এর চেয়ে বড় ব্যবধানে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আগে কোনও টিম জেতেনি। গতকালের রাত পারফরম্যান্স, রেকর্ড—সবদিক দিয়ে স্মরণীয় করে রাখল পিএসজি।

পিএসজি: চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ী
শেষ আপডেট: 1 June 2025 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত মেয়ে সানার (Xana Martinez) স্বপ্নপূরণ করতে চেয়েছিলেন পিএসজি (PSG) কোচ লুই এনরিকে (Luis Enrique)। মিউনিখের (Munich) মাটিতে সেই অধরা স্বপ্ন সাকার হল। ইন্টার মিলানকে (Inter Milan) শুধু হারিয়ে নয়, পাঁচ গোলে চূর্ণ করে একপেশে ফাইনাল জিতল প্যারিস। ঘরে ঢুকল চ্যাম্পিয়নস লিগ (Champions League)৷ তাও প্রথমবারের জন্য। দ্বিতীয় কোনও ফরাসি দল হিসেবে এই খেতাব দখলের কৃতিত্বও অর্জন করল তারা। পাশাপাশি এর চেয়ে বড় ব্যবধানে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আগে কোনও টিম জেতেনি। গতকালের রাত পারফরম্যান্স, রেকর্ড—সবদিক দিয়ে স্মরণীয় করে রাখল পিএসজি।
মজার বিষয়, ১৯৯৩ সালে মার্সেই আরেক ইতালীয় ক্লাব এসি মিলানকে পরাস্ত করে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল। গতকাল ইন্টার বিধ্বস্ত হল ডেম্বেলে, হাকিমিদের হাতে।
ফরাসি লিগ ও দুটো ঘরোয়া কাপ কম্পিটিশন জেতার সুবাদে ট্রেবল বিজয় বা ত্রিমুকুট লাভ আগেই হয়ে গিয়েছিল৷ পিএসজির সামনে কাল ছিল চার নম্বর এবং এতদিনের অধরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার সুযোগ। লুই এনরিকের ছিল এই ট্রফি দ্বিতীয়বার হাতে তোলার লক্ষ্য। বার্সেলোনার তারকা-খচিত টিম নয়। বদলে বেছে বেছে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে চলতি মরশুমে পিএসজি বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন স্প্যানিশ কোচ। ছেড়ে দিতে হয়েছে এমবাপের মতো তারকাকে।
কিন্তু তাতে যে আখেরে শাপে বর হল, তার প্রমাণ রাখলেন ডেম্বেলে, কোচের আস্থার প্রতিদান দিলেন কাভারাত্স্কেলিয়া। টিম গেম, বল পায়ে না থাকলে অনবরত প্রেসিং করে যাওয়া, ধাওয়া করে বেড়ানো, ছুটে চলা—মর্ডান ফুটবলের প্রাথমিক আইনকানুন যে নতুন জমানার পিএসজির আয়ত্তে, সেটা এবারকার চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের পারফরম্যান্স বুঝিয়ে দিয়েছে।
গতকাল ছিল অন্তিম পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার প্রস্তুতি যে ভালভাবে হয়েছে, সেটার নমুনা মিলল ম্যাচের ১২ মিনিটে। হাই প্রেসিংয়ের নিট ফল: ভিটিনহার বাড়ানো বল ডেসিরে ডোয়ুর হাকিমির পায়ে ঠেলে দেওয়া। ইন্টার মিলানের প্রাক্তন ফুলব্যাক তা জালে জড়াতে কোনও ভুল করেননি।
এক গোলে খেয়ে চাপে পড়ে ইন্টার মিলান। ২০১৪ সালে শেষবার কোনও টিম চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল পিছিয়ে পড়ে জিতেছিল৷ সেই দলের নাম রিয়াল মাদ্রিদ। গতকাল খেতাব ঘরে আনতে গেলে অসাধ্য সাধন করতে হত মার্টিনেজ, বারেল্লাদের।
কিন্তু সেই সুযোগ আসেনি৷ উলটে আক্রমণে ওঠা ইন্টার মিলানের মাঝমাঠের ফাঁককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক হানে পিএসজি। আর এভাবে ব্যবধানও বাড়িয়ে ফেলে। ডেম্বেলের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন ডোয়ু। জোরালো শট। ইন্টার ডিফেন্ডার ফ্রেডরিকো ডিমার্কোর গায়ে ধাক্কা লাগে। গোলকিপার ইয়ান সোমার কিছু বোঝার আগেই বল জালে জড়ায়।
প্রথমার্ধে গোল করার একটাই সুযোগ পেয়েছিল ইন্টার। কিন্তু উইং ব্যাক মার্কাস থুরাম জোরালো হেডার দিলের বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়৷
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেকায়দায় পড়ে ইনজাঘি বাহিনী৷ রক্ষণে বেঞ্জামিন পাভার্ডের বদলি হিসেবে নামা ইয়া বিসাক চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। ইন্টার তখন ছন্নছাড়া। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। গোল করা জরুরি। কিন্তু আক্রমণে গেলেই পালটা আক্রমণ শানাবে পিএসজি। আর কার্যত এই দোনোমোনো অবস্থার ফায়দা নেন ডেম্বেলেরা। গোলদাতা সেই ডোয়ু। বছর কুড়ির উইংগার। একা হাতে ঘোল খাওয়ালেন ইন্টারের পোড়খাওয়া রক্ষণকে। ৭৩ মিনিটের মাথায় এল চতুর্থ গোল। করলেন ইতালির ক্লাব নাপোলির প্রাক্তন খেলোয়াড় খাভিচা কাভারাত্স্কেলিয়া। ৮৬ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নামা মায়ুলু পাঁচ নম্বর গোল করে দলের ঐতিহাসিক খেতাবজয় নিশ্চিত করলেন।