Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

ORS খাচ্ছেন, না চিনিগোলা জল! শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের ৮ বছরের যুদ্ধ শেষে ঐতিহাসিক জয়

প্রকৃত অর্থেই কি এই ড্রিঙ্কসগুলির সঙ্গে মেডিক্যাল চিকিৎসার কোনও সম্পর্ক আছে? নাকি, এগুলি আর পাঁচটা নরম পানীয়ের সমতুল।

ORS খাচ্ছেন, না চিনিগোলা জল! শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের ৮ বছরের যুদ্ধ শেষে ঐতিহাসিক জয়

দীর্ঘ ৮ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে হায়দরাবাদের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শিবরঞ্জনী সন্তোষ সেই জয় হাসিল করেছেন।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 18 October 2025 12:58

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল গ্রীষ্মের ইদানীং অফিস-কাছারি, স্কুল-কলেজে যাওয়া অনেকেরই ব্যাগে দেখা যায়, ওআরএস (ORS) লেখা টেট্রা প্যাক। অনেকে বাড়ির ফ্রিজেও রেখে দেন। বাইরে থেকে ঘুরে এসে গলদঘর্ম অবস্থায় লাগান চুমুক। মুহূর্তে যেন শরীর চনমনে হয়ে যায়। বেশিরভাগেরই ধারণা, শরীরে নুন-জলের সমতা রক্ষা হল বোধহয়। কিন্তু, প্রকৃত অর্থেই কি এই ড্রিঙ্কসগুলির সঙ্গে মেডিক্যাল চিকিৎসার কোনও সম্পর্ক আছে? নাকি, এগুলি আর পাঁচটা নরম পানীয়ের সমতুল। অবশেষে, অন্তত দীর্ঘ ৮ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে হায়দরাবাদের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শিবরঞ্জনী সন্তোষ সেই জয় হাসিল করেছেন। ডায়েরিয়া হওয়া শিশুদের এ ধরনের তথাকথিত ওআরএস পানীয় খাইয়েও ডিহাইড্রেশন বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে গবেষণাগারের পরীক্ষা নির্ভর লড়াই শুরু করেছিলেন সন্তোষ।

লাগাতার তাঁর লড়াইয়ের শেষে দেশের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (FSSAI) গ্রাহকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান বজায় না রাখা ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট নামে বিক্রিত যাবতীয় নরম পানীয়কে প্যাকেটে ORS লিখতে নিষেধ করেছে। জ্বলজ্বল করা এই প্যাকেগুলির গায়ে বড় বড় অক্ষরে ওআরএস লেখা থাকে। যা দেখে বিভ্রান্ত হন গ্রাহকরা।

দেশের বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে পানবিড়ির দোকানেও এগুলি বিক্রি হয়। বড় বড় সেলেব্রিটিরা এগুলির বিজ্ঞাপনও করেন। কোম্পানি ও বিজ্ঞাপনদাতাদের দাবি, এগুলি চটজলদি শরীরে জল, নুন-চিনির ঘাটতি দূর করে তরতাজা করে। কিন্তু, আসলে এগুলি চিনি বা শর্করা এক আকর। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশনের জন্য প্রয়োজনের ১০ গুণ বেশি চিনি থাকে এতে।

সম্প্রতি সন্তোষের ৮ বছরের যুদ্ধ শেষে এফএসএসএআই ঐতিহাসিক নির্দেশিকা দিল। এই খুশিতে ইনস্টাগ্রামে ডাঃ শিবরঞ্জনী বলেছেন, আমি ৮ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অবশেষে আমার জিত হয়েছে। আর কোনও চড়া চিনি জাতীয় পানীয়ের গায়ে ওআরএসের তকমা লাগানো যাবে না। এখন থেকে আর একবার পানযোগ্য বলে বিক্রি করাও যাবে না। এই জয় দেশের সমস্ত অভিভাবক, শিশু ও মানুষের জয়। শিবরঞ্জনী দেখেছেন- অধিকাংশ বাণিজ্যিক পানীয়ে প্রতি লিটার জল অনুপাতে ১২০ গ্রাম চিনি থাকে। ইলেকট্রোলাইট যা অত্যাবশ্যক তা খুব কম থাকে। ফলে তা ডায়েরিয়া আক্রান্ত শিশুর পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এদেশে ডায়েরিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি। প্রতি ১০০ শিশুর (পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে) ভিতর ১৩ জনের মৃত্যু হয় ডায়েরিয়ায়। শিবরঞ্জনীর কথায়, অথচ এগুলিতে নির্ধারিত পরিমাণের থেকে ৮-১০ গুণ বেশি চিনি থাকায় শিশুর উন্নতি হওয়ার জায়গায় অবনতি হতে শুরু করে। তাঁর উদ্যোগের পরেই কোম্পানিগুলি আইনের হাত এড়াতে অত্যন্ত ক্ষুদ্র করে কোনও এক কোণায় লিখতে শুরু করে, এটা ডায়েরিয়া রোগীর জন্য উপযুক্ত নয়। সন্তোষ বলেন, এটা এমন জায়গায় এত ছোট করে লেখা হয় যাতে কারও চোখে না পড়ে। আর এদেশের কজনই বা ইংরেজি পড়তে পারেন, প্রশ্ন তাঁর।

তাঁর জিত নিয়ে শিবরঞ্জনী বলেন, এটা আমার একলার জয় নয়। এটা জনস্বাস্থ্যের জয়। তিনি আরও বলেন, বাচ্চারা মিষ্টি খেতে ভালবাসে। তাই কোম্পানিগুলি তাদের তুলে ধরে ফায়দা তুলছে। রিহাইড্রেশন ড্রিঙ্ক বলে তারা সেলেব্রিটিদের দিয়ে বিজ্ঞাপন করাচ্ছে। এমনকী হাসপাতাল, দোকান ও স্কুলে বিক্রি করছে। আর এটাই আমার রাগের কারণ। যে দেশে মোটাত্ব ও ডায়াবেটিস চরম সমস্যার। সেখানে একজন মানুষ কতখানি চিনি এই একটি ট্রেটা প্যাকের মধ্য দিয়ে খাচ্ছেন, কেউ জানেন না। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রকৃত ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা সল্টে কী কী থাকে

Sodium chloride: 2.6 g

Potassium chloride: 1.5 g

Sodium citrate: 2.9 g

Dextrose (anhydrous glucose): 13.5 g

Total osmolarity: 245 mOsm/L


```