স্পেনের সমস্যা দুর্বলতা নয়, বিলাসিতা। এক পজিশনে এত শক্তিশালী বিকল্প-জনিত মাথাব্যথা যে কোনও কোচের কাম্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নামবে তো সেই একজন!

রায়া কিন্তু প্রথম পছন্দ নন
শেষ আপডেট: 29 March 2026 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। প্রস্তুতি ম্যাচে সার্বিয়াকে ৩-০ হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী স্পেন (Spain)। জোড়া গোলে নায়ক মিকেল ওয়্যারজাবাল (Mikel Oyarzabal), পাশাপাশি নতুন মুখও নজর কাড়ছে।
কিন্তু আক্রমণ নয়, আপাতত আলোচনা ঘুরে যাচ্ছে রক্ষণে—গোলপোস্টের নিচে কে? এন্তার বিকল্প, তবু নিশ্চিত জবাব নেই। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের (Luis de la Fuente) সামনে সবচেয়ে বড় ধাঁধা এই একটিমাত্র পজিশন।
চার দুরন্ত কিপার—সমস্যা এখানেই!
সাধারণত স্কোয়াডে থাকে তিনজন গোলকিপার। কিন্তু এবার স্পেন বাহিনীতে চারজন। উনাই সিমন (Unai Simon), ডেভিড রায়া (David Raya), অ্যালেক্স রেমিরো (Alex Remiro)—প্রত্যেকে ক্লাবের জার্সিতে নিয়মিত। সঙ্গে নতুন মুখ জোয়ান গার্সিয়া (Joan Garcia)। ম্যাচডে স্কোয়াডে জায়গা মাত্র তিনজনের। ফলে কাউকে না কাউকে বাদ দিতেই হবে। সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যেমন দুর্ভাগ্যের শিকার গার্সিয়া।
সিমন এগিয়ে, আস্থা অটুট
বিশেষজ্ঞদের মতে, উনাই সিমন (Unai Simon) এখনও ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দ। গত কয়েক বছরে জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন। দু’বার ইউরো (Euro 2020, Euro 2024), বিশ্বকাপ (World Cup 2022)… সব জায়গাতেই জুগিয়েছেন ভরসা। কোচও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিমনে আস্থা অটুট! অর্থাৎ, বড় কোনও চমক না হলে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কিপারই বিশ্বকাপে স্পেনের নাম্বার ওয়ান কিপার।
রায়া-রেমিরো: শুধুই ব্যাকআপ?
তাই বলে ডেভিড রায়া (David Raya) ও অ্যালেক্স রেমিরো (Alex Remiro) শুধু বেঞ্চ গরম করার বান্দা নন। প্রথমজন প্রিমিয়ার লিগে (Premier League) আর্সেনালের জার্সিতে নিয়মিত খেলছেন। বল পায়ে স্বচ্ছন্দ। রেমিরোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। একেই অভিজ্ঞ, ড্রেসিংরুমে প্রভাবশালী। তার উপর তরুণদের গাইড করেন। এই কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া সহজ নয়। দলে ভারসাম্য রাখতে এমন চরিত্র দরকার।
গার্সিয়া—ভবিষ্যৎ না বর্তমান?
সবচেয়ে বড় চমক জোয়ান গার্সিয়া (Joan Garcia)। পারফরম্যান্স এমন জায়গায় পৌঁছেছে, আর উপেক্ষা করা যায় না। পরিসংখ্যান বলছে, শট-স্টপিংয়ে তিনি ইউরোপ-সেরাদের অন্যতম। প্রত্যাশিত গোলের তুলনায় অনেক বেশি বাঁচাচ্ছেন।
তবু সমস্যা অন্য জায়গায়। তিনি ‘ব্যাকআপ’ হওয়ার খেলোয়াড় নন—ভবিষ্যতের নাম্বার ওয়ান। আর সেখানেই দ্বিধা। এখন তাঁকে দলে ঢোকালে ভারসাম্য নষ্ট হবে না তো? জবাবটা ফুয়েন্তেকে তাড়াতাড়ি বের করতে হবে।
স্পেনের সমস্যা দুর্বলতা নয়, বিলাসিতা। এক পজিশনে এত শক্তিশালী বিকল্প-জনিত মাথাব্যথা যে কোনও কোচের কাম্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নামবে তো সেই একজন! আপাতত সেই জায়গাটা সিমনের দখলে।