ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সেলেব্রিটি দম্পতি সমঝোতার দরজা বন্ধ করতে অনিচ্ছুক। তাঁদের বক্তব্য, ‘দরজা সবসময় খোলা’। কিন্তু বাস্তবে সেই দরজায় এখন তালা ঝুলছে—আইনের তালা!

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 9 January 2026 17:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেকহ্যাম পরিবারে ফাটল নতুন নয়। কিন্তু এবার বিষয়টা একেবারে আইনি স্তরে পৌঁছল। ছেলে ব্রুকলিন বেকহ্যাম (Brooklyn Beckham) সরাসরি আইনি নোটিস পাঠালেন বাবা ডেভিড বেকহ্যাম (David Beckham) ও মা ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামকে (Victoria Beckham)। বার্তা পরিষ্কার—এখন থেকে কোনও ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়। কথা হবে শুধু আইনজীবীর মাধ্যমে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে চলে এসেছে বেকহ্যাম পরিবারের ভিতরের টানাপড়েন। এতদিন যা ছিল ঠান্ডা লড়াই, এবার তা রীতিমতো কাগজে-কলমে সংঘাত।
কেন এই নোটিস?
বিদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রুকলিন গত বছরের শেষ দিকে বাবা-মাকে একটি আইনি চিঠি পাঠান। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়—কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ট্যাগ বা প্রকাশ্য বার্তা নয়। তিনি চান, ভবিষ্যতে সব যোগাযোগ যেন কেবল আইনজীবীদের মাধ্যমে হয়।
যদিও সেই অনুরোধ মানা হয়নি বলেই অভিযোগ। ভিক্টোরিয়া নাকি একাধিকবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ও ‘লাইক’ করেছেন। শেষ ধাক্কা একটি সাধারণ ঘটনায়—ব্রুকলিনের পোস্ট করা ‘রোস্ট চিকেনে’র ভিডিওতে ভিক্টোরিয়ার ‘পছন্দচিহ্ন’। পরিবারের অন্দরমহলের টানাপড়েনে সেটাই যেন বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপরেই ব্রুকলিন ইনস্টাগ্রামে বাবা-মা এবং নিজের ভাইবোনদের ব্লক করে দেন। তবে দাদু-দিদা বা দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিকভাবেই চলেছে।
নেপথ্যে নিকোলা পেল্টজ
এই সংঘাতের সূত্রপাত অনেক আগে। ব্রুকলিনের স্ত্রী নিকোলা পেল্টজের (Nicola Peltz) সঙ্গে ভিক্টোরিয়ার সম্পর্ক শুরু থেকেই ‘অস্বস্তিকর’ বলে গুঞ্জন। বিয়ের পর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। সেই ফাটল ধীরে ধীরে ব্রুকলিনকেও বাবা-মায়ের থেকে আলাদা করে দেয়।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ব্রুকলিন আসলে প্রকাশ্যে কিছু চাননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিষয়টা ব্যক্তিগত থাকুক। আইনি পথে যোগাযোগ চাওয়ার কারণও সেটাই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম জড়িয়ে যাওয়ায় ব্রুকলিনের বক্তব্য, সীমারেখা মানা হয়নি। ফলে আবেগের বদলে এবার কড়া রাস্তা—আইনি নোটিস!
এখন যোগাযোগ শুধু আইনজীবীর মাধ্যমে
এই মুহূর্তে ডেভিড ও ভিক্টোরিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই সামলাচ্ছে হারবটল অ্যান্ড লুইস (Harbottle & Lewis)—যে সংস্থার সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন রাজা চার্লস (King Charles)। জানা যাচ্ছে, এই ফার্মের পারিশ্রমিক ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ পাউন্ড। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সেলেব্রিটি দম্পতি সমঝোতার দরজা বন্ধ করতে অনিচ্ছুক। তাঁদের বক্তব্য, ‘দরজা সবসময় খোলা’। কিন্তু বাস্তবে সেই দরজায় এখন তালা ঝুলছে—আইনের তালা! পুনর্মিলন আদৌ হবে কি না, হলে কবে—তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে কোর্টরুমের বাইরের আলোচনার উপর।