টটেনহ্যামের সামনে ১৩ অগস্ট ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ফাইনাল আছে প্যারিস সাঁ জারমাঁর বিরুদ্ধে। তবে তার আগেই সন আমেরিকা পাড়ি দিতে পারেন।

সন হিউং-মিন
শেষ আপডেট: 3 August 2025 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশ বছর আগে এক তরুণ ফুটবলার এলেন উত্তর লন্ডনে। ইংরেজি বলতে সড়গড় নন। কিন্তু বলপায়ে ক্ষিপ্র। খেলেন লেফট উইংয়ে। দরকার পড়লে স্ট্রাইকার পজিশনেও কাজ চালাতে জানেন।
এক দশক পর, সেদিনের অনভিজ্ঞ, এখন তারকা ফুটবলার সন হিউং-মিন ঘোষণা করলেন—টটেনহ্যামকে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি। সামনের মরশুম খেলবেন অন্য দেশে, অন্য লিগে৷
৩৩ বছরের এই ফরোয়ার্ড ২০১৫ সালে বায়ার লেভারকুজেন থেকে যোগ স্পার্সে যোগ দেন। ৪৫৪ ম্যাচে ১৭৩ গোল করে ইতিমধ্যে ক্লাবের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। গত মে মাসেই ইউরোপা লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে ১৭ বছর পর প্রথম ট্রফি জেতে টটেনহ্যাম। সেই ম্যাচে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ছিল সনের হাতে।
চুক্তি রয়েছে ২০২৬ পর্যন্ত। তবু এবার নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোরিয়ান উইঙ্গার। মার্কিন মেজর লিগ সকারের ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে। রবিবার সিউলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে নামবেন। সেটাই হতে পারে টটেনহ্যাম জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ। নিজের দেশেই বিদায়? সন বললেন, ‘উত্তর লন্ডনে এসেছিলাম একদম অল্প বয়সে। ইংরেজি পর্যন্ত বলতে পারতাম না। আজ আমি পরিণত মানুষ হয়ে এই ক্লাব ছেড়ে যাচ্ছি—এটা আমার জীবনের গর্বের মুহূর্ত!’
নতুন কোচ টমাস ফ্রাঙ্ক জুনে অ্যাঞ্জ পোস্টেকগ্লুকে সরিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। বিদায়ের মুহূর্তে তাঁর গলায় ঝরে পড়ল অকুণ্ঠিত প্রশংসা, ‘সন একজন সত্যিকারের স্পার্স কিংবদন্তি। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসেও সেরা ফুটবলারদের মধ্যে একজন। যদি রবিবারটাই তাঁর শেষ ম্যাচ হয়, নিজের এর চেয়ে সুন্দর বিদায় আর কিছু হতে পারে না!’
টটেনহ্যামের সামনে ১৩ অগস্ট ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ফাইনাল আছে প্যারিস সাঁ জারমাঁর বিরুদ্ধে। তবে তার আগেই সন আমেরিকা পাড়ি দিতে পারেন।
এই এক দশকে সনের ঝুলিতে অসংখ্য রেকর্ড। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ক্লাব অভিষেক। প্রিমিয়ার লিগে ৩৩৩ ম্যাচ, ১২৭ গোল। জিমি ফ্লয়েড হাসেলবেইঙ্কের সঙ্গে যৌথভাবে ১৬তম স্থানে। পেছনে স্টিভেন জেরার্ড, ইয়ান রাইটের মতো তারকা। হ্যারি কেনের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ছিল অনবদ্য। লিগে সবচেয়ে বেশি ৪৭টি গোলের যুগলবন্দি, যার মধ্যে সনের পকেটে ২৪, কেনের ঝুলিতে ২৩। শুধু ২০২০-২১ আর ২০২১-২২ সিজনেই তাঁরা ২১ বার একে অপরকে দিয়ে গোল করিয়েছেন!
এশিয়ার প্রথম ফুটবলার হিসেবে সন ২০২১-২২ মরশুমে প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জেতেন। পরের বছর লিগে শততম গোল করে গড়ে ফেলেন আরও এক ইতিহাস।
টটেনহ্যামের হয়ে ১০১টি অ্যাসিস্ট। প্রিমিয়ার লিগে ৭১, যা ক্লাব-ইতিহাসে সর্বাধিক। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবের ষষ্ঠ সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড—সামনে কেবল সিরিল নোলস, প্যাট জেনিংস, গ্যারি ম্যাববাট, স্টিভ পেরিম্যান আর গ্লেন হডল। ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। ২০২৩ সালের অগস্টে হুগো লরিসকে সরিয়ে ক্লাবের স্থায়ী অধিনায়ক নির্বাচিত হন।
বিদায়ের প্রাককালে কষ্ট চেপে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী সন। স্পষ্ট সুরে বললেন, ‘একটা নতুন পরিবেশ দরকার। নিজেকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে চাই। দশ বছর অনেক লম্বা সময়। বারবার ভেবেছি—নতুন কোথাও খেলে দেখতে চাই কি না। অবশেষে পাকা সিদ্ধান্ত!’