এসিএল২-এ বিদেশি ফুটবলারদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। কিন্তু মোলিনা প্রথম একাদশে রাখলেন মাত্র তিন বিদেশি

হোসে মোলিনা
শেষ আপডেট: 17 September 2025 17:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মরশুমের দুরন্ত সাফল্যের পর মোহনবাগান সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ আরও বেড়েছে। এবারের দল নিয়েও তাঁরা স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছিলেন। তবে চলতি মরশুমে কিন্তু গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাবকে ‘স্বপ্নসন্ধানী’ মনে হচ্ছে না।
প্রথমেই ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হোঁচট খেতে হয়েছে চির-প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে গিয়ে। সমর্থকরা তাও মেনে নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, সবে তো মরশুম শুরু, ফুটবলাররা এখনও ম্যাচ ফিট নন। যে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে গেলে বাগান সমর্থকরা ‘গেল গেল’ রব তুলে রে রে করে ধেয়ে আসতেন, তাঁরা অদ্ভুত সংযম দেখালেন। তাঁদের মনের কথা ছিল, সবে তো মরশুম শুরু, পিকচার আভি বাকি হ্যায়।
মেরিনার্স কোচ হোসে মোলিনাও (Hose Molina) ডার্বি হারের পর আশ্বাস দিয়েছিলেন, এবারও তাঁর ছেলেরা স্বপ্নের ফুটবল খেলবেন। কিন্তু ফের তাল কাটল এসিএল২-এ (ACL2) এসে। এশীয় স্তরের প্রতিযোগিতার শুরুতেই ফের হারের ধাক্কা। তুর্কমেনিস্তানের ক্লাব আহাল এফকে কলকাতায় এসে হারিয়ে দিয়ে গেল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে (Mohunbagan vs Ahal FK)। যথেষ্ট ছন্নছাড়া ফুটবল খেলে শেষ সময়ের গোলে হেরে গেল মোহনবাগান।
মঙ্গলবারের ম্যাচে প্ল্যান বি, সি দূরে থাক, বাগান হেডস্যারের অস্তিনে প্ল্যান এ-ও ছিল না। এসিএল২-এ বিদেশি ফুটবলারদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। কিন্তু মোলিনা প্রথম একাদশে রাখলেন মাত্র তিন বিদেশি, টম অলড্রেড, আলবার্তো রড্রিগেজ ও জেসন কামিংসকে। ফলে প্রথম থেকেই গতবারের মোহনবাগানকে দেখা গেল না। প্রথম থেকেই ম্যাচের রাশ হারাল মেরিনার্স।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য তিনি জেমি ম্যাকলরেন ও রবসন রবিনহোকে নামালেন। কিন্তু কেন নয় বহু যুদ্ধের নায়ক দিমিত্রি পেত্রাতোস, যে অজি ফুটবলার বহু ম্যাচে দলকে পরিত্রাতা হয়ে ম্যাচ জিতিয়েছেন। গতকালের ম্যাচে সেরা হয়েছেন বাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। এতেই বোঝা যাচ্ছে, মোলিনার ছাত্ররা কতটা চাপে ছিলেন।
ম্যাচ শেষে দুইবারের আইএসএল বিজয়ী কোচ মোলিনাকে শুনতে হল, ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি। আর কেনই বা শুনবেন না তিনি। দীপক টাংরিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বসিয়ে দিলেন। এই ডিফেন্সিভ মিডিওর কাছেই আটকে যাচ্ছিলেন আহালের ফুটবলাররা। টাংরি উঠে যেতেই ফ্লাড গেট খুলে গেল। একের পর এক আক্রমণ গড়তে শুরু করল তুর্কমেনিস্তানের ক্লাব। যদিও ৬৮ থেকে ৭৪ মিনিটের মধ্যে বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান, কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। আসলে ৬ সপ্তাহর ট্রেনিংয়ের পরও ফুটবলারদের ফিটনেসের ঘাটতি রয়ে গিয়েছে। বলের কাছে পৌঁছতেই পারছিলেন না তাঁরা। দায়সারা পাশ দিয়ে কাজ সারছিলেন। সেই সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাবও দেখা গিয়েছে।
তবে ‘গো ব্যাক’ শুনতে হলেও মোলিনা কিন্তু দমে যাননি। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বললেন, “আমার দল নির্বাচনে কোনও ভুল ছিল না। যাদের ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রয়েছে, তাদেরই নামিয়েছিলাম। আশা করেছিলাম জিতব। আমরা হারলেও ভাল খেলেছি। আমরা চেষ্টা করব বাকি ম্যাচগুলি জিততে। সব খেলোয়াড়ই পুরো ফিট। আমাদের পরবর্তী ম্যাচ ইরানে। খুব কঠিন ম্যাচ হবে। আমরা ম্যাচটি জিততে চাইছি।। মরশুমের সবে শুরু। সামনে দীর্ঘ সময়রয়েছে। একটা ম্যাচের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এই দলকে নিয়ে ভরসা করা যায়।”
মঙ্গলবারের ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে ধন্যবাদও জানিয়েছেন হোসে মোলিনা। তিনি বলেন, “আহাল এফসিকে জেতার জন্য অভিনন্দন জানাই। আমাদের খেলোয়াড় এবং সমর্থকরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে চায়। আমিও চাই সব ম্যাচ জিততে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। প্রতিদিন নতুন করে দিন শুরু হয়। আমরাও কাল নতুন ভাবে প্রস্তুতি শুরু করব। গত মরশুমেও আমাদের এই অবস্থা ছিল। তারপর মরশুমের শেষে কী হয়েছিল, হয়তো আপনারা জানেন।”