খবর অনুযায়ী, স্কুবা ডাইভিং করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন জুবিন। এরপর সিঙ্গাপুর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

জঙ্কি বড়ঠাকুর ও জুবিন গর্গ
শেষ আপডেট: 19 September 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) মৃত্যুর খবরে দেশের সঙ্গীতজগতে যেন ভূমিকম্প হয়েছে। সিঙ্গাপুরে (Singapore) ছিলেন তিনি। শনিবার বিকেলে শো করার কথা ছিল জুবিনের। কিন্তু এদিন দুপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে আর ফিরলেন না খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। আর এই ঘটনা যেন অতীতকে ফিরিয়ে এনেছে। জুবিন তাঁর বোনকেও (Sister) হারিয়েছিলেন এক দুর্ঘটনাতেই।
ঘটনা ২০০২ সালের। জুবিনের মতো তাঁর বোন জঙ্কি বড়ঠাকুরও (Jonki Borthakur) ছিলেন এক সঙ্গীতশিল্পী। নানা জায়গায় শো করতে যেতেন তিনি। ১২ জানুয়ারি ছিল এমনই একটা দিন। সহ শিল্পীদের সঙ্গে গাড়ি করে বেরিয়েছিল পারফর্ম করার উদ্দেশে। কিন্তু পথেই ঘটে যায় মারাত্মক ঘটনা। অসমের সোনিতপুরের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনায় (Car Accident) মৃত্যু হয় তাঁর। ঠিক ২৩ বছর পর বোনের মতোই শো করার আগে এক দুর্ঘটনায় চলে গেলেন জুবিন গর্গ।
খবর অনুযায়ী, স্কুবা ডাইভিং করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন জুবিন। এরপর সিঙ্গাপুর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষমেশ কোনও লাভ হয়নি। চিকিৎসারত অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এই আকস্মিক ঘটনার খবরে তার অসংখ্য অনুরাগী এবং ভক্তরা ভেঙে পড়েছেন। জুবিনের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর অসম, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করেছে। তার অসংখ্য অনুরাগী এবং ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তবে জুবিনের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বছর তিনেক আগে জুলাই মাসে মাথায় গুরুতর চোট নিয়ে গুয়াহাটির হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকেই শরীর ভেঙে যায় গায়কের। পাশাপাশি মৃগী ছিল গায়কের। এই শারীরিক অবস্থায় তিনি কী করে স্কুবা ডাইভিং করার অনুমতি বা সুযোগ পেলেন, তাই অনেকের মাথায় আসছে না।
সঙ্গীতপ্রেমী, সহকর্মী থেকে শুরু করে অগণিত ভক্ত, জুবিন গর্গের এই হঠাৎ মৃত্যুতে স্তম্ভিত। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অসম এবং ভারতীয় সঙ্গীতের মঞ্চে তিনি ছিলেন এক অনন্য কণ্ঠস্বর। জুবিনকে বলা হত ‘উত্তর-পূর্বের রকস্টার’!
৪০ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করা হয়েছে তাঁর কণ্ঠে। অহমিয়া, হিন্দি, বাংলা থেকে ইংরেজি, সংখ্যায় এবং বৈচিত্র্যে তিনি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী।
সিনেমায় অভিনয় করেছেন অহমিয়া ও বাংলা দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই। ছবির জন্য সুরও বেঁধেছেন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। মিশন চায়না থেকে শিকার, একের পর এক সিনেমা বানিয়েছেন তিনি। ৩১ অক্টোবর মুক্তির অপেক্ষায় তাঁর নতুন ছবি ‘রই রই বিনালে’।