আমি বাংলার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। সেখানকার ফুটবলের সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে আমি আগামী মাসে (নভেম্বর) কলকাতায় যাব।

বেঙ্গল সুপার লিগ
শেষ আপডেট: 17 October 2025 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গল সুপার লিগের (Bengal Super League) ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হল এই লিগের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর (Brand Ambassador) হয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার লোথার ম্যাথাউজ (Lothar Matthaus)।
ভারতীয় ক্রীড়ায় এখন অন্যতম নাম শ্রাচী স্পোর্টস। গত ছয় দশক ধরে শ্রাচী গ্রুপ ভারতীয় ক্রীড়ার উন্নতির স্বার্থে কাজ করে চলেছে। এই সংস্থা এবার বাংলার ফুটবলের উন্নতিকল্পে শুরু করতে চলেছে বেঙ্গল সুপার লিগ। চলতি বছরের শেষের দিকে চালু হতে চলেছে এই লিগ। জেলা ভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। চারটি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলি। এই লিগের উদ্দেশ্য হল, জেলা থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা। এই লিগের অ্যাম্বাসাডর হিসাবে যোগ দিলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউজ।
এদিনের প্রেস কনফারেন্সটি মূলত অনুষ্ঠিত হয়েছে জার্মানিতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউজ ছাড়াও জার্মানির কনসাল জেনারেল অব ইন্ডিয়া শান্তনু সিনহা, এফসি ইঙ্গলস্ট্যাডটের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ডেটমার বেইয়ার্সডরফার, শ্রাচী স্পোর্টস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল টোডি, শ্রাচী স্পোর্টস গ্রুপের চেয়ারম্যান তমাল ঘোষ-সহ অন্যান্যরা। এই সাংবাদিক সম্মেলনে ভারত থেকে যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা। তাঁরা ম্যাথাউজকে ভারতীয় ও বিশ্ব ফুটবল সম্পর্কে নানা প্রশ্নও করেন।
এই সাংবাদিক সম্মেলন উপলক্ষে কলকাতার একটি বিখ্যাত হোটেলে বসেছিল প্রাক্তন ফুটবলারদের চাঁদের হাঁট। কে ছিলেন না সেখানে? প্রাক্তন ফুটবলার ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়, বিকাশ পাঁজি, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, মিহির বসু, মোহনবাগানকে আই লিগ জেতানো কোচ সঞ্জয় সেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গলে খেলে যাওয়া ঘানার ফুটবলার সুলে মুসা, অ্যালভিটো ডিকুনহা, মেহেতাব হোসেন, অসীম বিশ্বাস, দীপঙ্কর মণ্ডল, দীপক মণ্ডল, রহিম নবির মতো প্রাক্তন তারকারাও।
সাংবাদিক সম্মেলনে ম্যাথাউজ বললেন, ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি উচ্ছ্বসিত। এর আগেও ভারতে এসেছিলেন ১৯৯০ সালের ব্যালন ডি অর-জয়ী এই ফুটবলার। জানালেন, ফের আসবেন তিনি। বেঙ্গল সুপার লিগ সম্পর্কে জার্মান কিংবদন্তি এদিন বলেছেন, “ভারতীয় ফুটবল সম্পর্কে আমার সেরকম ধারণা নেই। তবে এটুকু জানি ভারত ফুটবল পাগল দেশ। আমি বাংলার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। সেখানকার ফুটবলের সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে আমি আগামী মাসে (নভেম্বর) কলকাতায় যাব। তারপরে সেখানকার ফুটবলের উন্নতির জন্য যতটা পারি পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করব।”
শ্রাচী স্পোর্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল টোডি বলেছেন, ভারত-জার্মানির ফুটবল সম্পর্ক বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে ম্যাথাউজকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করার সিদ্ধান্ত। আগামীদিনে বেঙ্গল সুপার লিগের ফুটবলাররা জার্মানিতে প্রশিক্ষণের সুবিধা পাবেন। টোডি বলেছেন, “একটা সময় ছিল ভারতীয় ফুটবল মানেই বাংলা। আমরা চাইছি বাংলার ফুটবলের সেই সুদিন ফিরিয়ে আনতে। বেঙ্গল সুপার লিগ থেকে ফুটবলাররা যেমন ভারতীয় ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হবেন, তেমনই জার্মানিতেও প্রশিক্ষণের সুবিধা পাবেন। বিএসএল আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আশা করি লোথার ম্যাথাউজের মতো বিশ্বসেরা ফুটবলারের পরামর্শে বাংলার ফুটবল আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে।”