বিনিয়োগ কার্যত শূন্য। মুনাফা ভাঁড়ার ভরাট করবে থরে-বিথরে! এই লক্ষ্য নিয়ে খেলোয়াড় বেচাকেনার বাজারে নেমে দু’হাতে লাভের লক্ষ্মী ঘরে এনেছে বুন্দেশলিগার ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট।

মার্কাস ক্রশে
শেষ আপডেট: 6 August 2025 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাকাডেমিতে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দাও। তৈরি করো ফুটবলার। কেউ মিডফিল্ডার, কেউ স্ট্রাইকার। তারপর কাউকে ৬০, কাউকে ৭০, কাউকে ৮০ মিলিয়ন ইউরোয় ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোয় বিক্রি করে দাও।
বিনিয়োগ কার্যত শূন্য। মুনাফা ভাঁড়ার ভরাট করবে থরে-বিথরে! এই লক্ষ্য নিয়ে খেলোয়াড় বেচাকেনার বাজারে নেমে দু’হাতে লাভের লক্ষ্মী ঘরে এনেছে বুন্দেশলিগার ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট (Eintracht Frankfurt)।
মাঠে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার পাশাপাশি ট্রান্সফার মার্কেটেও এই জার্মান টিমের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রে। হুগো একিতিকে, র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি, ওমর মারমুশ, সেবাস্তিয়ান হ্যালার, লুকা ইয়োভিচ—এমন একের পর এক ফরোয়ার্ডকে গড়েপিটে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর হাতে তুলে দিয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্ট। ছয় বছরে কেবল স্ট্রাইকার বিক্রি করেই ৩০০ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি আয়। আর এহেন অসাধারণ সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর মার্কাস ক্রশে (Markus Krosche)। ফুটবল দুনিয়ায় যিনি এই মুহূর্তে ‘ট্রান্সফার মার্কেট জিনিয়াস’ হিসেবে সুখ্যাতি কুড়োচ্ছেন!
২০১৭ সালে কোচিংয়ের ছোট্ট অভিজ্ঞতা শেষে ক্রশে স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। প্রথম গন্তব্য এসসি পাডারবর্ন। আর সেখানে যোগ দেওয়ামাত্র চমক! থার্ড ডিভিশন থেকে সরাসরি বুন্দেশলিগায় (Bundesliga) ওঠে ছোট্ট এই দল। পর্দার আড়ালে থেকে আসল জাদু দেখান ক্রশে। ফুটবল দুনিয়ায় তবে থেকেই সমীহ আদায় শুরু।
পরের গন্তব্য আরবি লাইপজিগ। সাল ২০১৯। ছকভাঙা আগ্রাসী ফুটবলের জন্য স্পটলাইটে কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। কিন্তু জার্মান ক্লাবে খুব অল্প সময়ে যে-স্কোয়াড গড়ে উঠেছিল, তার আড়ালে ছিলেন ক্রশে। তাঁর দাক্ষিণ্যে ও পরামর্শে লাইপজিগ শুধু ভালো খেলোয়াড়দের সামনে আনেনি, কয়েক মরশুম ধরে তাদের বড় অঙ্কে বিক্রিও করেছে। দায়ো উপামেকানো, মার্সেল সাবিৎসারের মতো তারকাদের বায়ার্ন মিউনিখে বিক্রি করে লাভের অঙ্ক আকাশ ছোঁয়। যদিও নাগেলসমানের বিদায়ে সেই প্রকল্প কিছুটা হলেও থমকে যায়।
দু’বছর বাদে, ২০২১-এ ক্রশে যোগ দেন আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে। এখানেই আসল রমরমা শুরু। জার্মানির ঘরোয়া লিগে ফি-বছর মাঝামাঝি জায়গায় থাকা ক্লাবটিকে তিনি ট্রান্সফারের লাভজনক যন্ত্রে পরিণত করেছেন। তরুণ প্রতিভা খুঁজে এনে কম দামে কিনে, যত্ন নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে, কয়েক সিজন বাদে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর হাতে চড়া দামে তুলে দেওয়া—ক্রশের কৌশল ঠিক যেন দাবার ছক। তাই অনেকে তাঁর সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেনের তুলনা টেনে থাকেন। যা কোনওভাবে অতিরঞ্জন নয়!
ক্রশের সেরা সাফল্যের উদাহরণ হুগো একিতিকে, র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি আর ওমর মারমুশকে। এই তিন ফরোয়ার্ডের পেছনে ফ্রাঙ্কফুর্ট খরচ করেছিল মোটে ১৬.৫ মিলিয়ন ইউরো। বিক্রি করেছে ২৫৫ মিলিয়ন ইউরোয়। এককথায় অবিশ্বাস্য স্ট্র্যাটেজি!
এমন নজরকাড়া ট্রান্সফারের পরও ফ্র্যাঙ্কফুটের মাঠের সাফল্যও টাল খায়নি। নিয়মিত ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০২২ সালে জিতেছে ইউরোপা লিগ। তাই ক্রশের দর্শন এখন অন্য ক্লাবগুলোর কাছেও খেলোয়াড় বিকিকিনির সহজ পাঠ! পরিস্থিতি এমন যে, বায়ার্ন মিউনিখ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মতো জার্মানির সবচেয়ে বড় বড় ক্লাবও ক্রশের উপর নজর রাখছে। তিনি নিজে কত মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে অন্য দলে যোগ দেন—এখন সেটাই দেখার!