এর আগে বসুন্ধরার হয়ে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে। তখন থেকেই জানি মোহনবাগান ভারতের সেরা ও সফলতম ক্লাব।

রবসন রবিনহো
শেষ আপডেট: 30 August 2025 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডুরান্ড কাপের শেষ আটের লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল মোহনবাগানকে (Mohunbagan)। ডার্বি হারার পর সমর্থকরা কিছুটা হতাশ হলেও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এর প্রস্তুতি জোর কদমে শুরু করে দিয়েছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।
এএফসির কথা মাথায় রেখে দেশের হয়ে খেলার জন্য ভারতীয় ফুটবলারদেরও ছাড়েনি মেরিনার্স কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই এল খুশির খবর। সোমবারই তিলোত্তমায় পা রাখছেন এবারের নতুন রিক্রুট রবসন রবিনহো (Robson Robinho)। ব্রাজিলের এই ফুটবলার স্ট্রাইকারে হলেও দুই উইং দিয়ে আক্রমণ শানাতে পারদর্শী।
দুই বছরের চুক্তিতে বাগান শিবিরে নাম লিখিয়েছেন রবিনহো। তাঁর বেড়ে ওঠা ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে। ফুটবলার জীবনের অসংখ্য সাফল্য রয়েছে ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবলে। কয়েক মাস আগেই সাওপাওলো লিগে খেলেছেন নেইমার দ্য সিলভার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলে গত তিন বছরে সাতটা ট্রফি জিতেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যও চমকে দেওয়ার মতো। ১৭ ম্যাচ খেলে করেছেন ৬৪টি গোল। সতীর্থকে গোল করার বল সাজিয়ে দিয়েছেন ৪৯টি। সেই সফলতম ফরোয়ার্ড রবসন আজেভেদো দ্য সিলভা এবার খেলবেন সবুজ-মেরুন জার্সিতে।
গোলমেশিন হিসাবে পরিচিত রবসনের দলের ষষ্ঠ বিদেশি হিসাবে গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাবে যোগ দিচ্ছেন। সোমবার সকালে শহরে আসার পর তিরিশ বছর বয়সি ব্রাজিলিয়ান এই তারকা নেমে পড়বেন এসিএল টু-র প্রস্তুতিতে। গোলমেশিন ও দুর্দান্ত প্লে মেকার রবসন যোগ দেওয়ায় হোসে মোলিনার দলের আক্রমণভাগের শক্তি আরও বাড়বে। কারণ রবসন দুই উইং-এ খেলতে যেমন দক্ষ, তেমনই নম্বর-টেন পজিশনে খেলেও সাফল্য পেয়েছেন।
সবুজ-মেরুন ব্রিগেডে যোগ দেওয়ার পর রবসন বলেছেন, "এর আগে বসুন্ধরার হয়ে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে। তখন থেকেই জানি মোহনবাগান ভারতের সেরা ও সফলতম ক্লাব। ওই ম্যাচে আমি কীরকম খেলেছিলাম তা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের নিশ্চয়ই মনে আছে। এবার সেই সবুজ- মেরুন জার্সি পরেই আমি সেরকমই সাফল্য পাব আশা করছি। অপেক্ষা করুন।"
রবসনের আরও সংযোজন, "গত বছর মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ভারতের সেরা দুটো লিগ-কাপেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের গত পাঁচ বছরের সাফল্যের রেকর্ড ভারতের আর কোনও ক্লাবের নেই। সেরা বিদেশিরা এই ক্লাবে খেলে। ভারতের জাতীয় দলের বেশিরভাগ ফুটবলারও খেলে মোহনবাগানে। আমি ওদের একজন সতীর্থ হয়ে আসছি, ওদের সাহায্য করার জন্য। ক্লাবে আরও ট্রফি আনতে চাই, ওদের সঙ্গে খেলে। আমি খেলার মধ্যেই আছি। নিজেকে ফিট রাখার জন্ম নিয়মিত ফিজিক্যাল ট্রেনিং করি। দু’সপ্তাহ সময় পেলেই আমি টিমের সঙ্গে সব দিক থেকেই মানিয়ে নিতে পারব বলে আশা রাখি। আমার নিজের বিশ্বাস, মোহনবাগানের প্রথম এএফসি ম্যাচের আগেই আমি দলের একজন কার্যকর ফুটবলার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।"
রবসন বলেছেন, "আমি গোল করতে ভালবাসি, গোল করাতেও। কিন্তু সবার উপরে দলকে ভালবাসি। তাই আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য যদি জানতে চান তা হলে বলব, দলকে আরও সাফল্য দেওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে। তার বেশি যদি ক্লাব আরও কিছু সম্মান পায় তবে সেটাই হবে আমার লক্ষ্য পূরণ।"
নেইমারের বিরুদ্ধে খেলার প্রসঙ্গে রবসন বলেছেন, "নেইমার দ্য সিলভার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে খেলাটা আমার কাছে সম্মানের। ওর সঙ্গে মাঠের বাইরে আমার তেমন সখ্যতা নেই। মাঠে আমার প্রতিপক্ষ দলে ও খেলছিল গত ফেব্রুয়ারিতে সাও পাওলো লিগের একটি ম্যাচে। ওই দিনটার কথা আমার কাছে সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে এজন্যই যে, আমি ব্রাজিলের জাতীয় দলের সেরা ফুটবলারের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলাম।"