এবার তিনটি দেশে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন—আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা। আর সেই ঐতিহাসিক আসরে একটি দলের অংশগ্রহণ নিয়েই আপাতত যত রাজ্যের টানাপড়েন।

ইরানের ম্যাচ আয়োজনে রাজি মেক্সিকো
শেষ আপডেট: 18 March 2026 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান ফুটবল দলের আমেরিকায় খেলার আপত্তি এখন আর শুধু কথার কথা নয়—ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু বদলের আবেদন করেছে তারা। আর সেই আর্জির প্রেক্ষিতে মুখ খুললেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম (Claudia Sheinbaum)। মঙ্গলবার স্পষ্ট জানালেন তিনি, ইরানের ম্যাচ মেক্সিকোতে সরিয়ে আনতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই।
কেন আমেরিকায় খেলতে চাইছে না ইরান?
কারণ একাধিক। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আমেরিকার মাটিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ইরান ফেডারেশন। পাশাপাশি ভিসা জটিলতা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে দলের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে গুরুতর সংশয়।
আসন্ন বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ আমেরিকার একাধিক শহরে। ১৬ জুন ইনগেলউডে নিউজিল্যান্ড, ২১ জুন বেলজিয়াম, ২৭ জুন সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে লড়াই।
মেক্সিকোর দরজা খোলা, ফিফার জবাব মেলেনি
শেইনবাউমের বক্তব্য, ফিফা রাজি হলে ইরানের ম্যাচ মেক্সিকোতে আয়োজনে তাঁরা প্রস্তুত। মেক্সিকো এই বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ—তাই স্বাভাবিকভাবে বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে তাদের নাম।
কিন্তু জটিলতাও কম নয়। সূচি তৈরি, ভেন্যু বরাদ্দ, টিকিট বিক্রি ও সম্প্রচার চুক্তি—সবই আগে থেকে চূড়ান্ত। এই পর্যায়ে ম্যাচ স্থানান্তর শুধু কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব। হয়তো সে কারণেই ফিফা এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, ইরান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২০ নম্বরে। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল, টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই বিশ্বকাপই হতে পারে প্রজন্মের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে মঞ্চে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ।
অন্যদিকে এবার তিনটি দেশে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন—আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা। আর সেই ঐতিহাসিক আসরে একটি দলের অংশগ্রহণ নিয়েই আপাতত যত রাজ্যের টানাপড়েন। ফুটবল মাঠের বাইরে রাজনীতির ময়দানেও যে লড়াই চলছে, তার ছায়া এসে পড়েছে সরাসরি বিশ্বকাপের উপর।