একালের রান্নায় সেকালের স্বাদ ফেরাতে নতুন উদ্যোগ ‘চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি’। শিলাদিত্য ও দেবাদিত্যর এই নতুন রেস্তরাঁয় মিশে যাচ্ছে আধুনিকতার ছোঁয়া ও বাংলা ঐতিহ্যের স্বাদ।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 31 October 2025 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার খাবার সংস্কৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলতে এ বার নতুন পথে হাঁটলেন রেস্তরাঁ উদ্যোক্তা শিলাদিত্য ও দেবাদিত্য চৌধুরী। Oudh 1590 ও Chapter 2–এর পর তাঁদের সর্বশেষ উদ্যোগ 'চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি' (Chaudhury & Company)। সোমবার কলকাতায় টলিউড তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হল রেস্তরাঁটির।
‘এই কালের রান্নায়, সেই কালের স্বাদ’—এই মর্মস্পর্শী ট্যাগলাইনে ভর করে ফেরানো হচ্ছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া পাইস হোটেলের (Pice Hotel) গন্ধ, স্বাদ আর স্মৃতি।
চৌধুরী ব্রাদার্স গত কয়েক বছরে কলকাতা ও বাংলার নানা প্রান্ত ঘুরে পুরনো পাইস হোটেলের রন্ধনশৈলী, রেসিপি ও অভিজ্ঞতা নথিভুক্ত করেছেন। সেই দীর্ঘ গবেষণার ফল—একটি মেনু যা ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেল। উদ্দেশ্য একটাই—পুরনো দিনের স্বাদকে ফিরিয়ে আনা, কিন্তু আজকের প্রজন্মের উপযোগে।
উদ্যোগপতিদের বক্তব্য, ‘বাংলার পাইস হোটেল শুধু খাবার জায়গা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এখান থেকেই গড়ে উঠেছে আমাদের খাওয়ার অভ্যেস, স্মৃতি ও গল্প। আমরা সেই উত্তরাধিকারই ফিরিয়ে আনছি আধুনিক আঙ্গিকে।’
২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শেফ জয়মাল্য বন্দ্যোপাধ্যায় মেনু কিউরেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রত্যেক পদে থাকছে স্বকীয়তা, ঐতিহ্য আর গল্পের ছোঁয়া।
মেনুর হাইলাইটস-
শুরু হোক ডাব শরবত বা তেঁতুলের শরবতে।
স্ন্যাকস হিসেবে থাকছে মোচার মালাই চপ, ফাউল কাটলেট, মাটন মোগলাই পরোটা।
সি–ফুড প্রেমীদের জন্য গলদা চিংড়ির চিনি কাবাব, চিংড়ি মালাইকারি, গন্ধরাজ কাঁকড়া চিংড়ি ভাপা, ডাব চিংড়ি, ইলিশ ভাপা, ইলিশ পাতুরি।
ভাতের সঙ্গে বড়ার সর্ষে ঝাল, থোড় ঘন্ট, গন্ধরাজ ছানার পাতুরি—সবজিতেও অভিনবত্ব। আমিষপ্রেমীদের জন্য কষা মাংস, মাটন ডাকবাংলো, শিলেবাটা মুরগি, রেলওয়ে মুরগির ঝোল।
শেষপাতে মিষ্টি দই, ছানার পায়েস, রাবড়ি। এ ছাড়া রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পাইস হোটেল থালি, যেখানে মিলবে নানা পদ একসঙ্গে, পুরনো দিনের ধাঁচে।
ডিজাইন ও আবহ-
ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছেন শিল্পী–স্থপতি সঞ্জীব সাহা। ৩ হাজার বর্গফুট জুড়ে পুরনো কলকাতার ছোঁয়া—লাল অক্সাইডের মেঝে, খড়খড়ি জানলা, কালীঘাট পটচিত্র, ব্যাটতলা কাঠের ছাপ, সেপিয়া টোনে থিয়েটারের ছবি। ডিজিটাল মেনু হলেও ব্ল্যাকবোর্ডের নস্ট্যালজিয়া।
স্টাফদের পোশাক ডিজাইন করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার অভিষেক রায়। খাদি ও প্রাকৃতিক ফেব্রিক ব্যবহার করে তিনি তৈরি করেছেন পোশাক যা ঐতিহ্য ও আরাম দুই-ই বজায় রাখে।
পাইস হোটেলের দর্শন-
প্রতিদিনের তাজা বাজার, কলাপাতায় পরিবেশন, প্রতিটি পদে আলাদা দাম, অতিথিবৎসল আন্তরিকতা—এই সমস্ত কিছুই থাকছে পুরোমাত্রায়!
ঠিকানা ও সময়সূচি-
২৪সি, দেশপ্রিয় পার্ক ওয়েস্ট, কলকাতা–৭০০০২৬ (Oudh 1590–এর ঠিক বিপরীতে)।
খোলা থাকবে সকাল ১১:৩০ থেকে রাত ১০:৩০ পর্যন্ত।
দু’জনের খাবারের গড় খরচ প্রায় ১,২০০ টাকা + জিএসটি। অনলাইন ডেলিভারিও পাওয়া যাবে।
চৌধুরী ব্রাদার্সের ভাষায়, ‘এটি শুধু রেস্তরাঁ নয়, বাংলার স্মৃতি, সংস্কৃতি আর স্বাদের প্রতি এক শ্রদ্ধার্ঘ্য!’