অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা পূরণ করবে মরক্কো, নাকি আফ্রিকার রাজত্ব ধরে রাখবে সেনেগাল? উত্তর দেবে ফাইনালের ৯০ মিনিট… কিংবা তারও বেশি।

যুযুধান সেনেগাল-মরক্কো
শেষ আপডেট: 16 January 2026 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের (AFCON) মঞ্চে ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে মরক্কো (Morocco) ও সেনেগাল (Senegal)। বুধবারের সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরিয়ে এই দুই শক্তিধর দলই পৌঁছে গিয়েছে ফাইনালে। একদিকে আয়োজক দেশের অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা, অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ধারাবাহিক আধিপত্য—সব মিলিয়ে সপ্তাহান্তের ফাইনাল যেন আফ্রিকান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরের চূড়ান্ত সুযোগ।
মরক্কোর মুক্তি
রাবাতের প্রিন্স মৌলাই আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামে (Prince Moulay Abdellah Stadium) নাইজেরিয়ার (Nigeria) বিরুদ্ধে মরক্কোর সেমিফাইনাল ছিল স্নায়ুর যুদ্ধ। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে গোলশূন্য ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ফয়সালা পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানেই নায়ক হয়ে উঠলেন গোলকিপার ইয়াসিন বোনু (Yassine Bounou)। সৌদি ক্লাব আল-হিলালের (Al-Hilal) তারকা দুটি পেনাল্টি বাঁচান। সেভ করেন স্যামুয়েল চুকউয়েজে (Samuel Chukwueze) ও ব্রুনো ওনিয়েমাচির (Bruno Onyemaechi) শট। ইউসুফ এন-নেসিরির (Youssef En-Nesyri) নেওয়া শেষ কিকে মরক্কোর জয় নিশ্চিত হয়। ৬৫ হাজারের বেশি দর্শকের গর্জনে রাবাত তখন বদলে গিয়েছে! চাপের ভারে দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস করা হামজা ইগামানের (Hamza Igamane) চোখে জল থাকলেও মরক্কো ক্যাম্পে চওড়া হাসি। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি (Achraf Hakimi) চাপমুক্ত ভঙ্গিতে গোল করে শেষ কাজটুকু সেরে ফেলেন।
মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই (Walid Regragui) যথারীতি আপ্লুত। স্বীকার করেছেন, ‘এটা আমাদের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচগুলোর একটি। ফাইনালে ওঠা আনন্দের, তবে দ্রুত রিকভার করাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’২০০৪ সালের পর ফের ফাইনালে পৌঁছল মরক্কো, লক্ষ্য—৫০ বছরের শিরোপা-খরা মুছে ফেলা।
মানের গোলে সালাহর স্বপ্নভঙ্গ
এর আগে সেনেগাল এক গোলের লড়াইয়ে হারিয়ে দেয় মিশরকে (Egypt)। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে সাদিও মানের (Sadio Mané) জোরালো শটেই পার্থক্য। যে গোলের সঙ্গে সঙ্গেই আরও একবার ভেঙে যায় মহাম্মদ সালাহর (Mohamed Salah) আফ্রিকা জয়ের স্বপ্ন। পাঁচবার আফকনে নেমে এখনও লিভারপুল তারকার শিরোপা অধরা রয়ে গেল।
যদিও উৎফুল্ল মানে। লড়াই শেষে জানিয়ে দেন, এটাই তাঁর শেষ আফ্রিকা কাপ। ‘আমি চাই এই ট্রফিটা ডাকারে (Dakar) নিয়ে যেতে!’ মন্তব্য ৩৩ বছরের তারকার। ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল এবার আরও আত্মবিশ্বাসী। এটি তাদের চতুর্থ আফকন ফাইনাল, গত চার সংস্করণের মধ্যে তৃতীয়।
ফাইনালের আগে সমীকরণ
একদিকে মরক্কোর ঘরের মাঠের চাপ ও প্রত্যাশা, অন্যদিকে সেনেগালের অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা। মরক্কো যেখানে রক্ষণ আর গোলকিপারের উপর ভর করে এগোচ্ছে, সেখানে সেনেগালের অস্ত্র মানের এক নৈপুণ্য, সংগঠিত মিডফিল্ড ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। আফ্রিকার সবচেয়ে কঠিন টুর্নামেন্টে শেষ পরীক্ষাটা তাই কারও কাছেই সহজ নয়! প্রশ্ন একটাই—অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা পূরণ করবে মরক্কো, নাকি আফ্রিকার রাজত্ব ধরে রাখবে সেনেগাল? উত্তর দেবে ফাইনালের ৯০ মিনিট… কিংবা তারও বেশি।