ইরানের কাছে ভারত ০-৩ গোলে হেরে গিয়েছে। কিন্তু এত শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে যে লড়াই খালিদের ছাত্ররা করেছে তা তারিফ যোগ্য।

খালিদ জামিল
শেষ আপডেট: 1 September 2025 20:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ফিফা র্যাঙ্কিং ১৩৩ আর প্রতিপক্ষ ইরানের ২০। তাই লড়াইটা ছিল ডেভিড ও গোলিয়াথের মধ্যে। কিন্তু খালিদ জামিলের স্পর্শে যে মেন ইন ব্লুজ বদলে গিয়েছে। ইরানের কাছে অবশ্য ভারত এদিন ০-৩ গোলে হেরে (India lost to Iran) গিয়েছে। কিন্তু এত শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে যে লড়াই খালিদের ছাত্ররা করেছে তা যথেষ্টই তারিফ যোগ্য।
সম্প্রতি ভারতীয় ফুটবল দল বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও জিততে ভুলে গিয়েছিল। বিদেশ থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে বিদেশি কোচ আনা হলেও সাফল্য বলতে কিছুই ছিল না। কিন্তু সেই দলকেই কয়েকদিনের মধ্যে বদলে দিয়েছে খালিদের ম্যাজিক।
জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার পর খালিদের প্রথম পরীক্ষা ছিল কাফা নেশনস কাপে (CAFA Nations Cup)। কোচের অভিষেক ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে স্বাগত জানিয়েছিল ছাত্ররা। র্যাঙ্কিংয়ে ৩০ ধাপ এগিয়ে থাকা তাজিকিস্তানকে ভারত হারিয়েছিল ২-১ গোলে।
এরপর ভারত আজ কাফা কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেমেছিল শক্তিশালী ইরানের বিরুদ্ধে। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় ডিফেন্সের ওপর স্টিম রোলার চালাতে শুরু করে ইরান। কিন্তু খালিদের ভারত যে আগের থেকে অনেক সংঘবদ্ধ, অনেক মরিয়া। ৫ মিনিটেই দূরপাল্লার শট আটকে যায় গুরপ্রীতের বিশ্বস্ত হাতে। একের পর এক কর্নার, সেট-পিস এবং দূরপাল্লার শটে ভারতীয় রক্ষণকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছে ইরান। ওমিদ, চেশমি, নাদেরি, রাহিমাবাদিরা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও, ভারতের জমাট রক্ষণভাগ সেই সব আক্রমণ ব্যর্থ করে দেয়।
২২ মিনিটে মেহেদি দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন, কিন্তু আবারও রক্ষাকর্তা হয়ে দাঁড়ান গুরপ্রীত। ভারতের এই গোলরক্ষক কিছুদিন আগেও ফর্ম খুঁজে বেরাচ্ছিলেন। সন্দেশ, আনোয়ার, রাহুল ভেকেদের অসাধারণ ডিফেন্সের পরও যে কটি বল গোলমুখী ছিল সবই আটকে দেন গুরপ্রীত। ৩৬ মিনিটে গোলের একদম সামনে থেকে নেওয়া আরেকটি শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গুরপ্রীত।
এদিন ভারতের চাণক্য খালিদের মূল পরিকল্পনাই ছিল রক্ষণে জমাট রেখে ইরানের আক্রমণ ভেস্তে দেওয়া। একমাত্র ফরোয়ার্ড হিসাবে ইরফান ইয়াদওয়াদ মাঠে থাকলেও, বেশিরভাগ সময়েই ভারত আট থেকে নয় জন খেলোয়াড় নিয়ে রক্ষণ সামলেছে। মাঝেমধ্যে বিক্রমপ্রতাপ সিং ও আশিক কুরুনিয়ান গতি ব্যবহার করে কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়ারও চেষ্টা করেছেন, যদিও গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইরান আরও বেশি চাপ তৈরি করলেও ঝিঙ্গান, অনোয়ার, নিখিলরা মিলে সেই আক্রমণ সামাল দেন। ৪৫+৩ মিনিটে ইরান শেষ মুহূর্তে চেষ্টা করলেও, দু’টি ক্রস ব্লক করে দেন সন্দেশ ঝিঙ্গান ও অনোয়ার। হাজার মাথা কুটেও প্রথমার্ধে গোল পায়নি ইরান।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় ইরান। অবশেষে ৬০ মিনিটে মেলে গোলের দেখা। কানানি জাদেগানের তোলা দুর্দান্ত সেন্টার অনুমান করতে পারেনি ভারতীয় ডিফেন্ডাররা। রাহুল ভেকের পিঠে লেগে বল দিক পরিবর্তন করলে এক গজ দূর থেকে গোল করে যান আমির হোসেন।
গোলের দেখা পাওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইরান। ১৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। গুরপ্রীতের সেভ করা বল জালে জড়িয়ে দেন আলিপোরঘারা। সংযোজিত সময়ে (৯০+৬) মিনিটে আরও একটি গোল করে ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন তারেমি। ৩-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে ইরান।
ইরানের এই দলে রয়েছেন বেশ কিছু ইউরোপিয়ান ফুটবল লিগে খেলা ফুটবলার। এশিয়ার ফুটবল মানচিত্রেও সবার উপরে রয়েছে ইরান। সেই দলের কাছে তিন গোল খেলেও এই হার কখনও লজ্জার নয়। বিশেষত কয়েকদিন আগেও যে ভারতকে দেখলে মনে হতো, খেলতে হয় বলেই খেলছে। কিন্তু আজ যে চোয়াল চাপা লড়াই ভারতীয় ফুটবলাররা করেছেন, তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। তার উপর মোহনবাগান ফুটবলার না ছাড়ায় খালিদ জামিল পাননি মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসো, আপুইয়ার মতো প্রথমসারির খেলোয়াড়দের। তবে ভারতের এই লড়াই কিন্তু স্বপ্ন দেখাচ্ছে।