প্রিমিয়ার লিগের দৌড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। একদিকে টলছে লিভারপুল, উঠছে ম্যান ইউ, আর সবকিছুর মধ্যে ‘এই ভাল, এই খারাপ’ নিয়ে টালমাটাল চেলসি।
.jpeg.webp)
দুরন্ত ছন্দে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
শেষ আপডেট: 26 October 2025 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রিমিয়ার লিগে (Premier League) ফের হার। এই নিয়ে টানা চার নম্বর ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়ল গেলবারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল (Liverpool)। এবার ব্রেন্টফোর্ডের (Brentford) মাঠে। স্কোরলাইন ২–৩ হলেও লড়াই, অপ্রত্যাশিতভাবে, একপেশে। যার জেরে পয়েন্ট তালিকায় গড়াতে গড়াতে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেল আর্নে স্লটের টিম।
অন্যদিকে, চেলসি (Chelsea) ঘরের মাঠে শেষ মুহূর্তে হোঁচট খেল নবাগত সান্ডারল্যান্ডের (Sunderland) বিরুদ্ধে। আর সবাইকে চমকে গিয়ে দুরন্ত ফর্ম ধরে রাখল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (Manchester United)। হারাল ব্রাইটনকে। উঠে এল শীর্ষ চারে।
ব্রেন্টফোর্ড ম্যাচে শুরু থেকেই তাল খুইয়ে ফেলে লিভারপুল। ২৬ মিনিটে মাইকেল কায়োডের (Michael Kayode) লং থ্রো থেকে দাঙ্গো ওয়াটারা (Dango Ouattara) করেন প্রথম গোল। বিরতির ঠিক আগে কেভিন শাডে (Kevin Schade) ব্যবধান বাড়ান (২–০)। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে মিলোস কেরকেজ (Milos Kerkez) কনর ব্র্যাডলির (Conor Bradley) পাস থেকে এক গোল শোধ করে লড়াইয়ে ফেরার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখেন।
যদিও দ্বিতীয়ার্ধে সমস্ত আশায় জল ঢেলে পেনাল্টি থেকে ইগর তিয়াগো (Igor Thiago) গোল করে ব্রেন্টফোর্ডকে ফের এগিয়ে দেন (৩–১)। ম্যাচের অন্তিম লগ্নে মহম্মদ সালাহ (Mohamed Salah) ব্যবধান কমালেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ। এই নিয়ে লিগে লিভারপুলের টানা চার নম্বর পরাজয়—২০২১ সালের পর প্রথমবার! ম্যাচ শেষে কোচ আর্নে স্লট (Arne Slot) বিমূঢ়। বলেন, ‘আমাদের যা করার কথা ছিল, সেটা ঠিকভাবে হয়নি। কিছু জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন, যদিও আজ বেসিক ভুলই সর্বনাশ করেছে!’
অন্যদিকে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দারুণ ছন্দে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ব্রাইটনের (Brighton & Hove Albion) বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর ৪–২ স্কোরলাইনে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে তালিকায় চারে উঠে এল রুবেন আমোরিমের টিম। মাতেউস কুনিয়া (Matheus Cunha), কাসেমিরো (Casemiro) ও ব্রায়ান এমবিউমোর (Bryan Mbeumo) গোলে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। যদিও ড্যানি ওয়েলবেক (Danny Welbeck) ও চারালামপোস কস্তৌলাস (Charalampos Kostoulas) ব্রাইটনকে লড়াইয়ে ফেরান। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে। শেষমেশ এমবিউমোর দু’নম্বর গোলেই জয় পাকা হয় রেড ডেভিলদের (Red Devils)। জোড়া গোলের মালিক, ম্যাচের নায়ক, লড়াই শেষে বলেন, ‘শুরুটা সহজ ছিল না। কিন্তু এখন দলের সঙ্গে বোঝাপড়া দারুণ হচ্ছে। আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি।’
এতকিছুর মধ্যে, চেলসির ঘরের মাঠে অঘটন। চলতি মরশুমে দ্বিতীয় ডিভিশন থেকে আসা সান্ডারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কুপোকাত এনজো মারেসকার টিম। শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলে ‘ব্যাক ক্যাটস’রা টানটান দ্বৈরথ জিতে নেয় (২–১)। চতুর্থ মিনিটে অ্যালেহান্দ্রো গারনাচো (Alejandro Garnacho) এগিয়ে দেন চেলসিকে। ২২ মিনিটে উইলসন ইসিদর (Wilson Isidor) সমতা ফেরান। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখন ইনজুরি টাইমে বদলি খেলোয়াড় চেমসদিনে তালবি (Chemsdine Talbi) ব্রায়ান ব্রবির (Brian Brobbey) পাস থেকে দারুণ কার্ভ শটে গোল করে দলকে এনে দেন তিন পয়েন্ট। সান্ডারল্যান্ড কোচ রেজিস লে ব্রিস (Regis Le Bris) যথারীতি আপ্লুত। বলেন, ‘শুরুর গোল খাওয়ার পর দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল, তাতে আমি গর্বিত। সুযোগ পেয়ে কাজে লাগানোই আসল!’ এই হারের জেরে চেলসি নেমে গেল অষ্টম স্থানে, অন্যদিকে সান্ডারল্যান্ড উঠে এল দু’নম্বরে।
কালকের অন্য একটি ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেড (Newcastle United) ঘরের মাঠে ফুলহ্যামকে (Fulham) হারায় ২–১ স্কোরলাইনে। জেকব মারফির (Jacob Murphy) গোলে এগিয়ে যায় ম্যাগপাইরা (Magpies)। এরপর সাসা লুকিচ (Sasa Lukic) সমতা ফেরালেও ৮৯ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের (Bruno Guimaraes)- গোল জয় এনে দেয় এডি হাওয়ের (Eddie Howe) দলকে। যিনি ম্যাচ খতম হতেই বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে জেতা শুধু পয়েন্ট নয়, দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। এর প্রভাব পুরো সিজনে দেখা যাবে।’
আপাতত নিউক্যাসল ১১ নম্বরে, ব্রেন্টফোর্ড ১০ নম্বরে আর ফুলহ্যাম নেমে গিয়েছে ১৬–তে। প্রিমিয়ার লিগের দৌড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। একদিকে টলছে লিভারপুল, উঠছে ম্যান ইউ, আর সবকিছুর মধ্যে ‘এই ভাল, এই খারাপ’ নিয়ে টালমাটাল চেলসি।