ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ভারত নিরাপদ, কারণ বিশাল ভূগর্ভস্থ গুহায় মজুত রয়েছে কাঁচা তেলের কৌশলগত মজুদ। জেনে নিন কীভাবে এই রিজার্ভ সংকটে ভারতের ঢাল।

গোপন গুহায় অপরিশোধিত তেল মজুত ভারতে!
শেষ আপডেট: 24 June 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার জেরে ফের হুমকির মুখে পড়েছে হারমুজ প্রণালী। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথগুলোর একটি হল এই প্রণালী। বিশ্বের ২০% অপরিশোধিত তেল এই সরু জলপথ দিয়েই পাড়ি দেয়। এখন যুদ্ধের আবহে ইরান তার পার্লামেন্টে প্রণালীটি বন্ধের অনুমোদন দিয়েছে। এতে তেলের দাম বেড়েছে, বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। দৈনিক প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার হয়, যার ৮০%-এরও বেশি আমদানি করতে হয়। ফলে এই পরিস্থিতিতে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা। তবুও ভারত অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই নিশ্চিন্তে আছে এখনও।
এর বিশেষ দুটি কারণ আছে। প্রথমত, তেল আমদানিতে বৈচিত্র্য। পশ্চিম এশিয়া বা আরব দুনিয়ার বাইরে থেকেও ভারত এখন নিয়মিত তেল আনছে। রাশিয়া, আমেরিকা, নাইজেরিয়া, ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলা-- এই সব দেশই ভারতের জ্বালানি তেলের উৎস। এর ফলে হারমুজ প্রণালীর উপর ভারতের নির্ভরতা কমেছে।
দ্বিতীয়ত, ভারতের গোপন ভূগর্ভস্থ তেলের গুহা। দেশের তিনটি জায়গায়, বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ), ম্যাঙ্গালোর ও পদুরে (কর্ণাটক) প্রায় ৯০ থেকে ১৯৬ মিটার গভীরে কৃত্রিমভাবে তৈরি গুহা রয়েছে। সেখানে জমা আছে প্রায় ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন (প্রায় ৩৮০ লক্ষ ব্যারেল) অপরিশোধিত তেল।
এই মজুত একা একা দেশের প্রায় ১০ দিনের তেলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বেসরকারি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত মজুত মিলিয়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ দিনের রিজার্ভ।
সরকার ইতিমধ্যে আরও দুটি নতুন স্টোরেজ নির্মাণে সম্মতি দিয়েছে। একটি ওড়িশার চাঁদিখোলে, আর একটি পদুরেই দ্বিতীয় পর্যায়ে। নতুন এই দুটি গুহায় প্রায় ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন তেল জমা রাখা যাবে। সরকারি-বেসরকারি যুগ্ম উদ্যোগে এগুলি তৈরি হবে।
উপরে খোলা ট্যাঙ্কে তেল রাখার থেকে গুহায় রাখলে অনেক বেশি সুরক্ষা মেলে। যেমন, বিমান হামলা বা নাশকতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। গরমে তেল বাষ্প হয়ে উড়ে যায় না। ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও নিরাপদ থাকে তেল। দীর্ঘমেয়াদে খরচও কম। এই মডেল প্রথম চালু করেছিল সুইডেন। ভারত শুরু করেছিল ১৯৯৮ সালে, গালফ যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে।
২০২০ সালে কোভিডের সময় বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন কমে যায়, তখন ভারত এই সুযোগে প্রচুর তেল কিনে গুহাগুলোতে মজুত করেছিল। এতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়।
ফলে গোটা বিশ্ব যখন তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কিত, ভারত তখন অনেকটাই তৈরি। ভূগর্ভস্থ এই তেলের গুহা যেন ভারতের ‘শক অ্যাবজর্বার’ বা ঝাঁকুনি সামলানোর শক্তি। আর এটাই এখন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ভরসা।