‘স্পেনের বিরুদ্ধে এই জয় আমাদের বিশ্বকাপের আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দেবে। দুনিয়ার যে কোনও দলকে এখন আমরা হারাতে পারি!’

রোনাল্ডো
শেষ আপডেট: 9 June 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিউনিখের (Munich) স্টেডিয়ামে যখন ওয়ার্ম আপে (Warm Up) নামলেন, গ্যালারি-কাঁপানো হর্ষ-উল্লাস শুনে বোঝার উপায় নেই, ম্যাচ শুরু হতে তখনও বিস্তর দেরি।
তিনি হাল্কা দৌড়লেন। খানকয়েক লং রেঞ্জ কিক মারলেন। সামান্য কিছু স্কিলের ঝলক দেখালেন। তারপর ধীর পায়ে টানেল বেয়ে ড্রেসিং রুমের পথে হাঁটা দিলেন।
এই গোটা সময় যদি কেউ ক্যামেরাবন্দি করে থাকেন, কয়েক বার মন দিয়ে রিপ্লেতেও দেখেন, তবুও বুঝতে পারবেন না, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এই ওয়ার্ম আপ চলাকালীনই পায়ে হ্যাঁচকা টান পেয়েছিলেন! পুরনো ব্যথা। ফের নতুন করে ফিরে এসেছে। অনুভব করেন শট নিতে গিয়ে।
তবু নামেন গোড়াতেই, প্রথম একাদশে। খেলেন ৮৮ মিনিট। করেন গোল। সমতা ফেরান। দলকে নিয়ে আসেন লড়াইয়ে। তারপর যন্ত্রণা যখন সহ্যের অতীত হয়ে উঠছে, মন না চাইলেও ফিরে যেতে হয় ডাগ আউটে!
ম্যাচ জিতে বছর চল্লিশের রোনাল্ডো স্বীকার করেছেন এই কষ্টের কথা, মেনে নিয়েছেন তিনি চোট ‘লুকিয়ে’ খেলেছেন। সিআরসেভেনের কথায়, ‘আমি ওয়ার্ম আপেই বুঝতে পেরেছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ ধরেই যন্ত্রণা টের পাই। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে, যদি আমায় পা ভেঙেও খেলতে হয়, আমি ভেঙে ফেলব।‘ জুড়ে দেন, ‘এটা ট্রফি জেতার লড়াই। আর এর জন্য আমায় নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতেই হবে।‘
হাজার গোল তাড়া করার লক্ষ্যে নেমেছেন পর্তুগালের তারকা। নেমেছেন দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে। ইউরো, প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা—ক্লাব ও দেশের হয়ে প্রায় সমস্ত মেজর ট্রফি হাতে তুলেছেন। বাকি শুধু ওয়ার্ল্ড কাপ। সামনের বছর যার জমকালো আয়োজন বসছে কানাডা, মেক্সিকো ও আমেরিকা জুড়ে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নামতে পারবেন? নামলেও পারবেন দেশকে খেতাব জেতাতে?
প্রশ্ন শুনে যথেষ্ট ইতিবাচক রোনাল্ডো। বলেলেন, ‘স্পেনের বিরুদ্ধে এই জয় আমাদের বিশ্বকাপের আগে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দেবে। দুনিয়ার যে কোনও দলকে এখন আমরা হারাতে পারি!’
কিন্তু বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে কুলীন টুর্নামেন্টে নামতে গেলে তো ফর্ম ও ধারাবাহিকতার শীর্ষে থাকা জরুরি। তার জন্য ক্লাব ফুটবলে নিয়ত ঘাম ঝরাতে হবে, খেলতে হবে নিয়মিত। পারবেন ততদিন টানতে? আল নাসের ছাড়বেন? অন্য কোনও টিমে যাবেন?
জল্পনা-গুঞ্জন নিয়ে মুখে কুলুপ রোনাল্ডোর। মুখে এখন শুধুই দেশ, দেশ আর দেশ। বলে দিলেন, ‘আমি ক্লাবের হয়ে অনেক ট্রফি জিতেছি। কিন্তু পর্তুগালের হয়ে খেতাব জয়ের চাইতে সুন্দর কিছু হতে পারে না!’
তাই কি আবেগে কেঁপে ওঠেন? মাটিতে বসে হাঁটু মুড়ে কেঁদে চলেন অবিরত? ভণিতা না করেই রোনাল্ডোর জবাব, ‘এটা কান্না… লক্ষ্যপূরণের কান্না। এই কান্না আনন্দের।‘