যেভাবে ২০ বছর বয়সেই এত পরিপক্বতা দেখাচ্ছেন, তাতে অনেকেই মনে করছেন, ভারতীয় পেস–পুলে তাঁর জন্য জায়গা খালি রাখাই ভালো!

ইডেন অ্যাপল টম
শেষ আপডেট: 17 October 2025 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার প্রশ্নপত্রে নামকরণের সার্থকতা নিয়ে একটা সময় বাঁধাধরা প্রশ্ন আসত। নয়া শিক্ষানীতি আসার পর অনেক কিছুর মতো এই সওয়ালটাও তামাদি হয়ে গিয়েছে। ফলে শেকসপিয়রের ‘গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন...’—দিয়ে আস্তিন গুটিয়ে উত্তর লেখার সুযোগ নেই।
সুযোগ থাকুক না থাকুক, হলফ করে বলতে পারি, কেরলের পেসার ইডেন অ্যাপেল টম-কে আজও ঘরোয়া অনুষ্ঠান হোক চায় পাঁচতারা হোটেলের কেতাদুরস্ত আয়োজন—সর্বত্র নিজের নামের সার্থকতা কাঁচুমাচু মুখে বলতে হয়! কেন এই অদ্ভুত নাম? বাবা-মা কি আর কিছু খুঁজে পাননি? সবার সামনে বলতে কোনও অস্বস্তি হয় না?—জাতীয় একাধিক কূট প্রশ্ন ধেয়ে আসে নিশ্চিত!
অথচ নামের আড়ালের মানুষের গল্প একেবারেই অন্যরকম। বয়স মাত্র কুড়ি। কিন্তু বল হাতে এমন ধার, এমন শৃঙ্খলা, যে ভেতরের আগুন ছাইচাপা রাখা কঠিন! কেরলের (Kerala) এই তরুণ পেসার গত মরসুমে রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy 2025) প্রথম ম্যাচেই নজর কাড়েন। প্রতিপক্ষ মহারাষ্ট্র, আর প্রথম উইকেট? পোড়খাওয়া ওপেনার, আইপিএল অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad)! ৯১ রানে থাকা অভিজ্ঞ ব্যাটারের অফস্টাম্প উড়িয়ে ঘোষণা করেন নিজের উপস্থিতি।
শুধু বলের গতিই নয়, ইডেন অ্যাপেল টমের (Eden Apple Tom) মধ্যে আছে ক্লাসিক ‘রেড বল পেসারে’র সমস্ত উপাদান। সুইং করান, বাউন্স তোলেন, পুরনো বলেও ছন্দ খুঁজে নেন। তাঁর সতীর্থ এমডি নিধীশ (MD Nidheesh) ও নেদুমানকুজি বাসিল (Nedumankuzhy Basil) যদিও সেদিন বেশি উইকেট শিকার করে স্পটলাইট কেড়ে নেন। কিন্তু ড্রেসিংরুমে আলো ঘুরপাক খাচ্ছিল এক তরুণের চারপাশে—যে ছেলেটি চার বছর আগে, ১৬ বছর বয়সে, কেরলের হয়ে প্রথম–শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই নিয়েছিল চার উইকেট। তাও প্রথম বলেই শিকার!
তবে গল্পটা এত সরল নয়। ইডেনের কেরিয়ার মাঝপথে থেমে যায় এক ভয়ঙ্কর পিঠের চোটে (Stress Fracture)। এত অল্প বয়সে কোমরে চাপে থাকা ফাস্ট বোলারদের জন্য এই চোট সবদিক দিয়ে দুঃস্বপ্ন। তাঁকে পাঠানো হয় বেঙ্গালুরুর (NCA) ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। দেখা যায়, তাঁর সমস্যা সেই একই ধরনের, যা একসময় জসপ্রীত বুমরাহকেও (Jasprit Bumrah) দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে রেখেছিল। সৌভাগ্য, চিকিৎসা হয় সময়ে। যে কারণে ইডেন ধীরে ধীরে সেরে ওঠেন। কিন্তু হারানো সময়টা পুষিয়ে দিতে বিস্তর বেগ পেতে পান।
দুই বছর পর আবার ফিরে আসেন। ভেন্যু: রঞ্জি ফাইনাল (Ranji Trophy Final 2024)। কেরল প্রথমবার উঠেছে। সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ইডেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিলেও দল হারে প্রথম ইনিংসের ব্যবধানে। কিন্তু ক্রিকেটবোদ্ধারা জেনে যান—একটা নতুন মুখ উঠে এসেছে, যাকে এখন থেকে ক্রমাগত নজরে রাখতে হবে।
আপাতত সেই নামটাই এখন আলোচনার কেন্দ্র—ইডেন অ্যাপেল টম। অদ্ভুত শোনালেও এর ভেতরে কোনও রহস্য নেই। ‘ইডেন’ নিজের নাম। আর ‘অ্যাপেল’ তাঁর বাবা। বাবার নামই পরিবারের পদবি। অর্থাৎ, কোনও গিমিক নয়। মানুষ যতটা সহজ, ততটাই সরল নামকরণের রহস্য!
ইডেনের জন্ম কেরলে হলেও শৈশব কেটেছে দুবাইয়ে (Dubai)। সেখানকার এক ক্রিকেট একাডেমিতে তাঁর প্রতিভা সবার চোখে পড়ে। তারপর সিদ্ধান্ত—দেশে ফিরতে হবে, বড় ক্রিকেট খেলতে হবে। সেই সাহসী সিদ্ধান্তেই শুরু হয় এক যাত্রা, যার দ্বিতীয় অধ্যায় এখন রঞ্জি থেকে জাতীয় নজরে।
অ্যাকশন নিখুঁত, রিদম স্বভাবজাত আর ফোকাস অসাধারণ। গতি তুলতে পারেন ১৪০-এর কাছাকাছি, নিয়ন্ত্রণ না হারিয়ে। যেভাবে ২০ বছর বয়সেই এত পরিপক্বতা দেখাচ্ছেন, তাতে অনেকেই মনে করছেন, ভারতীয় পেস–পুলে (Indian fast bowling pool) তাঁর জন্য জায়গা খালি রাখাই ভালো!