আমরা কেউ সেক্রেটারি বা প্রেসিডেন্ট নই। ক্লাবের ভাল করতে হবে। আমরা ডাবল স্ট্রাইকার নিয়ে খেলছি। সৃঞ্জয় আর দেবাশিস। পদ দিয়ে ক্ষমতা হয় না। কাজ করতে হয়। যে কাজ করবে, তাকেই লোক মনে রাখবে। আমি সমর্থক হিসাবেই মোহনবাগানের হয়ে কাজ করতে চাই।

দেবাশিস দত্ত ও সৃঞ্জয় বসু
শেষ আপডেট: 16 June 2025 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রীষ্ম কাগজে-কলমে বিদায় নিলেও বর্ষা বঙ্গে এখনও দাপটা দেখাতে শুরু করেনি। প্যাচপেচে গরমে তিলোত্তমা এখন নাজেহাল। মাঝে-মধ্যে আকাশ অবশ্য কালো হচ্ছে, কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। এই তীব্র দহন জ্বালার মধ্যেও কিন্তু গোষ্ঠ পাল সরণিতে এখনও বিরাজমান বসন্ত।
মোহনবাগান (Mohunbagan) গত মরশুমে আইএসএল জেতার পাশাপাশি লিগ শিল্ডও জিতেছে। তারপর থেকেই বেশ ফুরফুরে মেজাজ গঙ্গা পাড়ের ক্লাবে। কিন্তু এর মধ্যেই তাল কেটেছিল মোহনবাগান ক্লাবের নির্বাচন ঘিরে। যুযুধান দুই পক্ষের তীব্র বাদানুবাদ, কাদা ছোড়াছুড়ি একদম পছন্দ হয়নি বাগান সমর্থকদের। এমনকি বিরক্ত হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অবশেষে তাঁর প্রচষ্টা ও সমর্থকদের আবেগকে মাথায় রেখে এক হয় দুই পক্ষ। নির্বাচন ছাড়াই সাঙ্গ হয়েছে সচিব ও সভাপতি মনোনয়ন।
শনিবার সচিব পদে নাম ঘোষণা হয়েছিল সৃঞ্জয় বসুর (Srinjoy Basu)। আর এদিন সভাপতি হিসাবে দেবাশিস দত্তর (Debashis Dutta) নাম ঘোষণা করেন সৃঞ্জয়। এরপরই উল্লাসে মেতে ওঠেন মেরিনার্স সমর্থকরা। শুরু হয় ড্রাম বাজানো, মুহূর্তে মুহূর্তে উঠতে থাকে ‘জয় মোহনবাগান’ ধ্বনি। শুরু হয় মিষ্টিমুখ।
একসময় ছিলেন হরিহর আত্মা। মাঝখানে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আবার সেটা মিটেছে। এদিন সৃঞ্জয় দেবাশিসের মুখে মিষ্টি গুঁজে দিলেন। ছাড়ার পাত্র নন দেবাশিসও। তিনিও মিষ্টিমুখ করালেন সৃঞ্জয়কে। দুই জনকে তুলে দেওয়া হল পুস্পস্তবক। এ যেন আনন্দমেলা।
সভাপতি হওয়ার পর দেবাশিস বললেন, “নমস্কার সবুজ-মেরুন। ১৯৯৫ সাল থেকে আমি এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সমালোচলা হলে কষ্ট পেতাম, এখন ওটা থেকেই শিক্ষা নেই। মোহনবাগান সমর্থকদের ভালবাসায় আজ এখানে এসেছি। আজ আমাদের কাজ কঠিন। আমাদের থেকে চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। আগামী ৩ বছরের জন্য প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছে। সবার সাহায্য নিয়ে এগোতে চাই।”
পাশাপাশি দলের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মোহনবাগানের নতুন সভাপতি। বলেন,“আমি কৃতজ্ঞ। উনি ফুটবল প্যাশনেট। আশা করি, আগামী দিনে এই প্যাশন আরও বাড়বে।”
সৃঞ্জয়ের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন নিয়েও এদিন বলেছেন দেবাশিস। সভাপতি হওয়ার পর তিনি বলেন, “আমরা কেউ সেক্রেটারি বা প্রেসিডেন্ট নই। ক্লাবের ভাল করতে হবে। আমরা ডাবল স্ট্রাইকার নিয়ে খেলছি। সৃঞ্জয় আর দেবাশিস। পদ দিয়ে ক্ষমতা হয় না। কাজ করতে হয়। যে কাজ করবে, তাকেই লোক মনে রাখবে। আমি সমর্থক হিসাবেই মোহনবাগানের হয়ে কাজ করতে চাই। কাজ করলে পরিচয়ের দরকার লাগে না। অন্যতম সেরা কমিটি এটা। আসা করব ভাল কাজ করতে পারব। ব্যারেটো-বাইচুং জুটি আমার হাতে তৈরি। তাদের মধ্যে কোনও ইগো ছিল না। তাহলে আমাদের মধ্যে ইগোথাকবে কেন? ব্যক্তির থেকে প্রতিষ্ঠান অনেক বড়।”
টুটু বসু সম্পর্কে দেবাশিস বলেন, “উনি আমাদের অভিভাবক। তিনি অভিভাবকের স্থানেই থাকবেন।”