পাপারাজ্জিদের সঙ্গে সঞ্জয় দত্তের অদ্ভুত বন্ধুত্ব, ‘জোর করে’ মদ খাওয়ানোর নেপথ্য গল্প ও এক মানবিক মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করলেন বরিন্দর চাওলা।

সঞ্জয় দত্ত
শেষ আপডেট: 4 January 2026 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ের দশক থেকে বলিউডের অন্দরের ছবি যিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তিনি আজ ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম পরিচিত পাপারাজ্জি বরিন্দর চাওলা। দীর্ঘ কেরিয়ারে অগণিত তারকার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি এক কথোপকথনে বরিন্দর ভাগ করে নিলেন সঞ্জয় দত্তকে ঘিরে কিছু অজানা স্মৃতি। সেই গল্পে যেমন ধরা পড়েছে ‘বাবা’-র দাপুটে ব্যক্তিত্ব, তেমনই উঠে এসেছে এক কঠিন সময়ে তাঁর মানবিক মুখ।
বরিন্দরের কথায়, শুটিং চলাকালীন পাপারাজ্জিদের সঙ্গে সঞ্জয় দত্তের সম্পর্ক ছিল একেবারেই ঘরোয়া। অনেক সময়ই শুটের ফাঁকে নিজে থেকেই তাঁদের ডাকতেন অভিনেতা। “হঠাৎ বলতেন, ‘অ্যাই, এদিকে আয়… তুই কি মদ খাস?’ আমরা বলতাম, এখন তো কাজ করছি, তাই এসব নয়। কিন্তু উনি জোর করতেন, ‘আমার মনে হচ্ছে তোর খেতে ইচ্ছে করছে।’ তখন বাকিরাও হেসে সায় দিত,” স্মৃতিচারণে বলেন বরিন্দর। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে তাঁর সঙ্গেই বসতে হত, এমনটাই জানান তিনি।
বরিন্দরের দাবি, সঞ্জয় দত্তের ব্যক্তিত্বের এমন এক আকর্ষণ ছিল, যে যাঁরা আদতে মদ্যপান করতেন না, তাঁরাও শেষ পর্যন্ত ‘বাবা’-র সঙ্গে গ্লাস তুলতেন। “ওঁর বাড়ির বাইরেও অনেক সময় আমরা একসঙ্গে বসে খেয়েছি,” বলেন তিনি।
তবে সঞ্জয় দত্ত মানেই শুধু দাপুটে উপস্থিতি নয়। বরিন্দরের জীবনে এমন একটি মুহূর্তও রয়েছে, যেখানে অভিনেতাকে তিনি আজও মনে করেন নিজের ‘ত্রাতা’ হিসেবে। পেশাগত জীবনের শুরুর দিকে বরিন্দর একটি সেকেন্ড-হ্যান্ড মারুতি জেন কিনেছিলেন। একদিন ফিল্মিস্তানে সঞ্জয় দত্তের শুট কভার করে বেরোনোর সময় অসাবধানতাবশত তাঁর গাড়ি গিয়ে ধাক্কা মারে অভিনেতার ভ্যানিটি ভ্যানে।
“ওঁর লোকজন সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ঘিরে ধরে ক্ষতিপূরণের কথা বলতে শুরু করে। যে অঙ্কের কথা বলা হচ্ছিল, তা আমার গাড়ির দামের কাছাকাছিও নয়। আমি তখন নিশ্চিত ছিলাম, মার খাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা,” বলেন বরিন্দর। ঠিক সেই সময় নীচে নেমে আসেন সঞ্জয় দত্ত। পুরো ঘটনা শুনে তিনি শুধু একটাই কথা বলেন—“ওকে যেতে দাও।”
বরিন্দরের কথায়, “সেই মুহূর্তে উনি আমার কাছে একেবারে মসিহা হয়ে উঠেছিলেন। মানুষ হিসেবে উনি বরাবরই খুব ঠান্ডা। একদম চিল থাকেন।”
এদিকে কেরিয়ারের দিক থেকেও সঞ্জয় দত্তের সময়টা এখন দারুণ। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে কার্যত ঝড় তুলেছে। বিশাল ক্যানভাস আর টানটান গল্পের জোরে ছবিটি বিশ্বজুড়ে ১,১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করেছে। বর্তমানে এটি বলিউডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি, প্রথম স্থানে রয়েছে আমির খানের ‘দঙ্গল’।
যদিও ‘ধুরন্ধর’-এ সঞ্জয় দত্তের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের খবর, সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর ২’-এ তাঁর চরিত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ১৯ মার্চ, ২০২৬-এ। সেদিনই বক্স অফিসে মুখোমুখি সংঘর্ষ হবে যশের বহুচর্চিত ছবি ‘টক্সিক’-এর সঙ্গে।