সালটা ১৯৮৭। সদ্য ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছেন শতাব্দী। তখন ‘প্রতিভা’ ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন রঞ্জিত মল্লিক, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় এবং অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন সময় খবর এল, কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদার তাঁর নতুন ছবি ‘পথভোলা’-য় নিতে চাইছেন শতাব্দীকে।
.png.webp)
কী ঘটেছিল শতাব্দী রায়ের সঙ্গে?
শেষ আপডেট: 14 September 2025 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রংচঙে দুনিয়ার আড়ালে কত রাজনীতি লুকিয়ে থাকে, তা নতুন করে বলার নয়। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর কেরিয়ার গড়ে উঠেছে সেই অন্দরের সমীকরণে, আবার অনেকেরই কেরিয়ার ভেঙেও গিয়েছে একই কারণে। সম্প্রতি সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাই মনে করলেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ শতাব্দী রায়। সম্প্রতি তিনি নিজেই স্পষ্ট ভাষায় জানান, অভিনয়জীবনের শুরুতেই কীভাবে তাঁকে চরম ধাক্কা খেতে হয়েছিল।
সালটা ১৯৮৭। সদ্য ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছেন শতাব্দী। তখন ‘প্রতিভা’ ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন রঞ্জিত মল্লিক, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় এবং অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন সময় খবর এল, কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদার তাঁর নতুন ছবি ‘পথভোলা’-য় নিতে চাইছেন শতাব্দীকে। জীবনের প্রথম দিকেই এত বড় সুযোগ—উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন অভিনেত্রী। ভেবেছিলেন, ছবির তারিখ মেলানো গেলে দুটো কাজই করতে পারবেন। তাই ‘প্রতিভা’র পরিচালকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন শুটিং শিডিউল যাতে সেইভাবে ফেলা হয়।
![]()
কিন্তু হল উল্টো। শতাব্দীর দাবি, পরিচালক সটান বলে দেন, “আমাদের আউটডোর শুটিং আছে শিলঙে। আমরা ছাড়তে পারব না। তুমি তনুদার ছবি ছেড়ে দাও।” নতুন হওয়ায় কিছু বুঝে উঠতে পারেননি শতাব্দী। প্রথম ছবির প্রতি দায়বদ্ধতাই তাঁকে বেঁধে ফেলেছিল। তাই শেষ পর্যন্ত তরুণ মজুমদারের ডাকেও সাড়া দেননি, বা বলা ভাল ইচ্ছে থাকলেও দিতে পারেননি।
কিন্তু বিস্ময় অপেক্ষা করছিল শিলঙেই। ঠিক সময়ে ইউনিট রওনা হল আউটডোরে। শতাব্দীকে বাদ দিয়েই। অভিনেত্রী হতবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, “আমি যাচ্ছি না কেন?” তখনই তাঁকে জানানো হয়, তাঁর অংশের শুটিং আগেই কলকাতায় শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে শিলঙে তাঁর প্রয়োজন নেই।

অভিমান আর ক্ষোভ একসঙ্গে চেপে বসে তরুণ অভিনেত্রীর মনে। নিজের ভাষায় শতাব্দীর আক্ষেপ, “সে দিন বাড়িতে বসেই কেটে গিয়েছিল দিন। না হল ‘প্রতিভা’র শুটিং, না হল তনুদার ছবি।” তখনই তিনি বুঝেছিলেন, শিল্পীর সংগ্রাম শুধু অর্থকষ্ট বা চরিত্রের অভাবে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে সুযোগ আটকানোই হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে বড় বাধা।
তবে এই কষ্ট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরের সময়ে তরুণ মজুমদারের একাধিক ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি। ‘পথ ও প্রাসাদ’ সহ বেশ কয়েকটি ছবি দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়। সাফল্য মেলে। কিন্তু প্রথম দিককার সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে মনে করিয়ে দেয়, ইন্ডাস্ট্রির ‘অন্দরের রাজনীতি’ কতটা নির্মম হতে পারে।