এল ক্লাসিকো মানেই উত্তেজনা। কিন্তু এবারের ম্যাচে বাড়তি চাপ দুই কোচের কাঁধে। আলোনসো নিজের প্রথম ক্লাসিকো জিততে মরিয়া, ফ্লিক চাইছেন গত মরশুমের ট্র্যাডিশন ধরে রাখতে।

এল ক্লাসিকো
শেষ আপডেট: 26 October 2025 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ (ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে) সান্তিয়াগো বের্নাবেউ (Santiago Bernabéu) স্টেডিয়ামে মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)-বার্সেলোনা (Barcelona)। দু’দলের মধ্যে মাত্র দুই পয়েন্টের ফারাক। মরশুম সবে শুরু। তবু হরেদরে দ্বিমুখী লিগের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে চাইলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। যে কারণে বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ মনে করছেন, সিজনের পয়লা এল ক্লাসিকো লা লিগার (La Liga) ভাগ্য অনেকখানি নির্ধারণ করে দিতে পারে।
রিয়ালের কোচ জাবি আলোনসো (Xabi Alonso)। খেলোয়াড় হিসেবে একসময় এই ক্লাবেরই মিডফিল্ডের ভরসা। এবার তাঁর কোচিংয়ের প্রথম এল ক্লাসিকো (El Clásico)। সবচেয়ে বড় স্তম্ভ কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappé)। চলতি মরশুমে ১১ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন ফরাসি তারকা। প্রতি ম্যাচেই গতি আর ফিনিশিং রিয়ালকে ভরসা জুগিয়ে চলেছেন। পাশে ভিনি জুনিয়র (Vinícius Júnior)। গোড়ায় খানিক নড়বড়ে দেখালেও ধীরে ধীরে ফর্মে ফিরছেন। মাঝমাঠে তরুণ আরদা গুলার (Arda Güler) ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করছেন!
গেলবারের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে রিয়াল এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। আলোনসোর অধীনে দল বল হারালেও সঙ্গে সঙ্গে প্রেস করে পজেশন ফেরানোর চেষ্টায় মরিয়া। ডিফেন্সও তুলনামূলক দৃঢ়। তবু বড় ম্যাচে কিছু ভুল রয়ে গেছে—আতলেতিকো মাদ্রিদের (Atlético Madrid) কাছে ২–৫ হারের স্মৃতি এখনও টাটকা।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার। অবস্থা তেমন স্বস্তিদায়ক নয়। কোচ হান্সি ফ্লিক (Hansi Flick) বলছেন, ‘আমরা এখনও গত বছরের ছন্দে ফিরিনি।’তার উপর চিন্তা বাড়িয়েছে চোট-আঘাতের সমস্যা। রাফিনিয়া (Raphinha), লেওয়ানডস্কি (Robert Lewandowski), গাভি (Gavi), ওলমো (Dani Olmo)—সবাই বাইরে। ফ্লিক তাই সীমিত বিকল্প নিয়েই দল সাজাতে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে রেজাল্ট খুব একটা খারাপ নয়। রিয়ালের থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে বার্সা। চ্যাম্পিয়নস লিগে (Champions League) তিন ম্যাচে দুটিতে জয়। সপ্তাহের মাঝামাঝি অলিম্পিয়াকোসকে (Olympiacos) ৬–১ হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে তারা। কামব্যাক করেছেন তরুণ লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal), যে কোনও মুহূর্তে একা হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন তিনি।
গত সিজনে বার্সা এই লড়াইয়ে পুরোপুরি আধিপত্য দেখিয়েছিল। সমস্ত প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়ালকে চারবার হারায়—দু’বার লিগে, একবার কোপা দেল রে (Copa del Rey) ফাইনাল আর এক স্প্যানিশ সুপার কাপে (Spanish Supercopa)। চার ম্যাচে বার্সা করেছিল ১৬ গোল, খেয়েছিল ৭। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।
রিয়াল কিন্তু আগের মতো দুর্বল নয়। এমবাপে চেনা মেজাজে। অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আগের ক্লাসিকোতে ছয়বার অফসাইডে্র ফাঁদে ধরা দেন। এবার আলোনসোর পরিকল্পনা স্পষ্ট—দল বল দ্রুত উপরে তুলবে, যাতে ফরাসি স্ট্রাইকার বার্সার ‘হাই লাইন’ডিফেন্স ভেঙে ফেলতে পারেন।
বার্সার ভরসা ইয়ামাল। মাত্র ১৭ বছর বয়স। তবু দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেওয়াই তাঁর পছন্দের চাল। ইউরোপের পাঁচটি বড় লিগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলের চেষ্টা করেছেন। বড় ম্যাচে তাঁর আত্মবিশ্বাসই বার্সেলোনাকে সাহজ জোগাবে।
আঘাতের দিক থেকে রিয়ালের অবস্থা কিছুটা ভালো। ডানি কারভাহাল (Dani Carvajal) ও ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড (Trent Alexander-Arnold) ফিরতে পারেন। মাঝমাঠে দানি সেবায়োসকে (Dani Ceballos) নিয়ে এখনও সংশয়। বার্সেলোনা শিবিরে তের স্টেগান (Marc-André ter Stegen), রাফিনিয়া, গাভি ও লেওয়ানডস্কি—সবাই বাইরে। তবে ফেরান তোরেস (Ferran Torres) ও ইয়ামাল ফিরেছেন, যা ফ্লিককে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।
এল ক্লাসিকো মানেই উত্তেজনা। কিন্তু এবারের ম্যাচে বাড়তি চাপ দুই কোচের কাঁধে। আলোনসো নিজের প্রথম ক্লাসিকো জিততে মরিয়া, ফ্লিক চাইছেন গত মরশুমের ট্র্যাডিশন ধরে রাখতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমবাপেরা সামান্য হলেও এগিয়ে। ফর্ম, আত্মবিশ্বাস আর হোম অ্যাডভান্টেজ—সব মিলিয়ে তাঁদের দিকেই ঝুঁকছে পাল্লা। অনুমান, রিয়াল জিততে পারে ৩–১ ব্যবধানে। তবে বার্সা প্রথমে গোল পেলে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত টানটান পরিণতির দিকে গড়াবে।