সিনেমার পর্দার আড়ালে যত আলো, ততই গভীর তার অন্ধকার। আর এই আলো-অন্ধকারের মাঝেই কখনও কখনও জন্ম নেয় প্রেম, আবার কখনও নিছক একঘেয়েমিই তৈরি করে গল্প।

অনন্যা-ফারাহ।
শেষ আপডেট: 6 November 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিনেমার পর্দার আড়ালে যত আলো, ততই গভীর তার অন্ধকার। আর এই আলো-অন্ধকারের মাঝেই কখনও কখনও জন্ম নেয় প্রেম, আবার কখনও নিছক একঘেয়েমিই তৈরি করে গল্প। ফারাহ খান ঠিক সেটাই মনে করিয়ে দিলেন, টুইঙ্কল খান্না ও কাজলের জনপ্রিয় শো ‘টু মাচ উইথ কাজল অ্যান্ড টুইঙ্কল’-এর সাম্প্রতিক পর্বে।
হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই একসময় ফারাহ এমন এক মন্তব্য করলেন, যা শুনে উপস্থিত সবাই হেসে গড়িয়ে পড়লেন। নিজের জীবনের একটি পুরনো অধ্যায়ে ফিরে গিয়ে ফারাহ জানালেন, কেন তিনি মনে করেন অভিনেতারা প্রায়ই সেটে প্রেমে পড়ে যান।
২০১২ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘শিরিন ফারহাদ কি তো নিকল পড়ি’, যেখানে বোমান ইরানির বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ফারাহ খান নিজেই। সে ছবির স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে ফারাহর গলায় মিশে গেল নস্টালজিয়া ও রসিকতার সুর। বললেন, “আসলে আমি জানিই না কেন অভিনয় করেছিলাম! এমনিই বসে ছিলাম, ফাঁকা সময় চলছিল, কিছু করার ছিল না। হঠাৎ বোমান ফোন করল, তারপর সঞ্জয় লীলা বনসালি নিজে আমার বাড়ি এসে বললেন, ‘আমি প্রতিদিন সেটে থাকব।, ঠিক আছে, করি না হয়।”
তারপরই যেন হাসতে হাসতেই একটা তীক্ষ্ণ সত্যি ছুড়ে দিলেন ফারাহ। “আমি একদিন অভিনেত্রী হয়ে বুঝলাম, এই কাজ আমার নয়। সারাক্ষণ বসে থাকতে হয়, অপেক্ষা করতে হয়। আমি বোমানকে বলেছিলাম, ‘এখন বুঝছি, অভিনেতাদের সেটে প্রেম হয় কেন — নিছক একঘেয়েমি থেকে!’”
সেই মুহূর্তে শো-এর পরিবেশে নেমে এল এক আনন্দঘন ঢেউ। কথার ফাঁকে হাসি, রসিকতা, আর একটু একটু করে বেড়ে চলল পর্দার পেছনের জীবনের খোলামেলা স্বীকারোক্তি।
এই পর্বে উপস্থিত ছিলেন অনন্যা পাণ্ডেও। এক পর্যায়ে শুরু হল ‘Agree or Disagree’ খেলা। প্রশ্ন উঠল — “বয়স্ক মানুষরা কি তরুণদের তুলনায় প্রেমের সম্পর্ক গোপন রাখতে বেশি পারদর্শী?” টুইঙ্কল খান্না হেসে বললেন, “অবশ্যই! আমাদের অনেক বছরের অভিজ্ঞতা আছে।”
কিন্তু কাজল তাতে একমত নন। তাঁর যুক্তি, “আমি মনে করি, এখনকার তরুণরাই সবকিছু বেশি লুকোতে পারে — তাদের জীবন, তাদের সম্পর্ক।” অনন্যা সঙ্গে সঙ্গে যোগ করলেন, “এখন তো সবই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেরিয়ে পড়ে!”
এই কথোপকথনের মধ্যেই ফারাহর মন্তব্য — “আজকের প্রজন্ম তো প্রেমে পড়ুক বা না পড়ুক, সব কিছুই পোস্ট করে ফেলে।”
শোয়ের হালকা হাস্যরসের এই আবহে উঠে এল আরও এক বিতর্কিত প্রসঙ্গ, আগের পর্বের স্মৃতি টেনে। সেই পর্বে ছিলেন জানভি কাপুর ও করণ জোহর, আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল — ‘শারীরিক প্রতারণা কি সম্পর্ক ভাঙার কারণ হওয়া উচিত?’
করণ প্রথমেই বলেছিলেন, “শুধু শারীরিক সম্পর্ক কোনও ডিল ব্রেকার নয়।” জানভি তখন সরাসরি পাল্টা উত্তর দিয়েছিলেন, “না, সম্পর্ক তাহলে শেষ।” কিন্তু টুইঙ্কল খান্না সেই বক্তব্যে এক রসিক বাস্তবতার ছোঁয়া দিলেন — “আমরা এখন পঞ্চাশের কোঠায়, আর ও এখন কুড়ির। সে এখনও জানে না জীবন কী দেখাতে পারে। রাত্রি কেটে গেলে কথা কেটে যায় — ‘রাত গয়ি, বাত গয়ি।’”
পুরো আলোচনায় যেমন ছিল খুনসুটি, তেমনই ফুটে উঠল এক প্রজন্মের পার্থক্য — জীবন দেখার দৃষ্টিতে, ভালোবাসার মানে বোঝার ভাষায়।
শেষমেশ, ফারাহ খানের সেই একটিমাত্র মন্তব্য যেন পুরো আলোচনাকে এক অদ্ভুত গভীরতায় পৌঁছে দিল। সিনেমার দুনিয়ায় যেখানে প্রতিদিন নতুন গল্প লেখা হয়, সেখানে মানুষ, অনুভূতি আর একঘেয়েমির ফাঁকে যে অদ্ভুত সম্পর্কগুলো জন্ম নেয়, সেগুলিই হয়তো সবচেয়ে বাস্তব।