বিশেষজ্ঞদের মতে, রসিকতার আড়ালে ইমরান ক্রিকেটের মুখোশে প্রকারান্তরে বোর্ড ও সরকারের অযোগ্যতাকে বিঁধেছেন। এর আগে প্রকাশ্যে অনেকবার নকভিকে ‘অযোগ্য’ ও ‘স্বজনপোষক’ বলে আখ্যা দেওয়া জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আবারও খোলাখুলি বুঝিয়ে দিলেন, নকভির হাতে পাকিস্তান ক্রিকেট কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইমরান ও নকভি
শেষ আপডেট: 23 September 2025 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে ভরাডুবি, মাঠের বাইরে চরম বিতর্ক। আর এতকিছুর ভিড়ে ফের একবার আলোচনায় পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক, কিংবদন্তি অলরাউন্ডার, দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো দলনেতা ইমরান খান (Imran Khan)। এবার জেল থেকে ছুড়লেন তির। লক্ষ্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মসনদ। ব্যঙ্গের সুরে জানালেন—ভারতকে হারাতে চাইলে পাকিস্তানের জার্সিতে ওপেনিংয়ে নামতে হবে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) আর আর্মি চিফ আসিম মুনিরকে (Asim Munir)। এ ছাড়া টিম ইন্ডিয়াকে কুপোকাত করার অন্য কোনও গতি নেই।
রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে (Dubai International Stadium) এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) সুপার ফোর ম্যাচে ভারত আবারও সহজে হারিয়ে দেয় পাকিস্তানকে। ১৭২ রানের টার্গেট ৭ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) টিম। অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) একাই ঝড় তোলেন। ৩৯ বলে ৭৪ রানের দুরন্ত ইনিংস। শাহিন শাহ আফ্রিদি (Shaheen Shah Afridi) আর হ্যারিস রউফ (Haris Rauf) মুখে বড় বড় কথা বললেও বল হাতে নির্বিষ। শুভমান গিলের (Shubman Gill) সঙ্গে প্রথম উইকেটে ১০৫ রানের জুটি পাক বোলিং লাইন আপকে কার্যত চুরমার করে দেয়।
এই হারের পরেই ধেয়ে আসে ইমরানের কটাক্ষ। সোমবার আলিমা খান (Aleema Khan) সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন দাদার বক্তব্য। বলেন, ‘প্রাক্তন অধিনায়ক জানিয়েছেন—ভারতকে হারাতে চাইলে পাকিস্তানের হয়ে ওপেনিংয়ে নামুক নকভি আর আসিম মুনির। আম্পায়ারিং করুক সাবেক প্রধান বিচারপতি কাজি ফয়েজ ইশা (Qazi Faez Isa) আর নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজা (Sikandar Sultan Raja)।’ এখানেই থামেননি ইমরান। যোগ করেন, ‘ইসলামাবাদ হাইকোর্টের চিফ জাস্টিস সরফরাজ ডোগার থার্শ আম্পায়ার হলে ভাল হয়!’
বিশেষজ্ঞদের মতে, রসিকতার আড়ালে ইমরান ক্রিকেটের মুখোশে প্রকারান্তরে বোর্ড ও সরকারের অযোগ্যতাকে বিঁধেছেন। এর আগে প্রকাশ্যে অনেকবার নকভিকে ‘অযোগ্য’ ও ‘স্বজনপোষক’ বলে আখ্যা দেওয়া জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আবারও খোলাখুলি বুঝিয়ে দিলেন, নকভির হাতে পাকিস্তান ক্রিকেট কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইমরানের রাজনৈতিক আক্রমণ নতুন কিছু নয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (PTI) ম্যান্ডেট ‘চুরি’ করেছেন আসিম মুনির—এই অভিযোগে সোচ্চার হন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে একাধিক মামলায় জেলবন্দি। সেখান থেকেই ছুড়ে দিচ্ছেন এমন বার্তা, যা শাসকবর্গ থেকে ক্রিকেট বোর্ড—সবাইকে অস্বস্তিতে ফেলছে।
এদিকে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ভরাডুবি নিয়ে নকভি প্রশাসন বিস্তর চাপে। গ্রুপ পর্বে ভারত ম্যাচের পর করমর্দন না করার নাটক ঘিরে বিতর্কের ঝড় ওঠে। পিসিবি অভিযোগ তোলে, রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট (Andy Pycroft) নাকি ইচ্ছে করে সূর্যকুমার আর সলমন আঘার হাত মেলাতে দেননি। এরপরই পাক ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে (ICC) জানায়, পাইক্রফটকে সরাতে হবে। হুমকি দেয়, নাহলে তারা টুর্নামেন্ট বয়কট করবে। কিন্তু ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা কিছুতেই রাজি না হওয়ায় শেষমেশ পাকিস্তানকে খেলতেই হয়েছে।
নকভির ভূমিকা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি পিসিবি চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। ফলে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে জুড়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক মাত্রা। এশিয়া কাপে বারবার নিয়ম ভাঙা, ম্যাচের আগের বাধ্যতামূলক সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করা—সব মিলিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না।
অন্যদিকে ভারতীয় দলের দাপটও পাকিস্তানের অসহায়তাকে আরও প্রকট করছে। আঘাদের ব্যাটিং লাইন আপ ভালো শুরু করেও ভেঙে পড়ছে। রবিবার ১০ ওভারে ৯১ রানে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৭১-এ থেমে যায় পাকিস্তান। তারপর অভিষেক-গিলের তাণ্ডব সামলানোর ক্ষমতাই রইল না।
এই অবস্থায় ইমরানের কটাক্ষ পড়শি মুলুকের ক্রিকেটের জন্য কার্যত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। দল মাঠের লড়াই ব্যর্থ, আর দেশের ভূতপূর্ব নেতা সরাসরি বোর্ডকে বিদ্রুপ করছেন। তাঁর বক্তব্যে ব্যঙ্গ আছে, কিন্তু পাশাপাশি রয়েছে নির্জলা সত্যিও। এই সত্যি বলছে: পাকিস্তান ভারতকে হারাতে মরিয়া হলেও ময়দানি লড়াইয়ে দুই দলের মানের ফারাক দিন দিন বেড়েই চলেছে।