Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

এক বাঙালি যোদ্ধা পাইলট, যিনি একা রুখে দিয়েছিলেন ইজরায়েলের বায়ুসেনাকে

তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন সইফুল। পরে স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত সৈনিক। কিন্তু ইতিহাসে তাঁর সবচেয়ে গর্বের অধ্যায় লেখা হয়েছিল ১৯৬৭ সালের সেই যুদ্ধে, যখন তিনি একাই গুলি করে নামিয়ে দিয়েছিলেন চার চারটি ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান।

এক বাঙালি যোদ্ধা পাইলট, যিনি একা রুখে দিয়েছিলেন ইজরায়েলের বায়ুসেনাকে

সইফুল আজম।

শেষ আপডেট: 26 June 2025 15:07

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৬৭ সালের জুন। পশ্চিম এশিয়ায় তখন ভয়ঙ্কর উত্তেজনা। একদিকে ইজরায়েল (Israel), অন্যদিকে জর্ডন, মিশর, ইরাক ও সিরিয়ার সামরিক জোট। শুরু হয়েছিল ছ’দিনের যুদ্ধ। সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাঝে এক বাঙালি পাইলট (Bengali Pilot) হয়ে উঠেছিলেন আরব বায়ুসেনার আশার আলো। তাঁর নাম সইফুল আজম।

তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন সইফুল। পরে স্বাধীন বাংলাদেশের (Bangladesh) গর্বিত সৈনিক। কিন্তু ইতিহাসে তাঁর সবচেয়ে গর্বের অধ্যায় লেখা হয়েছিল ১৯৬৭ সালের সেই যুদ্ধে, যখন তিনি একাই গুলি করে নামিয়ে দিয়েছিলেন চার চারটি ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের পরিস্থিতিতে অনেকেরই মনে পড়ে যাচ্ছে তাঁর কথা।

একা হাতে রুখে দিয়েছিলেন ইজরায়েলের স্কোয়াড্রন

৫ জুন, ১৯৬৭। জর্ডনের মাফরাক বিমানঘাঁটির আকাশে হানা দেয় ইজরায়েলের চারটি ফাইটার জেট। উদ্দেশ্য, ছোট জর্ডনের বিমান-শক্তিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া। কিন্তু সেই দিনই সাইফুল আজম তাঁর হান্টার জেটে চড়ে একটি ইজরায়েলি মিস্টেয়ার ফাইটার গুলি করে উড়িয়ে দেন।

এরপর ৭ জুন, ইরাকের হয়ে লড়তে গিয়ে আরও দুটি ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দেন তিনি। বাংলাদেশ বায়ুসেনার দাবি, তার আগে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে ভারতীয় একটি বিমানকেও নামিয়ে দিয়েছিলেন পাক বায়ুসেনার তৎকালীন লেফটেন্যান্ট সাইফুল। যুদ্ধে দক্ষতা ও সাহসিকতার জন্য তিনি ‘সিতারা-ই-জুরাত’ পদকে সম্মানিত করা হয়েছিল তাঁকে।

চার দেশের বীর, দুই দেশের ভয়

পাকিস্তান, জর্ডন, ইরাক এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশ—এই চার দেশের বিমান বাহিনীতে কাজ করেছেন সইফুল আজম। তাঁর এই অনন্য কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেয় সমস্ত আরব বিশ্ব। জর্ডন তাঁকে সম্মান জানায় 'উইসাম আল-ইসতিকলাল' পদকে, ইরাক 'নুত আল-সুজাত' এবং পাকিস্তান 'সিতারা-ই-বাসালাত' দিয়ে।

ইজরায়েলি এক পাইলট পরে স্মৃতিচারণে জানান, সাইফুল আজম যখন তাঁর বিমানকে গুলি করে নামান, তখন তিনি প্যারাসুটে নেমে আসার সময় দেখেন, সইফুল নিজের বিমানে রোল দিয়ে তাঁকে হাত নেড়ে সম্ভাষণ জানাচ্ছেন। চাইলেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করতে পারতেন সইফুল, কিন্তু করেননি। এমন বীরত্ব এবং মানবিকতা ইজরায়েলেও প্রশংসিত হয়।

বাংলাদেশে ফিরে সংসদেও জয়

১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ফিরে সইফুল আজম যোগ দেন দেশের বিমান বাহিনীতে। ২০০১ সালে তাঁকে 'লিভিং ঈগল' উপাধিতে সম্মানিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল হল অব ফেম। পরে রাজনীতিতেও সফল হন। পাবনা থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি।

২০২০ সালে তাঁর মৃত্যুর পরে ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয় তাঁর বীরত্বের স্মরণিকা। সেই পাইলট, যিনি শুধু শত্রুকে নামিয়ে দেননি, এক আদর্শ যোদ্ধার মতো শত্রুর প্রাণও বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন।


```