৯০-এর দশকে কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বারাসতের ক্লাবগুলো নতুন কনসেপ্ট ও শিল্পকলায় জোর দেয়। 'নতুন পল্লি', 'রেলওয়ে কলোনি', 'ডি.ডি. পার্ক', 'রামকৃষ্ণপল্লি'- এইসব ক্লাবের নাম তখন থেকেই ছড়িয়ে পড়ে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 October 2025 13:40
কালীপুজো এলেই মানুষের ভিড় বাড়ে বারাসতের দিকে। থিমের চমক, রঙ, আলোর রোশনাই- সেজে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার এই অঞ্চলের সব প্যান্ডেল। কিন্তু কীভাবে বারাসতে কালীপুজোর সূচনা হল, এর পিছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস (Barasat Kali Puja History)। উদ্বাস্তুদের হাত দিয়ে শুরু হওয়া বারাসতের পুজো আজ প্রায় জগৎ প্রসিদ্ধ। শতাব্দী প্রাচীন বারাসতের কালীপুজো (Kali Puja 2025) একসময় ছিল স্থানীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ধীরে ধীরে এখানকার থিম, আলোকসজ্জা ও প্রতিমার শৈল্পিক নিপুণতা রাজ্যজুড়ে খ্যাতি পায়।
কথিত আছে, দেশভাগের পর ছিন্নমূল মানুষ দুই পরগনার সীমান্ত এলাকায় চলে আসেন। সেখানেই বসবাস শুরু করেন। তাঁদের হাত ধরেই শুরু হয় দীপান্বিতা কালীপুজো। প্রথম কয়েক বছর ছোটখাটো আয়োজনের মধ্যেই দিয়েই পুজো করা হত। এরপর পাঁচের দশকের শেষে মহাদেব সেন নিজের উদ্যোগে ঘটা করে কালীপুজো শুরু করেন। তাঁর আয়োজিত পুজোর নাম ছিল 'শক্তির আরাধনায় রেজিমেন্ট'। তিনি ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ছিলেন, তাঁকে দেখে অন্যান্যরাও অনুপ্রাণিত হয়ে পুজোর আয়োজন করেন।
৬০-৭০-এর দশক থেকে বারাসতের কালীপুজো (Barasat Kali Puja History) নতুন রূপ নেয়। শহরের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন প্রতিযোগিতামূলকভাবে পুজো করতে শুরু করে। আলোকসজ্জা, থিম, মণ্ডপ- সব ক্ষেত্রেই শুরু হয় নবজাগরণ। সেই সময় থেকেই বারাসত পরিচিত হয় 'থিম পুজো'-র শহর হিসেবে।
৯০-এর দশকে কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বারাসতের ক্লাবগুলো নতুন কনসেপ্ট ও শিল্পকলায় জোর দেয়। 'নতুন পল্লি', 'রেলওয়ে কলোনি', 'ডি.ডি. পার্ক', 'রামকৃষ্ণপল্লি'- এইসব ক্লাবের নাম তখন থেকেই ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিমা তৈরিতে যুক্ত হন বিশিষ্ট শিল্পীরা, আলোকসজ্জায় আসে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, আর দর্শনার্থীর ঢল নামে বারাসতের রাস্তায়।
আজ বারাসতের কালীপুজো শুধু উত্তর ২৪ পরগনা নয়, গোটা রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণ। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এই শহরে আলো, শিল্প ও ভক্তির মিলন দেখতে। প্রতি বছর পুজোর সময় শহরে দর্শনার্থীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও আসে নতুন গতি।
বারাসতে সব মিলিয়ে ২০টিরও বেশি বড় কালীপুজো হয়। দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ প্যান্ডেল ও প্রতিমা দেখতে এখানে আসেন। প্রথমদিকে হয়তো এক-দুটি প্যান্ডেলেই সীমাবদ্ধ ছিল উৎসব।
ধীরে ধীরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলো সঠিক ভাবে পরিকল্পনা ও বাজেট বাড়িয়ে এই উৎসবকে থিম, আলোকসজ্জা, বড় প্রতিমা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে আরও বড় করে তুলেছে।