বিয়ের পর সংসারে বাঁধা পড়লেন জুন। যে মেয়ে নাচে মন দিয়েছিল, যে স্বপ্ন দেখেছিল মঞ্চে ওঠার—তার জীবন পাল্টে গেল হঠাৎ করেই। গাড়ি চালানোর শখে ব্যঙ্গ, নাচ শেখার ইচ্ছেয় আপত্তি, অভিনয়ে আগ্রহ দেখালেই স্বামীর মন্তব্য—“কিছুই করতে পারবে না, ফিরে আসবে।” চেপে বসল সংসারের ভার।

জুন মালিয়া
শেষ আপডেট: 14 September 2025 20:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়টা নয়ের দশকের শেষ দিক। টালিগঞ্জে তখন নায়িকার সংজ্ঞা মানেই ঘোমটা টানা, কপালে বড় লাল টিপ, সংসারী বউ বা পরিপাটি ভালো মেয়ে। এমন এক সময়েই পর্দায় হাজির হলেন এক তরুণী—ছিপছিপে গড়ন, তীক্ষ্ণ চোখ, শরীরী উপস্থিতিতে অন্যরকম ঝড় তুললেন তিনি। নাম জুন, পদবী দুবে। তবে বাংলা তাঁকে চিনেছে জুন মালিয়া নামেই।
এলাহাবাদের শিকড়, মা বাঙালি। কলকাতার নামী স্কুলে পড়াশোনা, ঘর ছিল রক্ষণশীল। শৈশব-কৈশোরের রূপকথায় একসময় জুড়ে গেলেন সঞ্জীব মালিয়া। দেহরাদুনে পিসির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পরিচয়। প্রথমে পাত্তাই দেননি সঞ্জীব। সালটা ওই ৮৬। কিন্তু দু’বছর পর আবার দেখা। তখন কলেজ পড়ুয়া জুন, শিশুসুলভ চেহারা ঝেড়ে সবে বড় হয়ে ওঠা প্রাণোচ্ছল যুবতী। এক পাবে আচমকা দেখা হওয়ার পর শুরু হল প্রেম, তারপর বিয়ে। অল্পদিনের মধ্যেই মা-ও হলেন তিনি।
বিয়ের পর সংসারে বাঁধা পড়লেন জুন। যে মেয়ে নাচে মন দিয়েছিল, যে স্বপ্ন দেখেছিল মঞ্চে ওঠার—তার জীবন পাল্টে গেল হঠাৎ করেই। গাড়ি চালানোর শখে ব্যঙ্গ, নাচ শেখার ইচ্ছেয় আপত্তি, অভিনয়ে আগ্রহ দেখালেই স্বামীর মন্তব্য—“কিছুই করতে পারবে না, ফিরে আসবে।” চেপে বসল সংসারের ভার। একসময় জুন নিজেই বুঝলেন, ছ’টি বছর কেটে গেল কেবল অন্যকে খুশি করতে গিয়ে। নিজের জন্য কিছুই করা হয়নি।

অবশেষে সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন। সংসারের বাঁধন ছেড়ে বেরিয়ে এলেন তিনি। সেই সময়, একা একলা মেয়ের লড়াই সহজ ছিল না। তবু হার মানলেন না জুন। বাকি লড়াইটা সকলেরই জানা। নয়ের দশকের সেই বিদ্রোহী পদক্ষেপই এর পর আর পিছনে ফিরতে দেয়নি তাঁকে। দুই ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়েই শুরু হল লড়াই।
সালটা ২০১৯। এক নভেম্বরের সন্ধেতে ছেলে-মেয়েকে সাক্ষী রেখেই ফের নতুন ভাবে জীবন শুরু করেন জুন। স্বামী সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যদিও বিনোদন দুনিয়ার যোগাযোগ ছিল না। তবু চুপিসারে ১৪ বছর সম্পর্কের পর ছিমছাম ভাবেই বিয়ে করেন ওঁরা। দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত এবং নেলী সেনগুপ্তের প্রপৌত্র সৌরভ। এই মুহূর্তে সন্তান-সংসারের দায়িত্ব ছাড়াও রাজনীতির অংশ জুন। মেদিনীপুরের সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন জোর কদমে।