অনেকেই অবাক হলেন বোর্ডের সিদ্ধান্তে, যখন আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য শুধু অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হলেন না তাই নয়, দলেও জায়গা জুটল না শ্রেয়স আইয়ারের।

শ্রেয়স আইয়ার
শেষ আপডেট: 27 May 2025 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুন মাসেই ইংল্যান্ড সিরিজ (England Series)। যে সিরিজের অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শুভমান গিল (Shubhman Gill)। তাঁকেই ব্যাগি ব্লু টুপি মাথায় লর্ডসে টস করতে দেখা যাবে।
জুনের গোড়ায় রয়েছে আইপিএল ফাইনালও (IPL 2025)। যেখানে তাঁর দল পাঞ্জাব কিংসকে (PBKS) নেতৃত্ব দিতে ময়দানে নামতে পারেন শ্রেয়স আইয়ার (Shreays Iyer)। ‘নামতে পারেন’। তার কারণ কিছুই এখনও স্থির নয়।
তাৎপর্যের বিষয় হচ্ছে, জাতীয় দলে নেতৃত্বের জন্য গিলের পাশাপাশি শ্রেয়সের নামও হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছিল। গতবার আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR) খেতাব জিতিয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে টিম ইন্ডিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সাদা বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে চলেছেন। তিরিশ বছরের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান টেস্টের অগ্নিপরীক্ষাতেও সফল। নিজেকে পাকাপোক্ত করতে ঘরোয়া ময়দানে নেমেছিলেন। ছন্দে বেঁধেছেন, রান তুলেছেন। কিন্তু অনেকেই অবাক হলেন বোর্ডের সিদ্ধান্তে, যখন আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য শুধু অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হলেন না তাই নয়, দলেও জায়গা জুটল না শ্রেয়স আইয়ারের।
ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন বীরেন্দ্র সেহওয়াগের মতো একাধিক ক্রিকেটার। সাফ দাবি করেছেন: যদি ঋষভ পন্থকে অধিনায়ক বাছাই না করার কারণ হয় আইপিএলে ধরাশায়ী পারফরম্যান্স, তাহলে একই যুক্তিতে শ্রেয়সকেও দলে নেওয়া উচিত! কারণ তিনি আইপিএলে পাঞ্জাবকে দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।
এবার একই সুরে গলা মেলালেন শশাঙ্ক সিং। পাঞ্জাব কিংসের ব্যাটসম্যান। সহ-অধিনায়কও বটে। শ্রেয়সকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। অধিনায়কত্বকে কোন স্তরে নিয়ে গিয়েছেন, বদলে দিয়েছেন পাঞ্জাব দলের মানসিকতা, সেটা খোলসা করেছেন শশাঙ্ক। গতকাল মুম্বইকে উড়িয়ে প্লে-অফে জায়গা পাকা করার পর জানিয়েছেন, দলের কোনও সদস্যই আনন্দে উড়ছে না! এখনও অনেক কাজ বাকি। আর এই বার্তা দলের অন্দরে চারিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং অধিনায়ক, শ্রেয়স আইয়ার।
মুম্বই-নিধনের সুবাদে ১১ বছর বাদে প্লে-অফের দরজা খুলল পাঞ্জাবের সামনে। এবছরই নয়া দলে এসে অধিনায়কের কুর্সিতে বসেছেন শ্রেয়স। আর প্লে-অফ নিশ্চিত করার পর সাফ জানিয়েছেন, স্রেফ অর্ধেক কাজ হল, বাকি অর্ধেক এখনও বাকি।
শশাঙ্ক বলেছেন, ‘এই সাফল্য উপভোগ করছি। তার কারণ একে অন্যের সাফল্যে আমরা আনন্দিত হই। যদি প্রথম দুই দল না হয়েও আমরা কোয়ালিফাই করতাম, তখনও উৎফুল্ল হতাম। যাই হোক না কেন, এখন শুধুমাত্র অর্ধেক কাজ হয়েছে। বাকি অর্ধেক বাকি।‘
কবে হবে পুরো কাজ? সেই তারিখও বেঁধে দিয়েছেন পাঞ্জাবের সহ-অধিনায়ক শশাঙ্ক। বলেছেন, ‘কাজ শেষ হবে ৩ জুন। ওইদিন মধ্যরাতে আমরা সাংবাদিক সম্মেলনে বসব। তখনই আপনাদের জানাব, হ্যাঁ, এবার সব কাজের ইতি।‘ উল্লেখ্য, ৩ জুন আইপিএলের ফাইনাল। এবার ট্রফি জেতা ছাড়া আর কিছু যে ভাবছে না পাঞ্জাব দল, সেটা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শশাঙ্ক।
কিন্তু এই আগ্রাসী মেজাজ, খেতাব জেতা ছাড়া দ্বিতীয় কিছুতে তুষ্ট না হওয়ার মানসিকতা দলের ডিএনএ-তে ছড়ালেন কে? নেপথ্যে যে অধিনায়ক শ্রেয়সের বড় ভূমিকা রয়েছে, তা সাফ জানিয়েছেন শশাঙ্ক। তিনি বলেছেন, ‘শ্রেয়স শেষ বৈঠকেও জানিয়েছিল, সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছিল, কাজ এখনও অর্ধেক বাকি। অধরা সাফল্য শেষ করতে হবে। প্রথম দুই দলের একটি দল হিসেবে কোয়ালিফাই করাই একমাত্র লক্ষ্য নয়।‘