সঞ্জয় সেন টিম ইন্ডিয়ার হেড স্যার মানোলো সম্পর্কে বলেছেন, “উনি কি জানেন যে, ভারতে সন্তোষ ট্রফি নামে একটি টুর্নামেন্ট হয়। যে টুর্নামেন্ট একসময় ছিল ভারতীয় ফুটবলের সাপ্লাই লাইন।
.png.webp)
সঞ্জয় সেন
শেষ আপডেট: 27 May 2025 16:22
বাঙালি ফুটবল কোচদের (Bengali Football Coach) তালিকার প্রথম সারিতেই নাম থাকবে চেতলার সঞ্জয় সেনের নাম (Sanjay Sen)। বহু সাফল্যের কাণ্ডারি তিনি। তাঁর হাত ধরে দেশর ফুটবলে স্থান করে নিয়েছেন প্রচুর ফুটবলার। মোহনবাগানকে আই লিগ এনে দিয়েছেন। আইএসএলেও তাঁকে কোচিং স্টাফদের সদস্য হিসাবে দেখা গিয়েছে, স্কাউটিংয়ে দেখা গিয়েছে। এবার তাঁর কোচিংয়েই বাংলা সন্তোষ ট্রফি (Santosh Trophy) চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
সোমবার মানোলো মার্কুয়েজের (Manolo Marquez) ছাত্ররা মুখোমুখি হয়েছিলেন সঞ্জয় সেনের সন্তোষ ট্রফি জয়ী শিষ্যদের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে বাংলা ভারতের (India) কাছে ১-২ গোলে হেরে গেলেও, মনবীর, শুভাশিসদের যথেষ্ট বেগ দিয়েছে সন্তোষজয়ী বাংলা দল (Santosh Trophy Winner Bengal)।
সামনেই এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে হংকংয়ের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এই দুই ম্যাচের আগে কলকাতায় প্রস্তুতি শিবির চলছে ভারতের। প্রস্তুতিরই অঙ্গ হিসাবে সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলা দলের বিরুদ্ধে সোমবার নেমেছিল মেন ইন ব্লুজ। সেই ম্যাচে ভারত জিতলেও সেই দলের ত্রুটি-বিচ্যুতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন বঙ্গ সন্তানরা। সঞ্জয় সেনের প্রশিক্ষণাধীন সন্তোষ জয়ী দলের বিরুদ্ধে মানোলো মার্কেজের ফুটবলাররা জয় পেয়েছে ২-১ গোলে।
এই ম্যাচ নিয়ে ‘দ্য ওয়াল’কে বাংলা দলের কোচ সঞ্জয় সেন বললেন, “ছেলেরা এসে বলল তারা ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চায়। আমি ওদের আইএফএ অফিসে ডাকলাম। এখন তো মরশুম শেষ, তাই আমি জানতাম না কে কী অবস্থায় রয়েছে। তবে ওদের ইচ্ছেটা প্রবল ছিল। আসলে জাতীয় দলের কোচের সামনে নিজেদের প্রমাণ করতে চাইছিল ওরা। আমরা মাত্র তিন দিনের প্রস্তুতিতে দল নামিয়েছি। তবে হারলেও ছেলেরা খুবই ভাল খেলেছে। ওরা বহুদিন অনুশীলনের মধ্যে ছিল না। কিন্তু তিনদিনের প্রস্তুতিতে ওরা যেভাবে লড়াই করেছে তা প্রশংসনীয়।”
ভারতীয় দল সম্পর্কে সন্তোষজয়ী কোচ বলেন, “আমরা বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেছি। সেগুলি গোলে পরিণত হলে আমরা জিতে যেতেও পারতাম। মানোলোর দলের মধ্যে পরিকল্পনার অভাব ছিল। ওদের কোনও প্ল্যান ‘বি’ ছিল না। যদিও এই বিষয়টি মানালোই বলতে পারবেন। ওনার তো একটা পরিকল্পনা নিশ্চই ছিল। তবে এটাও মানতে হবে যে ওরা অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দুই বেলা হার্ড ট্রেনিং হচ্ছে। তাই হয়তো ওদের ক্লান্ত দেখিয়েছে। পাশাপাশি আমি এটা বলব যে, বাংলার ফুটবল যে এখনও বেঁচে রয়েছে, তা রবি, ইসরাফিল, নরহরিরা প্রমাণ করে দিয়েছে।”
সন্তোষজয়ী বাংলা দলের চাণক্য মনে করছেন, গত কালের ম্যাচে বাংলার ফুটবলাররা অনেক ভাল খেলেছেন মানোলোর ছাত্রদের থেকে। নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। সঞ্জয় সেনের মতে, বাংলা অনেক বেশি ওপেনিং পেয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের দোষে গোল না খেলে ফলাফলটা অন্যরকমও হতে পারত।
ভারতীয় দল সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি না হলেও সঞ্জয় সেন টিম ইন্ডিয়ার হেড স্যার মানোলো সম্পর্কে বলেছেন, “উনি কি জানেন যে, ভারতে সন্তোষ ট্রফি নামে একটি টুর্নামেন্ট হয়। যে টুর্নামেন্ট একসময় ছিল ভারতীয় ফুটবলের সাপ্লাই লাইন। তবে এ বিষয়ে আমি ওনাকে দোষ দেব না। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার (AIFF) দায়িত্ব ছিল ওনাকে বিষয়টি জানানো। এবারের সন্তোষ ট্রফি হয়েছে হায়দরাবাদে। মানালো একসময় হায়দরাবাদের কোচ ছিলেন। তাই আমার মনে হয়, এটা এআইএফএফ-এর মানালোকে জানানো উচিত ছিল যে, সন্তোষ ট্রফি থেকেও ফুটবলার উঠে আসে।”
সঞ্জয় সেনের অভিমত, আসলে ভারতীয় দলে নির্বাচনে গুরুত্ব পায় শুধুমাত্র আইএসএল। আই লিগ, সন্তোষ ট্রফিকে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয় না। তাই প্রতিভা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ফুটবলাররাই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফেডারেশন মনে করে, আইএসএলই প্রাইম, আর কোথাও ফুটবলার নেই। সঞ্জয় সেনের এখানেই প্রশ্ন, “এই ভ্রান্তিটা ভাঙানোর দায়িত্বটা কার? এআইএফএফ-এর বোঝা উচিত যে, রাজ্যস্তরের বিভিন্ন লিগ বা সর্বভারতীয় ট্রফি কিংবা সন্তোষ ট্রফি থেকেও ভাল ফুটবলার স্কাউটিং করা যায়। তবে আমার মূল্যায়ন আর কে শুনবে!”
বাংলার ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য আশাবাদী সঞ্জয় সেন। তিনি বলেছেন, বাংলার ফুটবল এখনও বেঁচে আছে। পাশাপাশি কলকাতার ক্লাবগুলির সম্পর্কেও অভিযোগ আছে তাঁর। বললেন, “আইএফএ নিয়ম করেছে ছয় জন বাঙালি ফুটবলার কলকাতা লিগে বাধ্যতামূলক। এখানেই আমার প্রশ্ন ক্লাবগুলির কাছে, তোমরা চাইলে তো এগারো জন বাঙালি খেলাতে পার। বাংলার ফুটবলের উন্নতির জন্য এটা তো করা উচিত। কেন বাধ্যতামূলক নিয়মের প্রয়োজন হবে? তবে এটা আমি বলব, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য বাংলার ফুটবলের উন্নতি খুবই প্রয়োজন।”