১৯৮১ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র 'উমরাও জান'। মির্জা হাদি রুশওয়ার-এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি নিয়ে নতুন করে কোনও ব্যাখ্যা বা পুনর্নির্মাণের কোনও প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না পরিচালক মুজাফফর আলী।

'উমরাও জান'
শেষ আপডেট: 17 June 2025 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৮১ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র 'উমরাও জান'। মির্জা হাদি রুশওয়ার-এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি নিয়ে নতুন করে কোনও ব্যাখ্যা বা পুনর্নির্মাণের কোনও প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না পরিচালক মুজাফফর আলী। চলতি মাসের শেষেই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে ৪কে সংস্করণে আবারও মুক্তি পেতে চলেছে। তারই প্রাক্কালে মুজাফফর আলী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— "আমি কখনও এই ছবিটিকে পুনর্নির্মাণ করার কথা ভাবিনি।"
তিনি বলেন, “রেখার মতো প্রতিভা আজ আর দেখা যায় না। উনি ছিলেন কমিটমেন্টের প্রতিমূর্তি। ওঁর মতো করে এখন আর কেউ করতে পারবে না। শুধু রেখা নন, ছবির প্রত্যেক চরিত্র ও পরিবেশই তখন বাস্তব হয়ে উঠেছিল। শাহরিয়ারের লেখা, খৈয়ামের সুর, কুমুদিনী লাকিয়ার নৃত্যরচনার সৌন্দর্য, আশা ভোঁসলের কণ্ঠ, সিনেমাটোগ্রাফি থেকে পোশাক— সবকিছুই বহু স্তরের মাধুর্যে গঠিত।”
মুজাফফর আলী আরও যোগ করেন, “আজ যদি কেউ নতুন কিছু করতে চায়, তবে সেটি যেন সম্পূর্ণ নতুন পথে যায়। সিনেমা শুধু বাজেট দিয়ে তৈরি হয় না— আবেগ, দায়বদ্ধতা, নিষ্ঠা লাগে। আমি সেই আবেগ আর অনুভব করি না। আমি নিজের কাজেই ক্লোজার পেয়ে গিয়েছি। এ ছবি আর পুনরায় বানানো সম্ভব নয়। যাঁরা চেষ্টা করেছেন, তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। আমি কেন সেই পথে যাব? বরং আমি চাই, সেই একই আবেগে নতুন কোনও গল্প বলি।”
'উমরাও জান'-এর এই ৪কে সংস্করণটি ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র সংরক্ষণাগার (NFAI) ও জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (NFDC)-র যৌথ উদ্যোগে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তির দিন, অর্থাৎ ২৭ জুন, প্রকাশ পেতে চলেছে একটি কফি টেবিল বইও। যেখানে থাকবে রেখা ও নাসিরুদ্দিন শাহের অবদানের উল্লেখ সহ চিত্রনাট্য সংক্রান্ত দুর্লভ ছবি ও নথি।
১৯৮০ সালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পরিচালক জানান, “এক বছর ধরে দু’টি ঋতুতে আমরা এই ছবির শ্যুটিং করি। লখনউ, ফৈজাবাদ এবং মুম্বইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে বিশাল সেট বানিয়ে সেখানে পুরোনো দরজা আর আসবাব দিয়ে বাস্তব কোঠার আবহ সৃষ্টি করেছিলাম, যেন আলোর খেলা দিয়ে প্রাণ দেওয়া যায়। ছবির পুনঃমুক্তি যেন জানিয়ে দিচ্ছে— 'উমরাও জান' আজও জীবন্ত।”
এই ছবিকে তিনি বলেন, “আমার অন্তর্জগত, আমার অতীত, আমার লখনউকে ফিরে পাওয়ার এক নস্টালজিক যাত্রা।”
পরিচালকের আগামী প্রকল্প 'জুনি', যার সম্পাদনার কাজ এখন জোরকদমে চলছে। এটি এক প্রজন্মান্তরের গল্প, যেখানে এক পিতা ও পুত্রের অতীত আর বর্তমানের মধ্যকার সংলাপ ধরা পড়বে। পরিচালক জানালেন, “আমার ছেলে শাদ আলি (পরিচালক) প্রথমে প্রকল্পটি বন্ধ করেছিল। তবে এখন সম্পাদনা চলছে। এর বাইরে আমার হাতে আরও কয়েকটি চিত্রনাট্য তৈরি রয়েছে। খুব শিগগিরই শ্যুটিং শুরু করব।”