বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর আইপিএল (IPL) উত্তাপের মধ্যেও দেশের ক্রিকেটমহল সরগরম ছিল ইংল্যান্ড সিরিজ (England Series) নিয়ে।

অজিত আগরকর, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা
শেষ আপডেট: 25 May 2025 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধরি মাছ না ছুঁই পানি।
সাঁটে বললে এই কৌশলেই ইংল্যান্ড সিরিজের দল বাছাই, খেলোয়াড় রদবদল, ক্রিকেটারদের অবসর সংক্রান্ত একগুচ্ছ চাঁচাছোলা প্রশ্নবাণ সামলালেন অজিত আগরকর (Ajit Agarkar)। নির্বাচক প্রধানের যে কায়দায় বাউন্সার মোকাবিলা করা জরুরি, সেই পন্থাই বেছে নিলেন। অর্থাৎ, বললেন অনেক কিছুই। কিন্তু তার নির্যাস সেভাবে কিছুই দাঁড়াল না।
বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর আইপিএল (IPL) উত্তাপের মধ্যেও দেশের ক্রিকেটমহল সরগরম ছিল ইংল্যান্ড সিরিজ (England Series) নিয়ে। বলা ভালো—ইংল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণা নিয়ে। গতকাল তা ঘোষিত হয়েছে এবং প্রত্যাশিতভাবেই উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। কেন মহম্মদ সামি বাদ গেলেন? কেন ফর্মে থাকা সত্ত্বেও শ্রেয়স আইয়ারকে দলে নেওয়া হল না? কেন শুভমানের গিলের হাতেই নেতৃত্বের ভার তুলে দিলেন নির্বাচকরা? জসপ্রীত বুমরাহ, রোহিত-জমানায় যিনি সহ-অধিনায়ক ছিলেন, হিসেবমতো তো তাঁরই টিমের সুপ্রিমো হওয়ার কথা!
সরকারিভাবে স্কোয়াডের খবর সামনে আসতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর। আঠারো জন ক্রিকেটারের যে তালিকা প্রকশিত হয়েছে, সেখানে রোহিত ও বিরাটের জায়গায় দলে ঠাই পেতে চলেছেন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান সাই সুদর্শন ও ডান হাতি করুণ নায়ার। দুজনেই ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। আইপিএলেও ছন্দে রয়েছেন। ‘ম্যান-টু-ম্যান’ আসন ভরাটের কাজ কতটা কঠিন? প্রশ্নের জবাবে আগরকরের সাফ স্বীকারোক্তি, ‘অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা যখন বিদায় নেন, তখন তাঁদের আসন পূর্ণ করাটা সহজ নয়। কিন্তু আরেক চোখে দেখলে—এটা বাকিদের জন্য সুবর্ণ সুযোগও বটে।‘
প্রথম বাউন্সার কোনওমতে সামলালেও আগরকরের কাছে উড়ে আসে দ্বিতীয় ডেলিভারি। এবার বিষাক্ত ইয়র্কার! প্রশ্ন ছিল: ঠিক কখন বা কবে বিরাট টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা নির্বাচকদের জানিয়েছিলেন?
কোনও রকম ধোঁয়াশা না রেখেই স্পষ্ট উত্তর দেন আগরকর। বলেন, ‘এপ্রিলের গোড়াতেই কোহলি জানায়, ও যা দেওয়ার সেটা দিয়ে দিয়েছে। নিজের দাঁড় করানো যোগ্যতামানে যখন কোনও ক্রিকেটার পৌঁছতে পারে না, আমাদের উচিত সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। আমাদের মনে রাখতে হবে, রোহিতও এই দলকে সুন্দরভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছিল।‘
অবসর ঘোষণার পর বিরাটকে আটকানোর চেষ্টা করেননি? সওয়ালের জবাবে কিছুটা হলেও সাবধানী আগরকর। বললেন, ‘বোর্ডের তরফে গত দু’মাস ধরে যোগাযোগ করা হচ্ছিল। কিন্তু কোহলির উত্তর ছিল একটাই—ও মাঠে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছে, আর কিছু দেওয়ার নেই। সত্যি বলতে ব্যাটিং করলেও, না করলেও বিরাট প্রতিটি বলে নিজের ২০০ শতাংশ দিয়েছে।‘
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর ধরেই পরিচিত মেজাজে নেই বিরাট। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে টেকনিকের সমস্যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছিল। যার ফলশ্রুতি বর্ডার-গাভাসকার সিরিজ। পার্থে দুর্দান্ত শতরানের পরেও বাকি ম্যাচে সেভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি। রোহিতের অবস্থা আরও তথৈবচ! গোটা সিরিজে এসেছে মাত্র ৩১ রান। গড় ৬.২! এই সাম্প্রতিক ধরাশায়ী ফর্ম কি দল বাছাইয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে? তাই কি দুজন ক্রিকেটারকে ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা দেখাননি নির্বাচকরা?
প্রশ্নের জবাবে অনেকটাই ব্যাকফুটে এসে আগরকরের জবাব, ‘সিদ্ধান্ত বিরাট কিংবা রোহিতের তরফ থেকে এসেছে। আমাদের উচিত তাকে সম্মান জানানো। সেই সম্মান ওঁরা নিজেরাই আদায় করে নিয়েছেন। সমস্ত সেরা খেলোয়াড়দের মতো রোহিত এবং বিরাটও নিজেদের কাজে এবং নিজেদের কাছে সৎ।‘
এরপরই আলগোছে হলেও সম্ভবত দল বাছাইয়ের আসল কারণটি জুড়ে দেন আগরকর। বলেন, ‘নতুন বিশ্ব ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্র শুরু হচ্ছে। নয়া সাইকেল। ফলে এটা নতুন কিছু তৈরি করার সুযোগও বটে। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। একগাদা বিষয় নিয়ে অনুমান করার বদলে আমাদের সেদিকে মন দেওয়া উচিত। যখন কোনও ক্রিকেটার অবসর নেয়, তাতে আমার কোনও হাত থাকে না। অবসর একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নতুন সাইকেলে নতুন দল গল গড়ে উঠবে।‘
কিন্তু সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে চাউর হয়েছে বিরাট নাকি ইংল্যান্ড যেতে চেয়েছিলেন! সেই জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন! এই দাবি কতটা ঠিক? আগরকর ফ্রন্ট ফুট না বাড়িয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে বলে দেন, ‘কেউ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে তা আর আমাদের উপর থাকে না। বিগত কয়েক বছরে ওরা দেশকে একের পর এক ম্যাচ জিতিয়েছে। এখন নতুনদের সুযোগ নেওয়ার সময়। তবে কোনও সন্দেহ নেই, আমরা ওদের অভাব অনুভব করব।‘