বার্সার ভরসা ইয়ামাল। মাত্র ১৭ বছর বয়স। তবু দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেওয়াই তাঁর পছন্দের চাল।

সান্তিয়াগো বের্নাবেউ
শেষ আপডেট: 26 October 2025 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ রবিবার। আজ এল ক্লাসিকোর (El Clásico) দিন।
মাদ্রিদের রাস্তায় রাস্তায় বিলবোর্ড জ্বলজ্বল করেছে। তাতে লেখা: ‘রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid) বনাম বার্সেলোনা (Barcelona)!’ মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনও কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার আগে এমবাপেদের ময়দান সান্তিয়াগো বের্নাবেউ (Santiago Bernabéu) সাজছে এক বিশেষ চমকে। খবর: আজ স্টেডিয়ামজুড়ে দেখা যাবে এক সুবিশাল টিফো (Tifo)! যাতে লেখা একটাই শব্দ—‘গ্রেটনেস’ (GREATNESS)।
স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক মার্কা (Marca) জানিয়েছে, রিয়ালের সমর্থক গোষ্ঠী ‘আলট্রাস সুর’ (Ultras Sur) এই প্রস্তুতির আয়োজক। ক্লাবের ইতিহাস, গৌরব আর আত্মসম্মানের প্রতীক হিসেবে এই টিফো পুরো ৮১ হাজার আসনে ছড়িয়ে পড়বে। দলের ১৪টি ইউরোপিয়ান কাপ (European Cups)–সহ শতবর্ষের সাফল্যকে মেলে ধরার পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবকে মানসিকভাবে ব্যাকফুটে রাখার কৌশল এই অতিকায় ব্যানার প্রদর্শন।
লিগ টেবিলে রিয়াল এই মুহূর্তে শীর্ষে, বার্সার থেকে দুই পয়েন্ট এগিয়ে। জাবি আলোনসোর (Xabi Alonso) দল যদি আজকের লড়াই জিতে নেয়, তাহলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে পাঁচে। সেই দ্বৈরথের আগেই টিফো বিছিয়ে রাখার পরিকল্পনা আসলে নিপাট আধিপত্যের ঘোষণা। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যানার খুলবে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে। আলো, সাউন্ড আর গ্যালারির সাদা সমুদ্র মিলেমিশে বের্নাবেউ হয়ে উঠবে এক অনবদ্য ভিজ্যুয়াল স্পেকট্যাকল। এমন আয়োজন শেষ দেখা গিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (Champions League) ফাইনালের সময়।
রিয়ালের তারকারাও প্রস্তুত। কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappé) এই মুহূর্তে দুরন্ত ফর্মে, গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে। থিবো কুর্তোয়া (Thibaut Courtois) গোলপোস্টের তলায় দস্তানা হাতে ভরসা জোগাচ্ছেন। কোচ আলোনসো জানেন, এল ক্লাসিকো কেবল পয়েন্ট নয়—আপাদমস্তক গরিমা ও মর্যাদার প্রশ্নও বটে। নিজেও রিয়ালের খেলোয়াড় ছিলেন। এই লড়াইয়ের আসল মহিমা বিলক্ষণ জানেন।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার অবস্থা তেমন স্বস্তিদায়ক নয়। কোচ হান্সি ফ্লিক (Hansi Flick) বলছেন, ‘আমরা এখনও গত বছরের ছন্দে ফিরিনি।’তার উপর চিন্তা বাড়িয়েছে চোট-আঘাতের সমস্যা। রাফিনিয়া (Raphinha), লেওয়ানডস্কি (Robert Lewandowski), গাভি (Gavi), ওলমো (Dani Olmo)—সবাই বাইরে। ফ্লিক তাই সীমিত বিকল্প নিয়েই দল সাজাতে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে রেজাল্ট খুব একটা খারাপ নয়। রিয়ালের থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে বার্সা। চ্যাম্পিয়নস লিগে (Champions League) তিন ম্যাচে দুটিতে জয়। সপ্তাহের মাঝামাঝি অলিম্পিয়াকোসকে (Olympiacos) ৬–১ হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে তারা। কামব্যাক করেছেন তরুণ লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal), যে কোনও মুহূর্তে একা হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন তিনি।
গত সিজনে বার্সা এই লড়াইয়ে পুরোপুরি আধিপত্য দেখিয়েছিল। সমস্ত প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়ালকে চারবার হারায়—দু’বার লিগে, একবার কোপা দেল রে (Copa del Rey) ফাইনাল আর এক স্প্যানিশ সুপার কাপে (Spanish Supercopa)। চার ম্যাচে বার্সা করেছিল ১৬ গোল, খেয়েছিল ৭। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।
রিয়াল কিন্তু আগের মতো দুর্বল নয়। এমবাপে চেনা মেজাজে। অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আগের ক্লাসিকোতে ছয়বার অফসাইডে্র ফাঁদে ধরা দেন। এবার আলোনসোর পরিকল্পনা স্পষ্ট—দল বল দ্রুত উপরে তুলবে, যাতে ফরাসি স্ট্রাইকার বার্সার ‘হাই লাইন’ডিফেন্স ভেঙে ফেলতে পারেন।
বার্সার ভরসা ইয়ামাল। মাত্র ১৭ বছর বয়স। তবু দলের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেওয়াই তাঁর পছন্দের চাল। ইউরোপের পাঁচটি বড় লিগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলের চেষ্টা করেছেন। বড় ম্যাচে তাঁর আত্মবিশ্বাসই বার্সেলোনাকে সাহজ জোগাবে।
আঘাতের দিক থেকে রিয়ালের অবস্থা কিছুটা ভালো। ডানি কারভাহাল (Dani Carvajal) ও ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড (Trent Alexander-Arnold) ফিরতে পারেন। মাঝমাঠে দানি সেবায়োসকে (Dani Ceballos) নিয়ে এখনও সংশয়। বার্সেলোনা শিবিরে তের স্টেগান (Marc-André ter Stegen), রাফিনিয়া, গাভি ও লেওয়ানডস্কি—সবাই বাইরে। তবে ফেরান তোরেস (Ferran Torres) ও ইয়ামাল ফিরেছেন, যা ফ্লিককে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।
এল ক্লাসিকো মানেই উত্তেজনা। কিন্তু এবারের ম্যাচে বাড়তি চাপ দুই কোচের কাঁধে। আলোনসো নিজের প্রথম ক্লাসিকো জিততে মরিয়া, ফ্লিক চাইছেন গত মরশুমের ট্র্যাডিশন ধরে রাখতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমবাপেরা সামান্য হলেও এগিয়ে। ফর্ম, আত্মবিশ্বাস আর হোম অ্যাডভান্টেজ—সব মিলিয়ে তাঁদের দিকেই ঝুঁকছে পাল্লা। অনুমান, রিয়াল জিততে পারে ৩–১ ব্যবধানে। তবে বার্সা প্রথমে গোল পেলে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত টানটান পরিণতির দিকে গড়াবে।