আমাদের অবশ্যই খারাপ সময় চলছে। প্রথমার্ধে আশিক কুরুনিয়ানের কাছে সহজ সুযোগ এসেছিল। শুধু তাই নয়, গোটা ম্যাচ জুড়েই আমরা সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু গোল হয়নি। সংযোজিত সময়ের একটি ভুল ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিল।

মানোলে মার্কুয়েজ
শেষ আপডেট: 11 June 2025 17:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার রাতে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের অনেক নীচে থাকা হংকংয়ের কাছে হেরে গিয়েছে মেন ইন ব্লুজ। এএফসি এশিয়ান কাপ ২০২৭ যোগ্যতা অর্জন (AFC Asian Cup 2027 Qualifier) পর্বের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গে ড্র করেছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে হংকংয়ের বিরুদ্ধে ড্র তো দূরে থাক তিন পয়েন্ট খুইয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মানোলো মার্কুয়েজের (Manolo Marquez) ছাত্রদের। সংযোজিত সময়ের পেনাল্টি থেকে করা গোলে ভারত (India) হারে হংকংয়ের (Hong Kong) কাছে। এর ফলে প্রথম দুই ম্যাচের পর মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে গ্ৰুপ ‘সি’র চতুর্থ স্থানে ভারত।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভারতের প্রধান কোচ মানোলে মার্কুয়েজ বলেছেন, গোলের সুযোগ নষ্ট না করলে দল জিততেই পারত। এর জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে মানোলো বলেছেন, “আমাদের অবশ্যই খারাপ সময় চলছে। প্রথমার্ধে আশিক কুরুনিয়ানের কাছে সহজ সুযোগ এসেছিল। শুধু তাই নয়, গোটা ম্যাচ জুড়েই আমরা সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু গোল হয়নি। সংযোজিত সময়ের একটি ভুল ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিল।”
ভারতীয় দলের প্রধান কোচ আরও বলেছেন, “দুই দলই তুল্যমূল্য লড়াই করেছে, গোলের সুযোগ কেউই খুব একটা পায়নি। দুই দলের রক্ষণই সজাগ ছিল। একটি দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্তে আমরা হেরে গিয়েছি। এটাই ফুটবল। আমার মনে হয়, ড্র হতো ন্যায্য ফলাফল। তবে আমরা যদি আমাদের সুযোগগুলি কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে ফল অন্যরকম হতে পারত।”
এই ম্যাচে হারের ফলে ভারতের এশিয়ান কাপ ২০২৭ যোগ্যতা অর্জনকরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ভারত নিজেদের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে হারালেও তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি ম্যাচগুলির ফলাফলের উপর। এই প্রসঙ্গে মানোলো বলেন, “এখন এটা নিয়ে ভাবার সময় নয়। আমরা দুঃখিত। ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ছিল শোকাসন্তপ্ত। খেলোয়াড়রা জানে আমরা গোল করতে পারছি না। আমি ড্রেসিংরুমে বলেছি, আমরা অবশ্যই ম্যাচ জিততে চাই। আমি মনে করি, ভারত এখনও যোগ্যতা অর্জনের লড়াইয়ে রয়েছে।”
ভারত শেষ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোলের দেখা পায়নি। এই প্রসঙ্গে মানোলে বলেন, “কখনও কখনও বিষয়টি পরিষ্কার হয় না। এই সমস্যা শুধু জাতীয় দলের নয়, ক্লাব পর্যায়েও হয়ে থাকে। কোনও ম্যাচে একটাও গোল হল না, কিন্তু সেই দলই পরের ম্যাচে চার-পাঁচ গোল দিয়ে দিল। আমি এমন একটি দলের সঙ্গে কাজ করেছি যারা আইএসএলে প্রায় প্রতি ম্যাচে গোল করছে। আমরা টানা ২৩ ম্যাচে গোল করেছি। কিন্তু এখানে আমরা ঠিক উল্টো পরিস্থিতিতে আছি। আমরা এই বিষয়ে অনেক কথা বলেছি, ভারতীয় ফরোয়ার্ডদের আরও গোল করা প্রয়োজন। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কাছে যে সামর্থ রয়েছে তাই নিয়েই কাজ করতে হবে। আমি আমার ফুটবলারদের সম্প্রর্কে কোনও নেতিবাচক কথা বলব না। তাদের প্রচেষ্টা ছিল, মনোভাব ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পারিনি।”