কিছু জন্মদিন শুধুই কেক আর শুভেচ্ছার নয়—কিছু জন্মদিন ইতিহাস লেখে। কন্নড় সুপারস্টার যশের চল্লিশতম জন্মদিন তেমনই এক মুহূর্ত, ঘোষণা করলেন তাঁর প্রত্যাবর্তনের—ভয়ংকর, নির্দয়, অন্ধকারাচ্ছন্ন।

শেষ আপডেট: 8 January 2026 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু জন্মদিন শুধুই কেক আর শুভেচ্ছার নয়—কিছু জন্মদিন ইতিহাস লেখে। কন্নড় সুপারস্টার যশের (yash) চল্লিশতম জন্মদিন তেমনই এক মুহূর্ত, ঘোষণা করলেন তাঁর প্রত্যাবর্তনের—ভয়ংকর, নির্দয়, অন্ধকারাচ্ছন্ন।
‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড়পর্দায় ফিরছেন যশ, আর সেই ফেরা কোনও সাধারণ নায়কের নয়, বরং এক ভয়াল নায়ক—রায়া। তাঁর আসন্ন ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’-এর টিজার প্রকাশ পেয়েছে এই বিশেষ দিনে, যা মুক্তির মুহূর্ত থেকেই দর্শকের রক্তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
দুই মিনিট একত্রিশ সেকেন্ডের সেই টিজার যেন ধীরে-ধীরে দর্শককে টেনে নিয়ে যায় এক অন্ধকার জগতে। শুরুটা হয় কবরস্থানে—একটি সমাধিস্থলের সামনে দাঁড়িয়ে যাজক শেষকৃত্যের প্রার্থনা করছেন। চারপাশে মৃত্যুর স্তব্ধতা। ঠিক তখনই সেই নীরবতা ভেঙে দেয় এক দল দুষ্কৃতী। আচমকা বোঝা যায়, এই শেষকৃত্য কোনও সাধারণ মানুষের নয়—এ এক গ্যাংস্টারের মৃত সন্তানের সমাধি। শোকের মাঝেও ক্ষমতার প্রদর্শন। গ্যাংয়ের ভিতর প্রশ্ন ওঠে, “সে কি আসবে?” উত্তর আসে, “কেউ এতটা পাগল হতে পারে না।” সেই সংলাপই যেন ভবিষ্যদ্বাণী—কারণ পাগলামিই তো রায়ার পরিচয়।
হঠাৎ করেই কবরস্থানের বন্ধ দরজার সামনে ছুটে আসে একটি গাড়ি, গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। সেখান থেকে নামেন এক মাতাল লোক—অদ্ভুত ভঙ্গিতে সে বোমা বসাতে শুরু করে। গ্যাং সদস্যদের বিভ্রান্তি চরমে। আর ঠিক তখনই, এক অদ্ভুত বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগমন ঘটে রায়ার। পুরো কবরস্থান জুড়ে আগেই পাতা ছিল বিস্ফোরক—একসঙ্গে সব ফেটে পড়ে, আগুন-ধোঁয়ার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকেন যশ। হাতে থম্পসন মেশিনগান, মুখে সিগার, কালো পোশাকে অন্ধকারের প্রতীক হয়ে। ‘লাজার দ্যান লাইফ’ অবতারে। টিজারের শেষে একটিমাত্র বাক্য—“ড্যাডি’স হোম”! যেন ঘোষণা, ভয় ফিরে এসেছে।
এই টিজার শেয়ার করে নিয়ে নির্মাতারা লিখেছেন, “ বুঝে নাও তোমার বিপদ—রায়াকে চেনানো হল।” আর যশ নিজেও জানিয়ে দিয়েছেন, ১৯ মার্চ ২০২৬-এ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই অন্ধকার রূপকথা।
‘টক্সিক’ পরিচালনা করছেন গীতু মোহানদাস। গল্পের পটভূমি নয়ের দশকের গোয়া—যেখানে মাদকচক্র, অপরাধ আর ক্ষমতার দাপটে তৈরি হয়েছে এক নিষ্ঠুর সাম্রাজ্য। ছবিটি মূলত কন্নড় ও ইংরেজিতে নির্মিত হলেও, হিন্দি, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালম ভাষায় ডাব করা সংস্করণেও মুক্তি পাবে। প্রযোজনায় রয়েছেন ভেঙ্কট কে. নারায়ণ ও যশ নিজে—KVN প্রোডাকশন্স এবং মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশন্সের ব্যানারে।
অভিনয় তালিকাও কম চমকপ্রদ নয়। নাদিয়া চরিত্রে কিয়ারা আডবাণী, গঙ্গার ভূমিকায় নয়নতারা, এলিজাবেথ হয়ে হুমা কুরেশি, রেবেকা চরিত্রে তারা সুতারিয়া এবং মেলিসা রূপে রুক্মিণী বসন্ত—পাঁচ নারীর পাঁচ ভিন্ন গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করবে। ইতিমধ্যেই তাঁদের প্রথম লুক প্রকাশ করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন নির্মাতারা।
অ্যাকশন ছবির দাপটে যখন ভারতীয় বক্স অফিস উত্তাল, তখন যশ যেন নিজের জায়গা নিজেই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছেন। টিজার মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস—কেউ লিখেছেন, “মনস্টার ইজ ব্যাক”, কেউ বলছেন, “দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ মাই টেরিটরি”, আবার কারও চোখে আজও তা ‘রকি’র এলাকা। তবে যশ যেন স্পষ্ট করে দিচ্ছেন—এবার রকি নয়, এবার রায়া। আগামী ১৯ মার্চ ২০২৬-এ ‘টক্সিক’ মুক্তি পাবে, একই দিনে প্রেক্ষাগৃহে আসবে রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর ২’।