একটা কথা পরিষ্কার—ক্রিকেট মাঠে বারবার এমন প্রতীকী ইশারায় কেবল খেলার সীমারেখা ঝাপসা হচ্ছে না, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপও চড়চড়িয়ে বাড়ছে।

রোনাল্ডো ও নকভি
শেষ আপডেট: 25 September 2025 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হারিস রউফের (Haris Rauf) হাত ঘুরিয়ে ‘বিমান ভেঙে পড়া’-র মুদ্রা বিশ্বক্রিকেটে অসন্তোষের ঢেউ তুলেছে। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি-র (ICC) কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বৃত্তেও তুমুল চর্চা। আর ঠিক এই সময়েই পাক ক্রিকেট বোর্ড প্রধান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) নতুন করে আগুনে ঘি ঢাললেন।
বুধবার তিনি নিজের এক্স (X)-অ্যাকাউন্টে পোস্ট করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) একটি স্লো-মোশন ভিডিও। যেখানে খেলার মুহূর্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিআরসেভেনকে হঠাৎ বিমান ভেঙে পড়ার ভঙ্গি নকল করতে দেখা যায়। অনেকের মতে, রোনাল্ডো আসলে তাঁর ফ্রি-কিকের ডিপের ব্যাপারে কিছু বোঝাচ্ছিলেন। কিন্তু এই মুহূর্তে এমন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
If ICC has any shame left, they should ban Pakistan cricket for 2 years.
ACC Chairman Mohsin Naqvi openly mocked India by putting this pic intentionally, this is unacceptable
🚨🚨 pic.twitter.com/6ensE59cbr— Space Recorder (@1spacerecorder) September 24, 2025
এর আগে রউফ ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির উসকানিতে এই কায়দায় প্রতিক্রিয়া জানান। ভারতীয় দর্শকরা ‘কোহলি-কোহলি’চিৎকার করছিল যখন, তার জবাবে তাঁর হাতের ভঙ্গিমায় বিমান ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত ফুটে ওঠে। ব্যাখ্যা স্পষ্ট—ভারতের সামরিক অভিযান নিয়ে খোঁচা। পাক মিডিয়া অপারেশন সিঁদুরের সময় ছ’খানা ভারতীয় বিমান জোর করে নামানো নিয়ে জোরদার প্রচার চালায়। যা পরে অসত্য বলে প্রমাণিত হয়। যদিও রউফ কিংবা তাঁর সতীর্থ সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan) কেউ জেট বিমান, কেউ ম্যাচে বন্দুক চালানোর ভঙ্গি করে বিতর্কে জড়াচ্ছেন!
এবার নকভির শেয়ার করা ভিডিও নিয়েই শোরগোল। অভিযোগ: পাকিস্তানের মন্ত্রী এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হয়েও তিনি প্রকাশ্যে ভারতকে বিদ্রুপ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে একজন লেখেন, ‘যদি আইসিসির লজ্জা থেকে থাকে, তাহলে পাকিস্তানকে অন্তত দু’বছরের জন্য নির্বাসিত করুক!’
এই অবস্থায় বড় প্রশ্ন—এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতীয় দল যদি ট্রফি হাতে তুলে নেয়, তবে কি তারা নকভির সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়াবে? আইসিসি এবং বিসিসিআই (BCCI) দুই সংস্থা বিষয়টিতে গভীর নজর রাখলেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে গুঞ্জন থামছে না। তাই নকভির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটাই দেখার।
এদিকে, একই দিনে সাংবাদিক বৈঠকে পাক পেসার শাহিন আফ্রিদিকে (Shaheen Afridi) প্রশ্ন করা হয় রউফ–ফারহানদের ভঙ্গি নিয়ে। তিনি অবশ্য গুটিয়ে এসে জবাব দেন, ‘আমাদের কাজ ক্রিকেট খেলা। কে কীভাবে উদযাপন করবে, সেটা ওদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রত্যেকেরই ভাবনার স্বাধীনতা আছে।’ আফ্রিদি যাই বলুন না কেন, একটা কথা পরিষ্কার—ক্রিকেট মাঠে বারবার এমন প্রতীকী ইশারায় কেবল খেলার সীমারেখা ঝাপসা হচ্ছে না, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপও চড়চড়িয়ে বাড়ছে।