প্রধান মেহদি তাজ (Mehdi Taj) বুধবার স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, দল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তুরস্কে প্রশিক্ষণ শিবির হবে, দুটো প্রীতি ম্যাচও খেলবে টিম মেল্লি। তাঁর কথায়, ‘আমেরিকাকে বয়কট করব, বিশ্বকাপকে নয়!’
মাত্র কয়েকদিন আগে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালির বক্তব্য ছিল, ইসলামিক রিপাবলিকের নেতা আলি খামেনির হত্যার পর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। সেই অবস্থান থেকে এখন পিছু হটে নতুন একটা রাস্তা বেছে নিল ইরান— বিশ্বকাপে থাকব, কিন্তু আমেরিকার মাটিতে পা রাখব না।
ভেন্যু বদলের দাবি, ফিফার অনড় অবস্থান
ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ নির্ধারিত আমেরিকায়—বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জুন মাসে। ইরান ফেডারেশন ফিফার (FIFA) কাছে সেই ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছে। ট্রাম্পের (Donald Trump) মন্তব্যকেই হাতিয়ার করেছে তারা—যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দেন, নিরাপত্তার জন্য ইরানের না আসাই ভাল।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম (Claudia Sheinbaum) ইতিমধ্যে বলেছেন, ‘ইরান চাইলে মেক্সিকোয় ম্যাচ খেলতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফিফার হাতে!’ অন্যদিকে ফিফার দাবি, সব দলকে নির্ধারিত সূচি মেনেই খেলতে হবে। ভেন্যু বদলে এখনও রাজি নয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।
এরপর কী হবে?
১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। হাতে সময় মাত্র তিন মাসেরও কম। ফিফা যদি ভেন্যু না বদলায়, তাহলে ইরান আদৌ আমেরিকায় খেলতে আসবে কিনা—সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কোনও দল নেই যারা নির্দিষ্ট ভেন্যুতে না খেলে আলাদা জায়গায় ম্যাচ খেলেছে। ইরানের দাবি মানা হলে নজিরবিহীন ঘটনা হবে। না মানা হলে ইরানের বিশ্বকাপে থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হবে।