শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারের ভুলে সুপার কাপ হাতছাড়া। অ্যালভিটো আশাবাদী হলেও তাঁর নিশানা স্পষ্ট—হিরোশি যত দ্রুত বাদ, তত তাড়াতাড়ি ইস্টবেঙ্গলের মঙ্গল।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 8 December 2025 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) সুপার কাপ ফাইনাল হার মেনে নিতে পারছেন না ক্লাবের কিংবদন্তি অ্যালভিটো ডি’কুনহা (Alvito D’Cunha)। ম্যাচের পর তাঁর সাফ বক্তব্য—দলে বিদেশি স্ট্রাইকার হিরোশিকে (Hiroshi) যেন যত দ্রুত সম্ভব বাদ দেওয়া হয়। অ্যালভিটোর কথায়, ‘দিয়ামান্তাকসের (Diamantakos) বদলি হিসেবে ওকে আনা হয়েছিল। কিন্তু কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি। হিরোশিকে বাদ দিলে দেশের ছেলেরা আরও ভাল খেলবে। ইস্টবেঙ্গলের দলে যথেষ্ট শক্তি আছে।’
আশাবাদী প্রাক্তন মিডফিল্ডার এরপর জুড়ে দেন, ‘ইস্টবেঙ্গল এ বছর সব টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে—সুপার কাপ (Super Cup), আইএফএ শিল্ড (IFA Shield)—সব জায়গায়। হ্যাঁ, জেতেনি, সেটা আলাদা। কিন্তু ফাইনালে যাদের বিরুদ্ধে খেলেছে, তারা ভাল দল। গোয়া (FC Goa) হয়তো হোম গ্রাউন্ডের সুবিধায় জিতেছে। কিন্তু বাংলার খেলোয়াড়দের উন্নতি নেই। এখন তেমন কোনও টপ-লেভেল বাঙালি ফুটবলার নেই, শুভাশিস বোস ছাড়া!’
প্রসঙ্গত, গতকাল জহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকে টানটান ফাইনালের। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল নেই। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোল আসেনি। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম পাঁচ স্ট্রোকে দুই দলই ৪-৪। ম্যাচ গেল ‘সাডেন ডেথে’। এখানেই হার মানে ইস্টবেঙ্গল। বদলি হামিদ আহাদাদ গোল করলেও পিভি বিষ্ণু (PV Vishnu) শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। গোয়ার নায়ক সাহিল তাভোরা (Sahil Tavora)। পরপর দ্বিতীয়বার সুপার কাপ জিতে নিল তারা। রেকর্ড তিনটি শিরোপা জ্বলজ্বল করছে ট্রফি ক্যাবিনেটে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলই বেশি স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করে। ১২ মিনিটে মিকেল ফেরেইরা (Miguel Ferreira) ডিফেন্স ভেঙে গোলের সামনে গিয়েও শট বাইরে মারেন। ২০ মিনিটে বিপিন সিংহের (Bipin Singh) লো ক্রস থেকে দারুণ সুযোগ পান মহেশ নাওরেম, কিন্তু বল ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ বদলায়। গোয়ার আয়ুষ ছেত্রী (Ayush Chhetri) দূর থেকে শট নেন, কিন্তু বাইরে। ৭৪ মিনিটে মনে করেছিল গোল হয়েছে—বিষ্ণুর শট গোয়ার কিপার তিওয়ারির গায়ে লেগে গোললাইনের ঠিক সামনে পড়ে। শেষ মুহূর্তে হাত বাড়িয়ে ক্লিয়ার করেন ঋত্বিক তিওয়ারি (Hrithik Tiwari)। রেফারি গোল দেননি।
৭৭ মিনিটে ব্রিসন ফার্নান্দেসের (Brison Fernandes) শট পোস্টে লাগে। ৭৮ মিনিটে দৃষ্টিগোচর ভুলে গোল করতে ব্যর্থ দেনিয়েন দ্রাজিক। অতিরিক্ত সময়ে সিভেরিওর শট কাছ থেকে আটকান ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল (Prabhsukhan Gill)। যিনি দুর্দান্ত খেলেও টাইব্রেকারে সেভ করতে ব্যর্থ।
শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারের ভুলে সুপার কাপ হাতছাড়া। অ্যালভিটো আশাবাদী হলেও তাঁর নিশানা স্পষ্ট—হিরোশি যত দ্রুত বাদ, তত তাড়াতাড়ি ইস্টবেঙ্গলের মঙ্গল।