১৯৮৮ সালের ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ আজও ‘জেন জি’-র কাছে জনপ্রিয়।
_0.jpeg.webp)
‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’
শেষ আপডেট: 13 November 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাসির হুসেনের পরিচালিত 'কেয়ামত সে কেয়ামত তক' (Qayamat Se Qayamat Tak) ছবিটি শুধু একটি ব্লকবাস্টার হিট ছিল না, এটি আমির খান এবং জুহি চাওলা নামের দু'টি নতুন তারকাকে বিরাট জনপ্রিয় করেছিল। ১৯৮৮ সালে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর বলিউডের রোম্যান্টিক সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন ঘরানা এনে দিয়েছিল। আমির এবং জুহির এই ডেবিউ ছবিটি সেই সময়ের প্রেম, বিদ্রোহর এক নিখুঁত সমন্বয়। জুহি চাওলার ৫৮তম জন্মদিনে এসেও 'জেন জি' (Gen Z) প্রজন্মের কাছে ছবিটি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু কেন? এত বছর পরেও সেই পুরনো প্রেমের কাহিনি কেন আজও প্রাসঙ্গিক?
এই প্রজন্ম একবিংশ শতাব্দীতে থেকেও মুগ্ধ হয়েছে সেই পুরনো ছবিতে। কারণ, ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর প্রেম ছিল সরল। আজকের ছবির মতো অতিরিক্ত নাটকীয় বা ‘ক্রিঞ্জ’ নয়। তাই সেই কোমল, সাবলীল ভালবাসার গল্প আজও তরুণ দর্শকদের মনে দাগ কাটে।
ছবির শুরুতেই প্রতিশোধের আগুন এবং একটি খুনের দৃশ্য 'মির্জাপুর' (Mirzapur)-এর মতো সাম্প্রতিক সিরিজের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই সংঘাতই রাজ (আমির খান) এবং রশ্মির (জুহি চাওলা) প্রেমের জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। সে সময়ের 'ড্যাড জোকস' বা লঘু হাসির চল এখনকার অশ্লীল কমেডির তুলনায় আলাদা, যা দর্শককে একইসঙ্গে হাসিয়েছে এবং কিছুটা কৌতুক অনুভূতি দিয়েছে।
১৯৮৮ সালে রাজ-রশ্মির মতো করে প্রেম-বিদ্রোহের জন্য প্রাণ দেওয়া কিংবা ২০১২ সালের 'ইশকজাদে' (Ishaqzaade) বা ২০১৩ সালের 'গোলিওঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা' (Goliyon Ki Raasleela Ram-Leela)-র মতো ছবিতেও একই পরিণতি দেখা যায়। এর থেকে বোঝা যায় যে, রোম্যান্টিক ট্র্যাজেডির এই নির্যাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টায়নি।
১৯৮৮ সালে সিনেমায় বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্তান দেখানো ছিল এক সাহসী পদক্ষেপ। সেই সময়ের জন্য এটা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত, যা ছবির প্রগতিশীল ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
আমির খান ও জুহি চাওলার জন্য ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছিল একটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। ছবির সুন্দর গল্প, অভিনয় আর গভীর চিত্রনাট্য তাঁদের প্রথম ছবিতেই বড় সফলতা এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ শুধু একটা ক্লাসিক ছবি নয়, এটি প্রেমের সেই চিরন্তন গল্প, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে এবং ভালবাসায় ছুঁয়ে গেছে।