Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!

ভিডিও গেম খেলতে গিয়ে বন্ধুর বাড়িতে আলাপ, আন্তোনেল্লা-মেসির প্রেম যেন সিনেপর্দার কাহিনি!

ন’বছরের লিও ততদিনে শুধু ফুটবল নয়, আরও একজনের প্রেমে বুঁদ। লুকাসের বোন। নাম আন্তোনেল্লা। পুরো নাম আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো (Antonella Roccuzzo)। 

ভিডিও গেম খেলতে গিয়ে বন্ধুর বাড়িতে আলাপ, আন্তোনেল্লা-মেসির প্রেম যেন সিনেপর্দার কাহিনি!

সস্ত্রীক মেসি

শেষ আপডেট: 25 May 2025 16:25

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখে চোখে দেখাটা হয়েছিল বন্ধুর বাড়িতে। প্রতিদিন হাতের কাজ ফুরলে, পড়াশোনার পাট চুকলে লিওর বাঁধাধরা গন্তব্য ছিল লুকাসের বাড়ি। লুকাস স্কাগলিয়া। কাছের বন্ধু। ওর বাড়িতেই বসত ভিডিও গেমের আসর। দলবেঁধে বন্ধুরা যেত। পায়ে পা বাড়াত লিও-ও।

একদিন লুকাসের বাড়িতে ঢুকেই ধাক্কা খেল। পায়ে নয়, মনে। একটা হ্যাঁচকা টান পড়ল। কিছুক্ষণের জন্য নিশ্চুপ, নির্বাক। দাঁড়িয়ে পড়ল লিও। তাকিয়ে রইল এক অচেনা মেয়ের দিকে। হয়তো তারই বয়সি। সেও চারপাশ ভুলে লিওর দিকে চেয়ে!

কয়েক সেকেন্ডের চোখাচোখি। তারপর দুজনেরই হুঁশ ফিরল। লিও বসে গেল ভিডিও গেমে। মেয়েটি ভেতরঘরের আড়াল নিল।

অচেনা মেয়েটি কে? এখানে কী করছে? মাথায় ঘুরতে থাকে লিওর। জিজ্ঞেস করতেই জবাব দেয় লুকাস। জানায়, মেয়েটি সম্পর্কে তার বোন। বেড়াতে এসেছে।

গেমের পালা চুকেবুকে গেলে বাড়ি ফিরে রাতে আর কিছুতেই ঘুমোতে পারে না লিও। মনে ভেসে ওঠে মেয়েটির মুখ। দুজনের স্থিরচোখে তাকিয়ে থাকা। ক্ষণিকের অস্বস্তি, জড়তা লিওকে তছনছ করে দেয়। মুখচোরা সে। জন্মলাজুক। কিন্তু ভীতু নয়। তাই মুখে বলতে না পারলেও হাতে লেখা চিঠিতে ভালবাসার কথা জানাতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে।

অবসর বিনোদনের জন্য ভিডিও গেম খেলতে ঠিকই। কিন্তু লিওর ধ্যানজ্ঞান ছিল ময়দান! আর্জেন্তিনার রোসারিওর গলিপথে দাপিয়ে ফুটবল খেলেছে। সেখান থেকে মাঠে। স্কুল টিমের জার্সি গলিয়েছে। দেশের যুব দলের সুযোগ পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে চলেছে।

ন’বছরের লিও ততদিনে শুধু ফুটবল নয়, আরও একজনের প্রেমে বুঁদ। লুকাসের বোন। নাম আন্তোনেল্লা। পুরো নাম আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো (Antonella Roccuzzo)। চোখের কথার বেড়া ডিঙিয়ে দুজনে ততদিনে মুখের কথায় সড়গড়। দেখা হয়, কথা নয়। প্রথমে মাঝেসাঝে। তারপর প্রায় প্রতিদিন।

সবকিছু দিব্যি চলছিল! কয়েক বছর বাদে ঘনিয়ে এল বিচ্ছেদ। হঠাৎ করে। ডাক পাঠাল স্পেন। ফুটবলে ততদিনে নামযশ শুরু হয়েছে। ফুটবলের রাজপুত্র মারাদোনা, আর্জেন্তিনার স্বপ্নের নায়ক, তার মতোই বাম পায়ের ফুটবলার, ক্ষুরধার ড্রিবলিং স্কিল, ক্ষিপ্র গতি, গোল করা ও গোল করানোয় সমান পারদর্শী। লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্য একজন গড়ে তুলেছেন। অন্যজন এগিয়ে নিয়ে যাবেন। দেশের ফুটবল ততদিনে নায়কবন্দনা শুরু করে দিয়েছে।

কিন্তু লিও জানত তার তৈরি হওয়া বাকি। ইউরোপের মঞ্চে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে। তার জন্য বল পায়ে শৌখিন কারুকাজই যথেষ্ট নয়, হতে হবে শারীরিকভাবে সক্ষম। ফুটবল এখন শুধুই স্কিলের খেলা নয়, ফিজিক্যালও বটে!

স্পেন যাওয়া মনস্থির করলেন লিও। রোসারিওর রাজপথে রেখে গেলেন বন্ধুদের। রেখে গেলেন মলিন ফুটবল আর ভালবাসার আন্তোনেল্লাকে।

এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর শবরীর প্রতীক্ষা। চিঠি লেখা, খবর নেওয়া চলত। কিন্তু সেভাবে দেখাসাক্ষাতের সুযোগ ছিল না। পাঁচ বছর ধরে হাতে লেখা চিঠিই ছিল সম্বল।

২০০৫ সালে এল সুযোগ। আর সেই সুযোগ তৈরি করে দিল একটি দুর্ঘটনা। আন্তোনেল্লার এক কাছের বান্ধবী গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। আশ্রয় দিতে স্পেন থেকে ছুটে আসে লিও। প্রেমিকার পাশে দাঁড়ায়।

মজার বিষয়, এতকিছু হয়ে চলেছে যখন, তখন দুজনের পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের কেউই খবর পর্যন্ত পাননি। সম্পর্ককে এতটাই ব্যক্তিগত রাখতে পেরেছিলেন তাঁরা!

জানাজানি হয় দু’বছর বাদে। সেটাও আন্তোনেল্লা নিজে যেচে বন্ধুদের বলেছিলেন বলে। কিন্তু লিও তখনও নীরব! না বন্ধুমহলে, না মিডিয়ার সামনে! ফুটবলের উদীয়মান তারকা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে নিভৃতেই রেখেছিলেন।

সামনে আনেন দু’বছর বাদে, ২০০৭ সালে। এরপর আর দেরি নয়! পরিবারের সুখস্বপ্নে বুঁদ দুজনে। ২০১২ সালে কোল আলো করে আসে প্রথম সন্তান থিয়াগো। ২০১৫-তে মাতেও। তিন বছর বাদে কনিষ্ঠ পুত্র চিরো।

তিন সন্তানের জন্মদাত্রী আন্তোনেল্লা ততদিনে জননী। কিন্তু লিওর বান্ধবী বলেই দুনিয়া চেনে। স্ত্রীর স্বীকৃতি মেলে ২০১৭ সালে। ছেলেবেলার প্রেমিকাকে বিয়ে করেন লিও। আর লুকিয়ে-ছুপিয়ে নয়। ঘটা করে। তাবড় সেলেব্রিটিরা আমন্ত্রণ পান। খবরের কাগজে বিয়ের ছবি, খবর রমরমিয়ে ছেপে বেরোয়!

এরপর কেরিয়ারে অনেক শৃঙ্গ জয় করেছেন লিও। পেয়েছেন সম্মান। জিতেছেন ট্রফি। দেদার। বিশ্বকাপের তাজ? সেটাও মাথায় দিয়েছেন। ব্যর্থতা, যন্ত্রণার শেলও বিঁধেছে বুকে। খুব কাছ থেকে খেতাব গিয়েছে ফসকে। লিগ জিততে গিয়েও জেতেননি।

কিন্তু এই উত্থান-পতনে, আলোয়-অন্ধকারে আন্তোনেল্লার হাত লিওকে ছেড়ে যায়নি। লিওনেল মেসি (Lionel Messi) ফুটবল-দুনিয়ার সম্ভ্রম, কুর্নিশ, সাবাশি সবকিছু আদায় করেছেন। আর এই সম্মান আদায়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে শক্তি আর সাহস জুগিয়ে গেছেন ছেলেবেলার প্রেমিকা, এখন স্ত্রী… সেই আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো।


```