কোচ লিয়াম রোজেনিয়র বলেছেন, ‘এটা কোনও নেতিবাচক বিষয় নয়। একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। এখন সামনে তাকানোর সময়!’
.jpeg.webp)
চেলসি ফুটবল ক্লাব
শেষ আপডেট: 17 March 2026 10:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রিমিয়ার লিগের (Premier League) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জরিমানা গুনতে হবে চেলসিকে (Chelsea FC)। মোট ১ কোটি ৭ লক্ষ ৫০ হাজার পাউন্ড—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। সঙ্গে দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা এক বছরের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞাও। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তৎকালীন মালিক রোমান আব্রামোভিচের আমলে এজেন্টদের গোপনে দেওয়া ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ পাউন্ড—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার পেমেন্ট ও অ্যাকাডেমির খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিয়ম লঙ্ঘনের জেরেই এই শাস্তি।
কীভাবে বেরিয়ে এল এই তথ্য?
২০২২ সালে নতুন আমেরিকান মালিকরা ক্লাব কিনতে এসে ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়ায় এই গোপন লেনদেনের হদিস পান। তারপর নিজেরাই প্রিমিয়ার লিগ, এফএ ও ইউয়েফার কাছে বিষয়টি জানান। এই স্বতঃপ্রণোদিত স্বীকারোক্তি ও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার কারণেই মূল জরিমানা ২ কোটি পাউন্ড থেকে কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, যাবতীয় গোপন পেমেন্ট জ্ঞানত ক্লাবের প্রাক্তন সিনিয়র কর্মকর্তা ও পরিচালকদের অনুমোদনেই হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসা ট্রান্সফারের মধ্যে রয়েছে এডেন হ্যাজার্ড, স্যামুয়েল এতো, উইলিয়ান, রামিরেস, ডেভিড লুইজ, আন্দ্রে শার্লা ও নেমানিয়া মাটিচের ট্রান্সফার—তবে এই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনও অন্যায়ের অভিযোগ নেই। পাশাপাশি ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য নয় মাসের অ্যাকাডেমি ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে (তাৎক্ষণিকভাবে)।
চেলসি কি এখন খেলোয়াড় কিনতে পারবে?
স্থগিত নিষেধাজ্ঞার অর্থ হল—এই মুহূর্তে ট্রান্সফারে কোনও বাধা নেই। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন উইন্ডোয় স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড় কেনাবেচা করতে পারবে চেলসি। তবে নতুন কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে বা ক্লাব ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হলে নিষেধাজ্ঞা সক্রিয় হয়ে যাবে। বর্তমান কোচ লিয়াম রোজেনিয়র বলেছেন, ‘এটা কোনও নেতিবাচক বিষয় নয়। একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। এখন সামনে তাকানোর সময়!’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউয়েফা (UEFA) আগের মালিকদের অসম্পূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদনের জন্য চেলসিকে ৮৬ লক্ষ ৪০ হাজার পাউন্ড—ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা—জরিমানা করেছিল। প্রিমিয়ার লিগে সময়সীমার বাধ্যবাধকতা না থাকায় পুরনো লঙ্ঘনও তদন্তের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।