ক্যামিও করতে চাননি বিজয় সেতুপতি। তবু এক ফোনেই বদলে গেল সিদ্ধান্ত! কার জন্য ‘জেলার ২’-এ ফিরলেন তিনি?

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 16 January 2026 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিল সিনেমার বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাকশন-কমেডি ছবি ‘জেলার ২’ ঘিরে উত্তেজনার পারদ এমনিতেই চড়া। তার মধ্যেই নতুন চমক দিলেন বিজয় সেতুপতি। এই ছবিতে অতিথি শিল্পী অর্থাৎ ক্যামিও হিসেবে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা নিজেই। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই ছবিতে রজনীকান্তের বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তন নিয়ে যখন দর্শকমহলে আলোচনা তুঙ্গে, তখন সেতুপতির সংযোজন আলাদা করে কৌতূহল বাড়াল। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সুপারহিট ছবি ‘জেলার’-এর সিক্যুয়েল হিসেবেই তৈরি হচ্ছে এই সিনেমা।
বিজয় সেতুপতি জানিয়েছেন, ‘জেলার ২’-এ কাজ করা তাঁর নিজের তৈরি কিছু কেরিয়ার-নীতির ব্যতিক্রম। একসময় তিনি ক্যামিও বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এই ছবির ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর একটাই কারণ—রজনীকান্ত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেতুপতি বলেন, “আমি ‘জেলার ২’-এ ক্যামিও করেছি শুধুমাত্র রজনীকান্ত স্যারের জন্য। আমি ওঁকে খুব ভালোবাসি। ওঁর সঙ্গে কাজ করলে শেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এত বছর ধরে যাঁরা ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে রয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু থাকে।”
নিজের চরিত্র নির্বাচন নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেছেন তিনি। সেতুপতির কথায়, এখন তিনি খলনায়কের চরিত্র বাছছেন কেবলমাত্র চিত্রনাট্যের জোরে। “এখন আমি ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করি শুধু সেই স্ক্রিপ্টের জন্য, যা আমাকে সত্যিই উত্তেজিত করে,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, অধিকাংশ খলনায়ক চরিত্রই নায়কের মাহাত্ম্য বাড়ানোর জন্য লেখা হয়, সেখানে অভিনয়ের নতুন চ্যালেঞ্জ থাকে না, আর সেটাই তাঁকে আর আকর্ষণ করে না।
তারকাসমৃদ্ধ ‘জেলার ২’-এর কাস্টও যথেষ্ট শক্তিশালী। এই ছবিতে দেখা যাবে বিদ্যা বালন, মিঠুন চক্রবর্তী, এস জে সূর্য, রম্যা কৃষ্ণন ও যোগী বাবুকে। পাশাপাশি বিশেষ উপস্থিতিতে থাকবেন মোহনলাল, শিবরাজকুমার এবং বিনায়কান। প্রথম ছবির সাফল্যের পর ফের পরিচালক হিসেবে নেলসন দিলীপকুমার এবং মুখ্য ভূমিকায় রজনীকান্ত এই দুই নামই অনুরাগীদের কাছে বাড়তি ভরসা জোগাচ্ছে। সব পরিকল্পনা ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘জেলার ২’।
এই ছবিকে ঘিরে আগ্রহের মধ্যেই বিজয় সেতুপতির ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সম্প্রতি বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। গত বছর জুলাই মাসে রাম্যা মোহন নামে এক তরুণী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এক মহিলাকে বছরের পর বছর নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করেছেন অভিনেতা এবং শেষ পর্যন্ত সেই মহিলার ঠাঁই হয়েছে পুনর্বাসন কেন্দ্রে। যদিও পোস্টটি কিছুক্ষণের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়, ততক্ষণে নেটদুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
প্রথমে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও পরে মুখ খোলেন বিজয় সেতুপতি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর টিম ইতিমধ্যেই সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিনেতার বক্তব্য, “যাঁরা আমাকে একটু হলেও চেনেন, তাঁরা এই অভিযোগ শুনে হাসবেন। আমি নিজেও নিজেকে চিনি। এই ধরনের নোংরা অভিযোগ আমাকে বিচলিত করতে পারবে না। আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা এতে খুব কষ্ট পেয়েছে, তবে আমি ওদের বলেছি এসব উপেক্ষা করতে। ওই মহিলা ইচ্ছে করেই আলোচনায় থাকতে চাইছেন। ওঁকে দু’মিনিটের খ্যাতি উপভোগ করতে দিন।”
সব মিলিয়ে, বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ‘জেলার ২’-এ বিজয় সেতুপতির ক্যামিওর খবর ফের তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে এনে ফেলেছে। রজনীকান্তকে ঘিরে তৈরি এই ছবিতে তাঁর উপস্থিতি যে দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।